ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

ডেসটিনি যদি প্রতারণা করে থাকে তবে এর শাস্তি হওয়া সকলের কাম্য। এখেত্ত্রে কথিত প্রতারিত ও প্রতারক এই দুই গ্রুপের বক্তব্যই মুক্ষ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। কিন্তু সংবাদপত্রে শুধুমাত্র তৃতীয় একটি গ্রুপের আহাজারি হাহাকার দেখতে পাওয়া যায় যারা ডেসটিনির সাথে সম্পৃক্ত নয়। এই লিখার উদ্দেস্স হলো এই তৃতীয় গ্রুপটিকে বুঝার চেষ্টা করা- সত্তই কী এরা “সত্তভাষী জনদরদি” নাকি অন্য কিছু।

সদস্সদের কাছে ডেসটিনি অত্তন্ত প্রিয় তার সচ্ছতার জন্য, দেশের কল্ল্যানে নিবেদিত প্রাণের জন্য, কর্মের জন্য এবং ভবিষশত বাংলাদেশের একটি সপ্ন দেখানোর জন্য।

সাংবাদিকতা একটি অত্তন্ত মর্যাদপূর্ণ পেশা এবং সংবাদপত্রকে বিস্সাস করা মানুষের সহজাত প্রবৃতি। সাধারণ মানুষের এই বিস্সাসের উপর ভর করেই অজ্ঞতা ও শঠতার পোশাকে জন্ম নিয়েছে “হলুদ সাংবাদিকতা”- যারা অর্থের বিনিময়ে নিজের বিবেক ও পেশাকে ভুলুণ্ঠিত করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। যা সার্বিকভাবে সাংবাদিকতা পেশাটাকেই কলুষিত করছে। অনেক সাংবাদিক ভাই আছেন যারা নিজেকে কোনদিন বিসর্জন দেননি, যাদেরকে দেখলে শ্রদ্ধা জাগে।

সংবাদপত্রকে দেশ, জাতি ও সরকারের “চোখ” ভাবা যায়। অনেক কিছুই সরকারের নজরের বাইরে ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত। সংবাদপত্রই সেই ঘটনাগুলোকে প্রশাসনের নজরে আনতে মুক্ষ ভূমিকা পালন করে এবং দেশের মানুষকে তা অবহিত করে। এই কাজের মধ্যে যখন বেক্তিসার্থ ঢুকে যায় তখন সংবাদটি বিক্কৃতভাবে জনগণ এবং প্রশাসনের নিকট উপস্থাপন করা হয়।
শুরু হয় হৈচৈ, শুরু হয় তদন্ত। ভুক্তভোগীরাই জানেন এই হয়রানিটুকু কত বিরক্তিকর। প্রিয় ব্লগারদের জন্য কিছু তত্থ উপস্থাপন করলাম, যুক্তি ও তত্থ নির্ভর যে কোনও মতামত সানন্দে গ্রহণ করবো:

(1) সংবাদপত্রে আমরা জেনেছি “বাংলাদেশ বেংকের বিরুদ্ধে ডেসটিনির রীট খারিজ”।
কেন খারিজ হলো এটা কিন্তু সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় নি।
বাংলাদেশ বেংকের রিপোর্টটি ছিল একটি ইণ্টার্নাল নোট। যেখানে কিছু সম্বাবনার কথা উল্লেখ ছিল- যেমন, ডেসটিনি বেংকিং করছে, মানি লন্ডারিং করছে, 2014 সালে ভেগে যাবে, হায় হায় কোম্পানী ইত্তাদি। এই নোটটিকে বাংলাদেশ বেংক কোনও রিপোর্ট হিসেবে সরকারের নিকট উপস্থাপন করেনি। পত্রিকাগুলো কমপ্লিট ইণ্টার্নাল নোটটি না ছেপে ওই নোটের উপর নিজস্স মতামত ছেপে দিলেন। ব্যস। হৈচৈ শুরু।
কোর্ট বললেন- এই নোটটি তো সরকারকে কার্যক্রমের জন্য দেয়া ফাইনাল কোনও রিপোর্ট নয়, এটা একটি ইণ্টার্নাল নোট। ডেসটিনির এত ভয় কেন? যেহেতু রিপোর্টটিই প্রিমেচীউর্ড তাই ডেসটিনির রীটটিও প্রিমেচীউর্ড। রীট খারিজ হয়ে গেল। 5000 কোটি টাকার মামলাটি এখনো বলবত্‍ আছে।

