ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

আমার ছোট বাচ্চা-টা সব ভাষা বুঝে, যে ভাষাতেই কথা বলি না কেন শুধু হাসে আর গরগর করে , তার বয়স তিন মাস। আমার মিডিয়া ভাইয়েরাও সব বুঝেন, মাঝে মাঝে একটু আধটু গরগর করে ফেলেন এই আর কী!!

কোন বিষয়ে জ্ঞানহীন প্রসব হাস্যকর। ডেসটিনি নিয়ে আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই। কোনও একটি প্রতিষ্ঠান যখন তার সদস্যদেরকে প্রতারণা করে তখন সদস্যরাই হৈ চৈ করেন, মামলা মোকদ্দমা করেন, সাংবাদিক সম্মেলন করেন, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ইত্যাদি। ডেসটিনির ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টোটা। সদস্যদের খবর নেই কিন্তু মিডিয়ার আগ্রহ নজর কাড়া। কিছু কারণ অবশ্যই আছে কোথাও, হতে পারে কারো সার্থের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে মিডিয়া।

নিউজ পেপারে একজন সিনিয়র রিপোর্টারের রিপোর্টের স্যাম্পল দেখুন :

“অমুক জিলায় একজন ব্যক্তি আমানতের টাকা ফেরত না পাওয়ার আশংকায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ।”
জানিবার খূবই আগ্রহ হয়- ওই রিপোর্টার সাহেব কী ডাক্তার? মৃতের পোস্টমর্টেম কে করল? মারা যাওয়ার আগে উনি রিপোর্টারকে কি কি বলে গেছেন? মৃতের মনের কথা উনি কিভাবে জানলেন?
কে, কেন, কখন, কিভাবে, কোথায়- এই 5টি প্রশ্নের উত্তর যখন কোনও রেপোর্টের সাথে নির্ভেজাল সন্নিবেশিত হয়, ওই রিপোর্টটি অবসসই সকলের নিকট সমাদৃত হয়। রিপোর্টারের মতামত জনগণ জানতে আগ্রহী নয়, শুধু রিপোর্টটি জানতে আগ্রহী।

মিডিয়াতে যারা তুফান তুলছেন, আমি নিশ্চিত তারা কেউই ডেসটিনির বেবসা পদ্ধতিটি বুঝেন না। অন্যকে তো বুঝাতে পারবেনই না। নিজেই নিজেকে জিজ্ঞাস করুন। আমি যদি আপনার নিকট বেবসা পদ্ধতিটি বুঝতে চাই- বুঝাতে পারবেন? যদি না পারেন তবে কিসের বিনিময়ে এই বিরোধিতা? কালো বিড়াল আজীবন গোপন থাকতে পারে না।

ইংফেক্টেড মিডিয়া পিপল সহ সাধারণ পাঠকের জন্য আমি কিছু চিন্তার সুত্র দিলাম:

(১) একটি জিনিসকে কেউ যদি ভাল বলেন তাহলে তার জানা থাকা উচিত “জিনিসটি কেন ভাল”। তদ্রূপ, একটি জিনিসকে কেউ যদি খারাপ বলেন তাহলে তার জানা থাকা উচিত “জিনিসটি কেন খারাপ”। কারণসমূহ না জেনে কাট-পেস্ট ডায়ালগ মারলে হজমের প্রবলেম হয়। নিজের তো হয়ই, জীবাণুটা আশেপাশে বিস্তার হয়। প্রতিরোধের একমাত্র মেডিসিন “জ্ঞান” ও লজিক।

(২) কয়েকটি সততো সাধক পত্রিকা ডেসটিনির উপর ডজন ডজন মুখরোচক নিউজ ডেলিবাড়ি দিয়েছে। ডেলিবাড়ি হওয়ার সাথে সাথে বাচচা গুলিকে কোলে লইয়া টক-শো অনুরাগী বেক্তিবর্গ এমন চিল্লানি দিল- পাড়াপড়শি, হার্টের রোগী, বাতের রোগী সব হাজির। বাচচা নিজেই ইনফেক্টেড হয়ে গেছে এখন।

