ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

এই লিখাটি বিশেষভাবে সাংবাদিক ভাইদের প্রতি উদ্দেশ্য করে লিখলাম। আমার ঘরে কিংবা ঐ ঘরে যেখানেই থাকুক না কেন কালো বিড়ালটি কিন্তু বের করতেই হবে আপনাদের। তুমুলভাবে ঘণ্টা পিটিয়েছেন, মানুষজন জেগেছে। এখন আপনারা ঘুমিয়ে যাবেন না প্লিজ। একই শিরোনামে আগের লিখাটিতে কিছু তথ্য উপস্থাপন করেছিলাম। তথ্য এবং যুক্তির খণ্ডন করতে না পেরে আমার প্রিয় ব্লগার ভাইয়েরা “টাই, ফেরিওয়ালা, কাক পাখি ” ইত্যাদি বলে ব্যঙ্গ করেছেন। অসুবিধা নেই, শেষ হাসিটা তারাই হাসবে যারা কলুষিত হয়নি।

পত্রিকার হেডলাইন গুলো ছোট হচ্ছে। ভাল লাগছে দেখতে। কিছুদিনের মধ্যেই ভিতরের পাতায় চলে যাবে, অতঃপর মরে যাবে। আমার কিছু পয়েন্ট আছে আপনাদের প্রতি। এগুলোর উপর আপনারা নুতন উদ্যমে লিড নিউজ করুন এবং নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা উপস্থাপন করুন প্লিজ:

(১) ডেসটিনি কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করছে- অনুগ্রহ করে কোন কোন দেশে টাকাগুলো গেল আমাদের জানান। প্রেরক এবং প্রাপকের বেঙ্কের নাম ও একাউন্ট সম্বন্ধে কিছু তথ্য দিন।

(২) বাংলাদেশ বেঙ্কের রিপোর্টটি ছিল ইণ্টের্নাল নোট। ওটা ফলাও করে ছেপেছেন। ওটা কী বাংলাদেশ বেঙ্ক আপনাদেরকে ছাপানোর জন্য দিয়েছিল? যদি না দিয়ে থাকে তাহলে কিন্তু আপনারা বাংলাদেশ বেঙ্ককেও অসস্থিতে ফেলেছেন। জাতীয় বেঙ্ক হেনস্থা হউক এটা চাই না। বিজ্ঞ আদালত বাংলাদেশ বেঙ্কের রিপোর্টটিকেই প্রিমেচুরড আক্ষায়িত করে রিট আবেদনটিকেও প্রিমেচুরড হিসেবে খারিজ করে দিয়েছেন। বাংলাদেশ বেঙ্ক অফিসিয়ালী যদি তাদের তদন্ত রিপোর্ট উপস্থাপন করতো তাহলে আপনাদের রিপোর্টটি সমীহ পেতো।

(৩) ডেসটিনির সাথে লেনদেন না করার জন্য বাংলাদেশ বেঙ্কের পরামর্শ- ইণ্টের্নাল নোটটাও ছাপিয়া দিয়ে এর সত্যতা প্রমাণ করুন। হলুদ সাংবাদিকতাকে ধিক।

(৪) 5 পরিচালকের পদত্যাগ বিরাট হেডলাইন দিলেন- কৈ? তার তো দিব্যি সেমিনার, মিটিং করছেন, বিবৃতি দিচ্ছেন।

(৫) উচ্চ সুদে ঋণ প্রদানের অভিযোগ দিয়েছেন- কত উচ্চ? % জানান। অন্য কোথাও এর চেয়ে কম আছে কিনা জানান প্লিজ।

(৬) কোম্পানী স্থায়ী সম্পত্তিতে বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী- একবার বলছেন কোম্পানী ভেগে যাবে, আবার বলছেন কোম্পানী স্থায়ী সম্পত্তিতে বেশি বিনিয়োগ করছে। ভেগে যাওয়ার জন্য অস্থায়ী সম্পদ দরকার, স্থায়ী নয়। জায়গা জমি নিয়ে ভেগে যাওয়ার পদ্ধতিগুলো আপনারা আমাদের জানান।

(৭) জমি ক্রয়ের খেত্ত্রে ডিসি-দের ঘুষ প্রদানের অভিযোগ- কোন ডিসি? কত টাকা? অভিযোগ কে দিল? কে নিলো? কে রিপোর্ট করল? প্রমাণ হাতে রাখুন, অভিযোগকারীকে হারিয়ে ফেলবেন না।
কোনও এক থানার দেয়ালে দুষ্ট কেউ লিখেছিল ” কিসে পইল্লাম রে বাবা”।

(৮) গাছ নাই কিন্তু লক্ষ লক্ষ গাছ বিক্রয়- ক্যামেরা অন করে ডেসটিনির প্রতিটি বাগানের চারিপাস একবার ঘুরুন প্লিজ। জনগণ দেখুক পত্রিকার গপ্পো।

(৯) একই গাছ একাধিক বেকটির নিকট বিক্রয়- একই নামবারের গাছের কাগজ সহ দুইজন ব্যক্তিকে হাজির করুন।

(১০) আইনবিহীন বেবসা পরিচালনা- বেবসা করার জন্য যে যে সংস্থার অনুমতি নিতে হয় তাদের কাছে যান প্লিজ। অনুমতি আছে কিনা জানুন।

দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমার কিছু চাওয়া আছে:

(১) সঠিক নিরপেক্ষ তথ্য জানতে চাই।
(২) ডাক্তারদের মত সকল সাংবাদিক ভাইদেরও লাইসেন্স চাই, যাতে হলুদ সাংবাদিকতার জন্য লাইসেন্স বাতিল করা যায়।

সকলের জন্য শুভ কামনা।