(2) কক্সবাজারে ডেসটিনির হোটেলের নির্মাণ কাজ বন্ধে কোর্টের নির্দেশ।
সংবাদপত্রে সমস্ত দোষ ডেসটিনির উপর চাপানো হলো।
আমাদের দৈনন্দিন কর্মকান্ডের মধ্যেই আমরা দেখতে পাই- পাশের বাড়ির অভিযোগের ভিত্তিতে নির্মাণাধীন কোনও বাড়ির কাজ বন্ধ, কারো অভিযোগের ভিত্তিতে আরেকজন তার জমি বিক্রী করতে পারছেন না ইত্তাদি। অভিযোগটি সততো নাকি ভিত্তিহীন তা মাননীয় আদালত বিচার করবেন, দুপক্ষের বক্তব্যই শুনবেন। এক্ষেত্রে নিরপরাধ বেক্তিটিও সাময়িক হয়রানির শিকার হন।
যে হোটেলটির বেপারে লিখা হয়েছে তা শুরু থেকেই ডেসটিনির ছিল না। কনফিগার ইঞ্জিনিয়ার্স কোম্পানী নামে একটি প্রতিষ্ঠান ওই হোটেলটির মালিক ছিলেন এবং হোটেলটি তৈরি করছিলেন। 3 বছর কন্সট্রাকশান করার পর তারা আর্থিক সংকটে পড়ে কিছু শেয়ার ডেসটিনির নিকট বিক্রী করেন। পরবর্তিতে হোটেলটির কন্সট্রাকশান পুরোদমে শুরু হয়। এখন হোটেলটির নির্মাণাধীন বয়স প্রায় 6 বছর, ডেসটিনি জড়িত হয়েছে প্রায় 3 বছর। বেস্ট ওয়েস্টার্ন নামে একটি আমেরিকান চেইন হোটেল মেনেজমেন্ট কোম্পানী এই হোটেলটির তত্তাবধানের দায়িত্ত নিয়েছে।
কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় এই হোটেলটি অবস্থিত। পরিবেশবাদী একজন অভিযোগ করেছেন যে, হোটেলটি আইন বহির্ভূতভাবে তৈরি হচ্ছে। কেউ অভিযোগ করতেই পারেন, সাধারণ বেপার।
প্রশ্ন হচ্ছে- কোন আইনটি অমান্য করে কনফিগার ইঞ্জিনিয়ার্স কোম্পানী কোটি কোটি টাকা ইনভেস্ট করল? কোন আইনটি ডেসটিনির নজরে পড়ল না? কোন আইনটি বেস্ট ওয়েস্টার্ন চেইন হোটেল মেনেজমেন্ট কোম্পানীর নজর এড়িয়ে গেল? উত্তর একটিই- পরিবেশ ছাড়পত্র, অন্য কিছু নয়। অন্যান্য হোটেল-মোটেলগুলো যদি পরিবেশ ছাড়পত্র পেয়ে থাকে তবে এই হোটেলটিও পরিবেশ ছাড়পত্র পাবে। 2010 সালেই পরিবেশ ছাড়্পত্রের জন্য এপ্লিকেশন করা আছে। ফাইল-পত্রের নড়াচড়া একটু দেরিতে হওয়ার বিবিধ কারণ থাকতে পারে।