রিপোর্টার ভাই কর্তিক বিকলাঙ্গ ডেলিভারি হতেই পারে। প্রাকৃতিক বেপার। চিকিত্‍সা আছে, হাসপাতাল আছে। এখন সিদ্ধান্ত নিন- ঘরে বসে বাচচার চিকিত্‍সা নিবেন, নাকি হাসপাতালে নিবেন।
দুনিয়াতে কমবেশি 14000 নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী আছে। বেশির ভাগ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীই পিরামিড স্কিম ফলো করে। পিরামিড স্কিমটি জুয়া খেলা সদৃশ। হারতে পারেন জিততেও পারেন, ঠিক নেই। তবে শেষের দিকের ব্যক্তিবর্গ নিশ্চিত ঠকবে। ঠকে যাওয়া ব্যক্তিবর্গের অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশ পিরামিড স্কিমটি নিষিদ্ধ করেছে। ইন্টারনেটে বিস্তর লিখালিখি আছে এই বেপারে। যেখান হতেই আমার প্রিয় ভাইয়েরা তথ্য কাট-পেস্ট করেছে। তারা যে যতগুলি তথ্য উপস্থাপন করেছে সবগুলোই পিরামিড স্কিম নিযে লিখিত।

এমওয়ে সর্ববৃহত্‍ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী। সারা দুনিয়াতে বেবসা করে। আমেরিকান কোম্পানী ওটা। ইন্ডিয়াতেও তারা ধূমাইয়া ব্যবসা করছে। তারা বাংলাদেশে আসে না। ইন্ডিয়ান টিভি চেনেলে অনেক এডভারটাইজমেন্ট হয় তাদের। ইন্ডিয়ান পচা চাল, ডাল এদেশে এসে পড়ে, কিন্তু এমওয়ে আসে না। কেন আসে না জানেন? ডেসটিনির অনুসৃত সিস্টেমের নিকট এমওয়ে ধরা খাওয়া। এমওয়ে তার সদস্যদেরকে প্রফিটের অংশ দেয় প্রায় 66% এবং ডেসটিনি দেয় মিনিমাম 80%। এমওয়ে যদি বাংলাদেশে আসে তবে তাকেও সারা দুনিয়াতে প্রফিটের অংশ বাড়াতে হবে। ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটিজিতে এমওয়ে ডেসটিনির নিকট দুর্বল। ডেসটিনির অনুসৃত কেলকুলেশনটি ইউনিক। দুনিয়ার আর কোথাও নেই।

ডেসটিনিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে উচ্চশিক্ষিত, অল্পশিক্ষিত বিভিন্ন কেটাগরী আছেন। যেমন আপনার এলাকায় কূলী, মুজুর, ধুপি নাপিত সবাই আছেন। আপনি ডেসটিনির সিস্টেমটি কার নিকট হতে বুঝার চেষ্টা করেছেন- এটাই বড় কথা। প্রাইমারি পাস করা লোকের নিকট হতে বুঝা এবং ইউনিভারসিটির শিক্ষকের নিকট হতে বুঝা এক জিনিস নয়। যে বেক্তিটি কন্সেপ্ট বুঝাতে পারেন না তিনি তার যোগ্যতা অনুযায়ী পন্য নিযে আলোচনা করেন। যে বেক্তিটি কন্সেপ্ট বুঝাতে পারেন তিনি কখনো কোনও পন্য নিযে আপনার নিকট যাবে না। পন্যের চয়েস আপনার উপর থাকবে, যা আপনার প্রয়োজন তাই আপনি খুজে নিবেন।

ডেসটিনি পিরামিড স্কিম ফলো করে না। 50-50 ব্যালান্স বাইনারি মেট্রিক্স সিস্টেম ফলো করে। এই সিস্টেমে আপনি সারা জীবনে একজন ব্যক্তিকেও কিছু না বলে আয় করতে পারেন। মাথা ঘুরিযে দিলাম নাকি? ইট ইজ ট্রু। জাস্ট আন্ডারস্ট্যান্ড দি সিস্টেম হোয়েদার ইউ লাইক ইট অর নট। রিপোর্টার ভাইদের এই সিস্টেমটি বুঝতেই হবে কারণ আপনারা বিষয়টির উপর দেশের মানুষকে জানাতে চাচ্ছেন।

(৩) আপনার এলাকায কোকাকোলা কোম্পানীর একজন ডিস্ট্রিবিউটর থাকেন। মোটামুটি ভালই ইনকাম করেন তিনি। তিনি কিভাবে ডিস্ট্রিবিউটর হলেন- জানেন? তার অনেক কাগজপত্র লেগেছে, লাইসেন্স লেগেছে, বেঙ্ক সলভেন্সি লেগেছে, অনেকের সাথে কম্পিটিসন করে ডিস্ট্রিবিউটরশিপ নিতে হয়েছে। এখন তিনি বিক্রয়ের উপর কমিশন পান।

