ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

ছোট একটি অংক। দুইয়ে দুইয়ে কত? অবচেতন মনের সহজ সমাধান হলো ৪। ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৯০ জনই এই উত্তর দিবে। অবচেতন মনের নীরিহ ভুলকে ধরতে পারা এত সহজ নয়। উত্তর কিন্তু ৪ নয়। কারন যোগ বিয়োগ কোন কিছুই করতে বলা হয়নি। জীবন চলার পথে আমরা প্রতিনিয়তই নানাবিধ সমস্যার বেড়াজালে আবর্তিত হই। আমাদের অবচেতন মন সকল সমস্যারই একটি তাৎক্ষনিক সমাধান উপস্থাপন করে। বুদ্ধিমান মানুষেরা অবচেতন মনের এই তাৎক্ষনিক সমাধানের দিকে ধাবিত হন না। সচেতন মন থেকে আসা চিন্তাযুক্ত সমাধানকেই তাঁরা প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। তাই জ্ঞানীদের ভুল কম হয়। এই দুনিয়ায় অনেক কিছুই আমাদের অজানা। জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার অনুভূতিই মানুষকে আরো জ্ঞানী ও বিনয়ী হতে সাহায্য করে। তিনটি পথ ধরে মানুষের জ্ঞান অথবা অজ্ঞতা মাঝে মাঝে ঝিলিক দিয়ে প্রকাশিত হয়– কথায়‚ কাজে ও কলমে।

ডেসটিনি বিষয়ে মিডিয়া–ডামাডোলের কারণেই ব্লগে আমার আগমন। যেহেতু ডেসটিনি বিষয়ে আমার কিছুটা অভিজ্ঞতা রয়েছে তাই সকল ভাইবোনদের সাথে মাঝে মাঝে শেয়ার করি। ডেসটিনি সংক্রান্ত কোন ভুল ধারনা আমার মাঝেও থাকতে পারে, কিনতু নিজের ভুল আমি ধরতে পারি না দুটি কারনে–
একটি হলো- ডেসটিনি বিষয়ে মিডিয়ার প্রচারণা, যা প্রমান ও লজিকবীহিনভাবে আমাদের নিকট উপস্থাপিত হচেছ এবং আমাদেরকে বিশসাস করাতে চাইছে।
অপর কারনটি হলো- আমি অংকে কখনও দুবর্ল ছিলাম না।

সারা দুনিয়ার মানুষ যদি বলে 2+2=5‚ আপনি একা যদি এর বিপক্ষে দাঁড়ান– তবুও আপনিই সঠিক। একইভাবে প্রমান ও লজিকবীহিন অপবাদ কারো পক্ষে মেনে নেয়া কষ্টদায়ক।

সন্দেহ নেই যে আমরা উপার্জনের তাগিদেই নানাবিধ পেশায় জড়িত হই। নিয়োগকর্তার মন রক্ষা করেই বেশীরভাগ চাকুরীজীবিদের চলতে হয়। সাংবাদিক ভাইয়েরাও এর ব্যতিক্রম নয়। আমার ধারনা ধীরে ধীরে বদ্ধমূল হয়েছে যে কতিপয় মিডিয়া মালিক তাদের ব্যক্তিস্বার্থে চাকুরীজীবি সাংবাদিক ভাইদের ব্যবহার করছেন। আমার ধারনা আমার নিকট সত্য হিসেবে প্রসফুটিত‚ কিনতু আপনার নিকট তা যথার্থ মনে নাও হতে পারে। আসুন‚ ডেসটিনিকে মাইক্রোস্কোপের নীচে রাখিঃ

(১) ডেসটিনি যে ক্যালকুলেশনটি ফলো করে তা দুনিয়ার আর কোথাও নেই ( 50-50 Balance Binary Matrix System)। ইন্টারনেটে আপনি এই ক্যালকুলেশনের উপর কোন মতামত পাবেন না। এটা ইউনিক, ডেসটিনির প্রতিষ্ঠাতা জনাব রফিকুল আমিন কর্তৃক উদভাবিত। যেহেতু ক্যালকুলেশনটি অংক নির্ভর‚ তাই এর উপর মতামত দিতে হলে কোথায় ভুল আছে তা ধরিয়ে দিতে হবে। মিডিয়া ভাইয়েরা অংকটির ভুল ধরতে পারছেন না, কিনতু বলেই যাচেছন এতে সদস্যরা প্রতারিত হচেছ। সুতরাং অপবাদটিকে বস্তুনিষ্ঠ হিসেবে মেনে নেয়ার সুযোগ নেই। অর্থনীতি ও মার্কেটিং–এর বিজ্ঞ ব্যক্তিগন মিডিয়া–ডামাডোলের শুরুতে অনেক টকশো করেছেন। এখন আর করেন না। সতর্ক হয়ে গেছেন বোধ হয়। তাঁরা কেউই অংকটি নিয়ে আলোচনা করেননি। ডেসটিনির বয়স ১২ বছর চলছে। অংকটিতে ভুল থাকলে ৪৫ লক্ষ সদস্যের মধ্যে এতদিনে লক্ষাধিক সদস্য অবশ্যই প্রতারিত হতেন। তারা মিছিল মিটিং করতেন‚ সংবাদ সমমেলন করতেন। মিডিয়াগুলো তাদের খোঁজে ঘুরতে হতো না‚ তারাই মিডিয়ার নিকট ছুটে আসতেন।

(২) দুদক–এর শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান টিভিতে বলেছেন– ডেসটিনির বিরুদ্ধে কেউ দুদক–এর নিকট অভিযোগ করেনি। মিডিয়ার লিখালিখির কারনেই দুদক তদন্তে নেমেছে।

(৩) সমবায় মন্ত্রনালয় বানিজ্য মন্ত্রনালয়কে জানিয়েছে– ডেসটিনি সমবায় মন্ত্রনালয়ের নীতিমালা অনুসরন করছে।

(৪) ডেসটিনি ২০০৬ সালে সরকারের নিকট নীতিমালার জন্য সর্বপ্রথম আবেদন করেছে। কারন ডেসটিনি বুঝতে পেরেছিল সকল কোম্পানী সততার সাথে ব্যবসা নাও করতে পারে।

(৫) মিডিয়া বলেছিল ডেসটিনির এমডি দেশের বাহিরে চলে গেছেন। ৫ জন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। কোনটিই সত্য তথ্য নয়।

(৬) ষ্টোর রুমের তালা ঝুলানো দরজার ছবি ছেঁপে মিডিয়া জানিয়েছিল– ডেসটিনি অফিসে তালা ঝুলছে। বাস্তবে কোন অফিসই বনধ হয়নি। বানোয়াট প্রচারণা।

(৭) সদস্যদের মধ্যে একটা ভীতি সঞ্চারের আপ্রান চেষ্টা করা হয়েছিল মিডিয়ার মাধ্যমে। সদস্যরা ভীত হয়নি। পক্ষান্তরে তারাই সরব হয়েছেন যারা ডেসটিনির সদস্য নন এবং ব্যবসা পদ্ধতিটি জানেন না।

(৮) ডেসটিনির ব্যবসা পদ্ধতিটি ১০০% ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন করে।

মিডিয়াগুলো একটি বিষয়ে অত্যন্ত সফল হয়েছে। ডেসটিনি নামটি তারা ঘরে ঘরে পৌছে দিয়েছে। এখন ডেসটিনি যদি নিস্কন্টক প্রমানিত হয় তবে ডেসটিনির অগ্রযাএা রুখবে কে !!

সকলের জন্য শুভ কামনা।