(3) সাক্ষী প্রমাণ উপস্থাপন ও টক-শো ।
লক্ষ লক্ষ সদস্সদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজনের হিসাব ডেসটিনি কতৃপক্ষ বন্ধ করে দিয়েছেন তাদের বেক্তিগত অনৈতিক কাজের ভিত্তিতে। তারা আজ কেমেরায় ধরা দিচ্ছেন। একাধিক বছর পেরিয়ে গেছে তারা ডেসটিনি থেকে নক-আউট হয়েছেন। আদালতে যান না কেন তারা? ডেসটিনির বিরুদ্ধে যদি কোনও প্রতিশোধ নেয়া যায়-এই ভাবনাই কী তারা ভাবছেন!
পুরানো কেউ কেউ রয়েছেন যারা ডেসটিনি থেকে বহুদিন দূরে রয়েছেন, লেটেস্ট ডেভেলপমেন্ট জানেন না। তারাও তৃতীয় গ্রুপের টার্গেট, একটা কিছু বলিয়ে নেওয়ার চেষ্টায়।
টক-শোতে শ্রদ্ধেয় যারা ডেসটিনির বিষয়ে মতামত দিয়েছেন তারা ডেসটিনির সিস্টেমটি সম্মন্ধে ধারনা রাখেন কিনা সন্দেহ আছে। কারণ তাঁদের কথাতেই ডেসটিনির সিস্টেমটি বিকৃতভাবে উপস্থাপন হয়েছে। তাঁরা শুধু বলে গেছেন এটা প্রতারণা। “কিভাবে প্রতারণা হচ্ছে” একটু অংক করে বুঝিয়ে দিতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে।

(4) যুবক ও ইউনিপে ইউ 2-এর সাথে তুলনা
ডেসটিনি কর্মপদ্ধতিগত কারণেই যুবক ও ইউনিপে ইউ 2-এর থেকে ভিন্ন। সংবাদপত্রে তিনটি প্রতিষ্ঠানেরই আর্টিকেল অব মেমরেনডাম প্রকাশ করলে সহজে বুঝা যেত।
যুবক ও ইউনিপে ইউ 2 প্রতারণা করেছে, ভুক্তভোগীরা হৈচৈ করেছেন, সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদপত্রগুলি তা ছেপেছে। দুদিন সংবাদপত্রে আসার পরই যুবক ও ইউনিপে ইউ 2 অফিসে তালা ঝুলেছে, মালিকদের কেউই সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ করেন নি, আইনের আশ্রয় নেন নি, টক-শো করেন নি।
ডেসটিনির বেপারটি এখানে ভিন্ন- কোনও অফিসেই তালা ঝুলেনি, সয়ং এমডি মিডিয়ায় বক্তব্য দিচ্ছেন প্রতিদিন, লক্ষ লক্ষ সদস্সরা হলুদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। ডেসটিনির বিরুদ্ধে তার সদস্সদেরই কোনও ক্ষোভ নেই। এখানেই হলুদ সাংবাদিকতার পরাজয় ঘটেছে।

(5) ডেসটিনি ট্যাক্স ফাকি দিয়েছে।
পত্রিকা বলছে ডেসটিনি 140 কোটি টাকা ট্যাক্স ফাকি দিয়েছে।
ওটা ভ্যাট। গাছের উপর ভ্যাট। যদিও টাকার অংকটা বিভিন্ন মাত্রায় প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গাছ লাগাচ্ছে, বনায়ন করছে। গাছের উপর কোনও ভ্যাট নেই। যে কোনও ভ্যাট কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে। ডেসটিনির লাগানো গাছে ভ্যাট আসবে কোন আইনে? কথিত 140 কোটি টাকার হিসাব ওখানেই লুক্কায়িত। হিসাবটি কোন আইনে কার্যকর করা হবে তা নির্ণয় করতে হলে নতুন সংশোধণী প্রয়োজন হবে।

(6) আইনের ফাক গলে ডেসটিনি বেবসা করছে।
ডেসটিনি বেবসা করছে সমবায় আইনের অধীনে। কোন আইনটি অমান্য করা হচ্ছে- কোনও মিডিয়াই পিনপয়েন্ট করে আইনের ধারাগুলো বলতে পারেনি। যদি বলা হয় ডেসটিনি বেংকিং করছে- তাহলে অন্য একটি বেংকের চেক ডেসটিনিতে জমা দিতে অথবা ভাংগাতে পারা যায় না কেন? যদি বলা হয় ডেসটিনি আমানত সংগ্রহ করছে- তাহলে সমবায় আইনে তা পারমিটেড। যদি বলা হয় আমানত সংগ্রহ করে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করছে- তাহলেও সমবায় আইনে তা পারমিটেড। যেভাবেই হোক সরকারকে বুঝিয়ে ডেসটিনিকে বন্ধ করতেই হবে- এমন চিন্তা অবস্স আলাদা ।

আরও কিছু বিষয়ে আগের লিখাগুলোতে আলোচনা করেছি, যা এখানে আলোচনা করিনি।

সকলের জন্য শুভেচ্ছা।