ধরূন, রল্সরয়েস গাড়ির কোম্পানী দেখল আপনি অনেক যোগ্যতা নিয়েও বেকার আছেন, তারা আপনাকে এদেশে রল্সরয়েস গাড়ির একমাত্র ডিস্ট্রিবিউটরশিপ অফার করল। তারা আপনার জন্য ডিস্ট্রিবিউটরশিপ পাওয়া অনেক সহজ করে দিল- বলল কোনও কাগজপত্র লাগবে না, লাইসেন্স লাগবে না, ব্যাংক সলভেন্সি লাগবে না, কম্পিটিশন লাগবে না। আপনি এই অফারটা নিবেন? সত্যি করে বলেন তো খুশির চোটে কয়টা লম্ফ দিবেন?

ডেসটিনির একজন ডিস্ট্রিবিউটর হতে কী কী লাগে জানেন? নিজের প্রয়োজনে একটা পণ্য কিনেই (500 পয়েন্ট) আপনি ডিস্ট্রিবিউটরশিপ পাবেন। কমিশন পাবেন “50-50 ব্যালান্স বাইনারি মাট্রিক্স সিস্টেম” সুত্র অনুযায়ী। সূত্রটি যদি আপনি না বুঝেন তাহলে কী ডেসটিনির প্রবলেম? পেমেন্ট-এর এই সূত্রটি ইউনিক, ওয়ার্ল্ড-এর আর কোথাও নেই। দিস ক্যালকুলেশন ওয়াজ দি ব্রেন চাইল্ড অব মিস্টার রফিকুল আমিন, যাকে মিডিয়া পিপল যা তা বলেছে।

(৪) বিদেশে গিয়ে ঝাড়ুদার হতেও আমাদের বাধা নেই, বিদেশী ঝাড়ুদার এদেশে আনার চিন্তা করতে আমরা শিখিনি। চিন্তার দইন্যতা আমাদের মজ্জাগত। ছোটবেলা স্কূলে শিখেছি ” বাবা গরীব, 5 ভাই-বোন, সংসার চলে না, বীনা বেতনে পড়াশুনার জন্য অ্যাপ্লিকেশন লিখ”। চিন্তার দইন্যতা শিখেছি স্কুল থেকে। আমরা কী শিখতে পারতাম না- “অমুক এলাকায একটি মেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার তৈরি করার জন্য ইকুইপমেন্ট চাহিয়া পত্র লিখ”? পুওর ইন থিংকিং ওয়াজ আ গিফট ফ্রম ব্রিটিশ রূলার্স ইন আওয়ার এজুকেশন সিস্টেম।

আমি বলব, আমরা আমাদের চিন্তার সমান বড়। হাতি অনেক বড় কিন্তু চিন্তায় বড় নয়।

আসুন আমরা চিন্তা করতে শিখি, সপ্ন দেখতে শিখি। একটা উদাহরণ দেই- যে বাঙালি আর্কিটেক্ট টুইন টাওয়ার প্লান করেছেন তিনি কি প্রথমে টাওয়ারটির সপ্ন দেখেন নি? তিনি অবসসই তার সপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। প্রথমে তিনি সফল ছিলেন সপ্ন দেখার সাহসে, পরে তিনি হেসেছেন সপ্নের বাস্তবায়নে।

সাহসীরাই জেতে। জ্ঞান এবং লজিক থেকে আসে বিশ্বাস, বিশ্বাস থেকে আসে সপ্ন, সপ্ন থেকে আসে কর্ম প্রেরণা, কর্ম থেকে আসে সফলতা। এমবিএ পাস করা 100 জন স্টুডেন্ট-এর মধ্যে 99 জন বলবে “ভাল একটা চাকরি চাই। 01 জন হয়ত বলবে একটি প্রতিষ্ঠান গড়বো। প্রথম/দ্বিতীয় স্থান অধিকারী এমবিএ পাস স্টুডেন্টকে ইউনিলিভার নিয়ে নেয় লক্ষ টাকা বেতনে, দু:খের বিষয় ওই স্টুডেন্টটি হয়ত জানেনা এমন 10টি ইউনিলিভার তৈরি করার যোগ্যতা তার ব্রেন ধারণ করে।

