ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

অনেক দিন পর আজ কিছু কথা না বলে থাকতে পারছি না। আমার বুদ্ধির লেভেল একদম নিচু স্তরের। তাই আমি ব্লগ বেশী একটা লিখি না। ফেসবুক ব্যবহার স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদ নিয়ে অনেককেই দেখেছি সোচ্চার হতে গণমাধ্যমে, ভার্চুয়াল জগতে। আমিও কমবেশি অংশগ্রহন করেছি। ফিলিস্তিন, সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের দুর্দশা দেখে আমদের মন কাঁদে, ওবামা নির্বাচনে জিতলে আমরা খুশী হই। কিন্তু অবাক বেপার হল নিজের দেশের মানুষ মরলে আমরা তেমন একটা অবাক হইনা।

গত আট দিনের যুদ্ধে ফিলিস্তিনে মারা গিয়েছে ১৬০ জনের মতো, আর ইসরায়েলে মারা গিয়েছে ৩ জন আর ৫ জনের মতো আহত হয়েছে। আজ সকালে যখন বিবিসি দেখতে বসলাম গাজার খবর দেখার জন্য তখন দেখি আমার দেশের খবরই শিরোনাম। লজ্জায় মাথা লুকানর জায়গা খুজে পেলাম না। আমাদের মতো মানুষের অন্য মানুষের জন্য চিন্তা করা বোকামি। আসুলিয়ায় আগুনে পুড়ে জেন্ত মারা গেলো ১৪০ জন আর চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারের গিরদের পড়ে মারা গেলো ১৪ জন। এইসব ঘটেছে এক রাত্রে। এমন একটা দেশে বাস আমাদের যেখানে আপনি কখনই নিরাপদ না। প্রতিদিন বিভিন্ন ভাবে অপমৃত্যুর স্বীকার হচ্ছেন গড়ে ১০জন কিংবা তার বেশী। আমাদের মন খারাপ হয় না। কেউ ভাবেনা, যতদিন নিজের গাঁ বাঁচিয়ে চলা যায় সেই ভাল। কেউ ভাবেনা কাল আমি অথবা আপনিও খবরের শিরোনাম হতে পারি। কিছুদিন আগে প্রথম আলোতে পড়েছিলাম, বসবাসের জন্য যোগ্য রাজধানীর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৪০, সর্বমোট ১৪০ টি রাজধানীর মাঝে। অবাক করা বেপার হল গৃহ যুদ্ধের মাঝেও সিরিয়ার অবস্থান ১১৭ এমনকি জিম্বাবুয়ের মতো দেশ আমাদের উপরে। আমার প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে ইচ্ছে করে আমদের দেশের গনতন্ত্র আমদের কি দিচ্ছে??? তাদের চোখে দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। আর আমরা, সাধারণ জনগণ দিনে দিনে অতল গহবরে হারিয়ে যাচ্ছি। সংসদে আজো ১৯৭১ নিয়ে আলোচনা হয়, গত সরকারের আমল নিয়ে আলোচনা হয় কিন্তু কেউ বর্তমান নিয়ে কথা বলতে চায় না।

নেতানেত্রীরা শুধু আগের আমলের সাথে বর্তমান অবস্থার তুলনা নিয়ে ব্যস্ত। অনেককেই বলতে শুনেছি, এই আমলে মাসে যদি ১৫ জন খুন হয়ে থাকে তবে গত আমলে তার সংখ্যা ছিল ২০ অথবা তারও বেশী। কিন্তু কেউ বলে না ১৫/২০ জন সংখ্যাটা ব্যাপার না, ব্যাপার হল অপমৃত্যুর। কি করে এর সমাধান করা যায় তা নিয়ে কেউ কথা বলে না। আজ আর কথা বাড়াব না। হয়তো কাল সংবাদপত্রে দেখতে পারব মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়েছে। তারপরও একটা কারণে সরকার কে ধন্যবাদ দিতে হয়, তাহলো সাথে সাথে মৃতের পরিবারদের টাকা দেয়ার ঘোষণা। গরীব মানুষ, টাকা পেলে কিছুদিন চুপ থাকবে, কয়েক সপ্তাহ পর সবাই সব ভুলে যাবে। আবার কোন নতুন ঘটনা ঘটবে। থেকে যাবে আমার এই আবলতাবল লেখা আর বোকা মানুষের মতো ভেবে যাওয়া।

আমি হতাশ হয়ে পড়ছি … আমাদের দেশে কোন যুদ্ধ নেই, গণতন্ত্রের জোয়ার আকাশে বাতাসে… তারপরও প্রতিদিন ঘটনা দুর্ঘটনায় যে পরিমান মানুষ মারা যাচ্ছে তা আফগানিস্তান, সিরিয়া অথবা ফিলিস্তিন থেকেও অনেক বেশী… কেন এমন হচ্ছে? বেঁচে আছি বলে গর্ব করতে ইচ্ছে করছে… আমি বাংলাদেশ থেকে জ্যান্ত মানুষ বলছি… একদিন সবাই অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করবে কিভাবে?