ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

 

দূর থেকে সবকিছুই সবুজ মনে হয় – এমন একটি কথা প্রচলিত আছে। দেশে বসে আমেরিকাকেও অনেকটা তেমনই মনে হয়। হলিউডের সিনেমা দেখে ভাবি পুরো আমেরিকাই বুঝি নিউ ইয়র্ক সিটি বা লস এনজেলেস অথবা স্যান ফ্র্যানসিস্কো। আমেরিকাতে পড়তে এসে ভুল ভাঙলো। আমেরিকার বেশিরভাগটা জুড়েই তেমন বসতি নেই, আকাশচুম্বি ভবনে ঢাকা শহরের চাইতে ছোট বা মাঝারি আকারের শহরই বেশি – গ্রামেরও অভাব নেই। অনেক কিছু তুলনা করলে অবশ্য মিনেসোটার সেন্ট ক্লাউড কে অনেকেই জমজমাট আমেরিকান শহর বলবেন।

কিন্তু সেন্ট ক্লাউডে এসেও বড়সড় ধাক্কা খেলাম। জনসংখ্যা দু’লাখেরও কম। বেশ শুনশান একটি শহর। বিশেষ করে এ্যাপার্টমেন্ট থেকে মাঝে মাঝে চলন্ত গাড়ির ছাড়া আর তেমন কিছুর শব্দই কানে আসতো না। ঢাকাতে জন্ম – সারাদিন হকারের চিৎকার, রিকশার টুংটাং আর গাড়ির হর্ন শুনেই বেড়ে উঠেছি। সেন্ট ক্লাউডে গিয়ে ধাক্কা না খেলেই বরং অস্বাভাবিক একটা ব্যপার ঘটে যেত। প্রায় তিন বছর ছিলাম সেখানে। শেষের দিকে প্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম কিন্তু তারপরও মনে হত ‘একটু কোলাহলমুখর শহরে যদি থাকতে পেতাম…।’

সৃষ্টিকর্তা হয়তো আকুলিবিকুলি শুনেছিলেন আমার। বরের নতুন চাকরি হলো মিনিয়াপলিসের কাছে। গত মাসে মিনেসোটার সবচেয়ে বড় এই শহরে বাসা নিয়ে নতুন ঠিকানা গড়লাম আমরা। এখন বাইরে তাকালে সুউচ্চ ভবন দেখি, রাস্তায় বেরোলেই চোখে পড়ে হেঁটে চলা মানুষ, গাড়ি এবং বাসের সারি – হাতের নাগালেই দোকানপাট, হেঁটে বা ট্রেনে-বাসে চড়ে চলে যেতে পারি গন্তব্যে…।

বড় শহরে থাকবার মজা অনেক বছর পর উপভোগ করছি বলতে পারেন।