(৫) “আমার এই লেখাগুলি আপনি নিজ চোখ দিয়ে দেখছেন;

ব্রেন দিয়ে বুঝার চেষ্টা করছেন,
আঙূল দিয়ে একটু পরেই এই ব্লগে লিখবেন,
অতপর হাসবেন। ”

কিছু বুঝলেন? নিজেই তো জন্মগত নেটওয়ার্ক হয়ে আছেন।
আসুন নেটওয়ার্ক-এর ক্ষমতা আন্দাজ করি:
ইন্টারনেট- দি লারজেষ্ট পোস্ট অফিস
ইন্টারপোল- দি লারজেষ্ট পুলিস নেটওয়ার্ক
হিউম্যান বডি- নেটওয়ার্ক অব অর্গান্স ইউ হ্যাভ
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং-নিউ কন্সেপ্ট অব মার্কেটিং ওয়ার্ল্ড-ওয়াইড

(৬) ( থিংক ইয়েস অর নো)
প্রশ্ন: আপনি কেন পড়াশুনা করছেন?
উত্তর: ভালভাবে বেচে থাকার জন্য
প্রশ্ন: পড়াশুনার পর কী করবেন?
উত্তর: চাকরি অথবা বেবসা
প্রশ্ন: চাকরি অথবা বেবসার জন্য দিনে কত ঘণ্টা সময় দিবেন?
উত্তর: মিনিমাম 10 ঘণ্টা
প্রশ্ন: কত বছর দিবেন?
উত্তর: চাকরি-প্রায় 30 বছর, বেবসা-সুস্হ সারাজীবন
প্রশ্ন: এত ধকল কেন নিবেন?
উত্তর: অর্থের প্রয়োজনে, সন্মান-এর প্রয়োজনে, ভালভাবে বেচে থাকার প্রয়োজনে
যারা ডেসটিনির “50-50 ব্যালান্স বাইনারি মাট্রিক্স সিস্টেম”-টি বুঝেন তারা তাদের অবসর সময়টুকু ব্যবহার করে সবকিছু অর্জন করেন 3 থেকে 5 বছরে। সফল ব্যাক্তিদের নামের কম্পিউটার প্রিন্ট আনতে পারেন অফিস থেকে।
যদি আপনি বলেন টাকা তো হল কিন্তু সন্মান তো নাই।
কার দৃষ্টিতে সন্মান নাই? আপনার? তাতে কার কী আসে যায!
আকিজ বিড়ির মালিক তার মগজের ব্যবহারে উপরে উঠেছেন, উনার চেয়ে ভাল ব্রেন নিয়ে তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন চাকরিজীবীরা। আকিজ সাহেবের সন্মান-এর ধারেকাছে আছে কতজন?
মানুষের যৌক্তিক ও বিজ্ঞানসম্মত প্রচেষ্টাকে সন্মান করা উচিত। আপনার অযৌক্তিকতার জন্য আরেকজন বসে থাকবে না।
প্রচেষ্টা অনেকটা রেলগাড়ির মতন, দেরিতে হলেও গন্তব্যে পৌছে। আপনি সমালোচনার রেলগাড়িতে চড়েছেন, গন্তব্য আপনারও জানা নেই।

(৭) বিভিন্ন কটুক্তি শুনতে পাই মিডিয়ার কল্যানে। ধরুন, আমি আপনাকে একটা গিফট দিলাম। আপনি গিফটটি গ্রহণ করলেন না। নিয়ম অনুযায়ী গিফটটি আমার কাছেই থেকে যাবে। এতে অবশ্যই আমি মন খারাপ করব, দু:খ পাব। আপনারা ডেসটিনিকে কিছু বেইজলেস গালিগালাজ গিফট দিলেন, ওগুলো নিলাম না। নিজের কাছেই রেখে দিন।
আপনার নিকট “টাই” একটি আভিজাত্যের প্রতীক। শুধু আপনাকেই মানায়, অন্যরা পরিলে বিষাক্ত বিষাক্ত লাগে- তাই না? ডেসটিনির সদস্যরা কাপড়-চোপড়ও তো পড়ে, অইগুলি আপনার নিকট বিষাক্ত লাগে না? কিনডার গার্টেন ইসকূলের বাচ্চারাও টাই পড়ে। আমি কিন্তু ভয় পাই আপনার পাসপোর্ট-এর ছবি আন্দাজ করে, ইয়া লম্বা এক টাই পড়া হাসিমুখ আপনার!!!

