ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

আর্থ ইজ এ ভাস্ট চেসবোর্ড। কে যে কখন কী চাল দেয় বুঝা মুশকিল।

আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে আমি যা বুঝি- আমাদের দেশটি আসলেই সোনার বাংলা। আছে শান্তিপ্রিয় প্রচুর মানব সম্পদ, জাতিগত হানাহানি নেই, উর্বর জমি আছে, জানা অজানা ভূগর্ভস্থ সম্পদ আছে, আছে সমুদ্র্র।
নেই শুধু মাথা উচু করে দাড়াবার মানসিকতা। কেন নেই? উত্তর একটি – চেসবোর্ডের কোনও চাল।

আফ্রিকা মহাদেশের মানুষেরা জানে- তারা “পূওরেস্ট পিপল অন রিচেষ্ট সয়েল”। কেন পুওর? উত্তর সেই একই- চেসবোর্ডের কোনও চাল। এ যেন এক গোলক ধাধা, বেরিয়ে আসতে চাইলে দেশপ্রেম সহ চিন্তাশীল হতে হয়।

একটি জাতির উন্নতির জন্য দরকার শুধু “মানসিকতা”, আর কিছু নয়।
প্রাচীনত্ত, আয়তন, মিনারাল রিসোর্স, আবহাওয়া, জনসংখা ইত্তাদি কোনও কিছুই একটি জাতির উন্নয়নের একমাত্র মাপকাঠি নয়।
উদাহরনসরূপ:
মংগোলিয়ান, এস্কিমো, পিগমি হাজার বছরের পুরানো জাতি। কিন্তু এরা সবচেয়ে উন্নত জাতি নয়।
ব্রুনাই, সিংগাপুর- নুতন দেশ, অনেক উন্নত।

ওয়ার্ল্ড ম্যাপ দেখূন, অনেক বড় বড় আয়তনের দেশ আছে,-সুদান, জাম্বিয়া, ব্রাজিল- এরা উন্নত জাতি নয়।
জাপান, হংকং, থাইল্যান্ড- ছোট দেশ, অনেক উন্নত।

অমূল্য মিনারাল রিসোর্সে ভরপুর দেশ- লাইবেরিয়া, সিয়েরালীয়ন, গিনি- এরা উন্নত দেশ নয়।
জাপান, হল্যন্ড -মিনারাল রিসোর্স নেই, কিন্তু উন্নত।

বাসপযোগী আবহাওয়া আমাদের ও প্রতিবেশী দেশের- আমরা উন্নত জাতি নই।
নিউজিল্যন্ড, রাশিয়া বিরূপ আবহাওয়ার দেশ- কিন্তু উন্নত।

জনসংখার দেশ ভারত- উন্নত জাতি নয়।
কেনাডা, অস্ট্রেলিয়া জনসল্পতায় ভুগছে- কিন্তু উন্নত।

তাহলে আমরা কী মাথা উচু করে দাড়াবার সাহস করতে পারি না? চেষ্টা করতে দোষ কী?
আমি বলি প্রবলেম আছে রে ভাই- এখানেও দাবার চাল আছে।
ধরুন, এশিয়া খুব উন্নত হয়ে গেল। তাহলে উন্নত দেশগুলোর রাস্তাঘাট কে পরিষ্কার করবে? বাথরূম কে সামলাবে? হাই ভোল্টেজ লাইন-এ কে কাজ করবে এত কম মাসোহারায়? শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌছে গেলে তো বিপদ !!!
তাইতো অনুন্নত দেশগুলোতে দেশপ্রেমিকরা মাথা তুলতে চাইলেই মীরজাফরের তলোয়ার আঘাত হানে। জনগণ জেগে উঠার আগেই দেশপ্রেমিকরা মরহুম হন।

উপরোক্ত আলোচনাটি করলাম – নিচের আলোচনাটি সহজে বুঝার সার্থে:

(1) ডেসটিনি বলছে ” টুগেদার উই বিল্ড আওয়ার ড্রিম”।
এই স্লোগানটি উন্নত বিশ্সে কেউ দিলে বাহবা পেতো। ডেসটিনি পেল তিরস্কার।
পত্রিকাগুলো ডেসটিনিকে নিয়ে চুলচেরা আলোচনা করতে পারতো। ভূল থাকলে ধরিয়ে দিতে পারতো। পক্ষান্তরে কিছু পত্রিকা প্রমাণবীহীন গীবত গাওয়া শুরু করল। ডেসটিনি কিন্তু চেলেনজ দিয়ে রেখেছে “প্রমাণ হাজির করুন”।

(2) ডেসটিনি সুনাচ্ছে “অর্থনৈতিক সাধীনতা”র কথা। না বুঝেই এটার বিরোধিতা করা কী সমীচীন?
ডেসটিনির সদস্সরাতো হৈচৈ করছে না। তবে কারা হৈচৈ করছে? উত্তর সেই একই- চেসবোর্ডের কোনও চাল।

(3) ডেসটিনির সদস্স হওয়ার আগে আমি “50-50 ব্যালান্স বাইনারি মাট্রিক্স সিস্টেম”টি বুঝেছি। তারপর নিজের প্রয়োজনে একটি এক্সারসাইজ মেশিন কিনে সদস্স হয়েছি, যা আমি ইচ্ছে করলে স্টেডিয়াম থেকেও কিনতে পারতাম।
আমার কাছে পণ্যটি বিক্রী করে ডেসটিনি যা মুনাফা করেছে- তার একটি অংশ আমি ফেরত পেরেছি। আমার বন্ধু বান্ধব আত্তিয় সজনদের সাথে আমি বিষয়টি অবসর সময়ে শেয়ার করেছি। তাদের কেনাকাটা থেকে তারাও লাভবান হয়েছে। তাদেরকে লভ্বাংসের পরিপূর্ণ অংশ দেয়ার পর ডেসটিনি আমাকেও বাড়তি একটা % দিয়েছে। এটি চলমান। আমি মরে গেলেও এটা চলমান থাকবে। উদাহরণ আছে ভুরিভুরি।
আমার একটি প্রশ্ন আছে এখানে- আপনি সারা জীবন যে দোকান থেকে কেনাকাটা করেছেন তারা কী আপনাকে লভ্বাংসের কোনও অংশ দিয়েছে?
ধীরে ধীরে এই ইনকামটি বিশাল আকার ধারণ করে। নিজের চাহিদা পূরণ করে দেশ ও দশের কল্যাণে ঝাপিয়ে পড়তে প্রবলেম কোথায়? পন্য ক্রয় কোনদিন থেমে যাবে না, ইনকামও থামবে না।

পন্যের মান ও দাম নিয়ে অনেকে মন্তব্য করেন। এক কাপ চা সোনারগাও হোটেল-এ কত আর ফুটপাথ-এ কত? সনি টিভি কত আর কঙ্কা টিভি কত? আপনার সামর্থ হলে কিনবেন, নয়ত নয়। পন্যের মান?- যাচাই করুন। নিজে না কিনুন-অন্যরা যারা কিনেছে তাদেরটা দেখে আসুন, শোরুম-এ যান।

(4) বিরোধিতা আসবে এটা জানতাম। আরও বড় বিরোধিতা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত ডেসটিনি।
যেহেতু ডেসটিনির এই কেলকুলেশন সিস্টেমটি দুনিয়ার আর কোথাও নেই,- তাই হয়ত কোনও ভুল ভ্রান্তি কোথাও থেকে যেতেও পারে। শুধরে নিব। ভুল আর অপরাধ এক জিনিস নয়।
পক্ষান্তরে- পত্রিকাগুলো যা করেছে তা অপরাধ, ভুল নয়।

সবার জন্য শুভেচ্ছা।