(৮) “সমবায় মন্ত্রণালয় ডেসটিনিকে প্রাথমিক মূলধন অনুমোদন দিযেছিল ৫০ কোটি টাকা। উক্ত টাকা মূলধন হিসাবে পেয়ে যাওয়ার পর ডেসটিনি তার মূলধন আরও বাড়ানোর জন্য সমবায় মন্ত্রণালযে আবেদন করে। 300 কোটি টাকা অনুমোদিত হয়। উক্ত টাকাও মূলধন হিসাবে পেয়ে যাওয়ার পর ডেসটিনি তার মূলধন আরও বাড়ানোর জন্য পুনরায় সমবায় মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। ১৪০০ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়।”- এই ডাটাগুলি শাকপাতা মনে করে কমপ্লিট খেয়ে ফেলা নাজায়েজ কর্ম হবে।

(৯) আমাদের দেশের সকল হাসপাতালই সাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে। সাস্থ্য অধিদপ্তরের আইন কানূনের মধ্যে তারা সকলেই পড়ে। কিন্তু প্রতিটি হাসপাতালের নিজস্ব আলাদা নিয়ম নীতি আছে। আপনি লেবএইড হাসপাতালে বালতি-বদনা নিয়া গেছেন তো মরছেন। কিন্তু অমুক রিপোর্টার ভাইয়ের হরগঙ্গা হাসপাতালে আপনি মোরগছানা নিযেও যেতে পারবেন। ঠিক অনুরূপ “নেটওয়ার্ক মার্কেটিং”ও একটি সরকারী নিয়মের মধ্যে চলে। অন্যান্য দেশে নিয়ম নীতি থাকলেও আমাদের দেশে কোনও সরকারী নিয়ম নীতি এখনো তৈরি হয়নি। তবে, হাসপাতালের মতনই প্রতিটি “নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীর” নিজস্স পলিসি আছে। এই পলিসিগুলি কখনো জনকল্যাণকর, কখনো অকল্যাণকর। অকল্যাণকর কোম্পানিগুলো পৃথিবীর যে দেশেই ধরা পড়েছে – বন্ধ হয়েছে। কোনটি জনকল্যাণকর কোনটি অকল্যাণকর তাহা বুঝার জন্য কোম্পানীর ইন্টারনাল পলিসি বুঝতে, হিসাবের অংকটি বুঝতে হয়। আমার ধারনা, হিসাবের অংকটি রিপোর্টার ভাইয়েরা বুঝিয়াছেন এবং বুঝাইতে পারিবেন।

হাতুড়ি লইয়া মিশতুরী হওয়া যায়, ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায় না। টক-শো গুলি ইহার প্রমাণ। আমাকে হরগঙ্গা হাসপাতালের নিয়ম নীতির উপর বক্তৃতা দিতে বলিলে আমি চিতপটাং। কিন্তু উনারা পৃথীবির যে কোনও বিষয়ের উপর গূর মাখাইয়া হৈচৈ লাগাইবার যোগ্যতা রাখেন। নমস্স উনারা।

(১০) আপনে কি জানেন- বাংলাদেশ যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদেরকে পাকিস্তানিরা বলত “সন্ত্রাসী”। 71-এর টিভি শো, নিউজপেপার দেখেন। এইগুলি পাবেন। এই ডাটা গুলি আপনি খাবেন?
কেন খাবেন না বলেন তো!! টিভি শো, নিউজপেপার কি কখনো মিথ্যা বলতে পারে? হায়রে প্রি-ম্যাচিউরড মগজ!! চিন্তা করতে শিখলি না!! গাছ এবং বাঁশ দুটোই দিলাম। বেছে নিন।

(১১) দাদার লাগানো গাছের ফল বাবা খেয়েছে, এখন নাতি খায়। ডেসটিনি অফিস-এ গিয়ে এমন উত্তরাধিকারদের নামের কম্পিউটার প্রিন্ট আনুন, যারা তাদের পূর্বসূরিদের চেষ্টার ফল ভোগ করছে। আপনার নোটখাতা ভরে যাবে তাদের তালিকা লিখতে যান যদি।
ডেসটিনি 100% বাংলাদেশী কোম্পানী।
ডেসটিনি বলিয়াছে “৬ কূটি গাছ লাগাব”। বাধা দিছেন কেন? কেন বলেন না- বলিয়াছিস যখন লাগা এইবার, মনের সুখে পাতা খাব।
একটি লোক চাকরি করিত। তাহার বস তাহাকে খূব হেনস্থা করিত। লোকটি চাকুরী ছাড়িয়া দেবার মনস্থ করিল, কিন্তু বসের কাছে রিজাইন লেটার লিখিতেও তাহার ঘিননা লাগিল। বসের কাছে সে সর্বব্রীহত্‍ একটি রিজাইন লেটার লিখিল:
“ওয়াক থূ”

(১২) দাবা খেলা পারেন? একটু খেলেন:
বাংলাদেশের বিএসটিআই সীল না লাগিয়ে ইন্ডিয়া কেন পশু-খাদ্য বিক্রি করে? ওদের বিএসটিআই-এর কোনও মূল্য আছে নাকি? ওই পশু-খাদ্য যদি আমার খামারে দেই- রাগ করবেন? ওরা কিন্তু ওদের খামারে এই খাদ্য খাওয়ায়।

হার্ট-ফাউণ্ডেসনে যান, বিদেশী মেডিসিন খাচ্ছে রূগীরা। বাংলাদেশী কোনও সীল-সপ্পর নাই। কোনও হৈ চৈ নাই।
ডেসটিনির নাই জেলায় বিএসটিআই নাই। তুমুল হৈ চৈ বাধাইল সাংঘাতিক সাংবাদিকেরা। আপনি কি জানেন যে ইহা সিংগাপুর হইতে সিল-ছাপ্পর মারা এবং কয়েকটি মিডলইস্ট দেশে চলে। কোনও কোনও খেত্ত্রে অজ্ঞতা অপরাধ। নাইজেলা পরিমাপের যন্ত্রপাতি বিএসটিআই-এর নাই। এট্টু খবর লইলেই জানতে পারবেন।

আমার কাছে কিটকেট চকলেট আছে, খাবেন? অনেক সাংঘাতিক সাংবাদিকেরা খায়। বিএসটিআই নাই।

প্রতিপক্ষ বলিয়া কোনও শব্দ আমার মগজে ঢুকে না। অংক বুঝি, দেওয়ালের ওপারে কী আছে আন্দাজ করিতে পারি, দেশকে ভালবাসি। আমি বিশ্বাস করি- অর্থনৈতিক মুক্তিতে অনেক কিছুই মুক্তি পায়, মানবতা মুক্তি পায়, অজ্ঞতা কমে, অপরাধ প্রবণতা কমে, সভ্যতা এগোয়, সম্মানবোধ বাড়ে, জীবন বদলায়। ডেসটিনিকে আমি বাই হার্ট লাইক করি শুধু অংক ও স্বচ্ছতার জন্য। ডেসটিনিতে আমি ভবিষ্যৎ অনুভব করি। আমার বিশ্বাস আমার, আপনার বিশ্বাস আপনার।

একজন বলিল ” এক থাপ্পড় মারিয়া ৪৮ দাত ফেলাইয়া দিব। কিনার হইতে আরেকজন লোক বলিল- ও ভাই, দাত তো ২৪ টি হয়, আপনে 48 দাত পাইলেন কই?”
তখন লোকটি কহিল “আমি জানতাম তুই কিনার হইতে নাক গলাবি, তাই তোর দাঁতগুলিও গনায় ধরছি”।
আমরা আসলে কেউ জিতি নাই, কেউ হারি নাই। শুধু কিছু জ্ঞান নিয়া নাড়াচড়া করিয়াছি। ট্রুথ নীডস নো সাপোর্ট। একাই একশ।

ডেসটিনির বিজনেস প্লানটি জানার জন্য আপনার আমন্ত্রিত। ইন্টারনেট হইতে মুদ্রার এপিঠ জানিয়াছেন, ওপিঠ জানেন নাই।
আপনার অবসর সময়ের দুইটি ঘণ্টাই যথেষ্ঠ ইহা জানার জন্য। আপনাকে ডেসটিনির সদস্য হওয়ার প্রয়োজন নাই। লিখার জন্য জানা প্রয়োজন। যে কোনও লেভেলের অতিথি সহ আপনি আমন্ত্রিত।