ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

কিছুক্ষণ আগে একটা পোস্ট দেখলাম, যেখানে কম বয়সী থেকে মধ্যবয়স্ক মানুষ, যাদের অনেকই কারো মা, বোন, বড় ভাই, তারা সবাই একুশের বই মেলায় এসেছে। কিন্তু কেউ ঠিকমতো একুশে ফেব্রুয়ারীতে কি ঘটেছিল তা বলতে পারলেন না। তারা তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কোনদিন সঠিক ইতিহাস কি বলতে পারবেন? একুশে ফেব্রুয়ারীতে নাকি যুদ্ধ হয়েছিল এমনও অনেকে বলেছে। সবটুকু দোষ কি তাদের দেয়া চলে? সবটুকু লজ্জাকি শুধুই তাদের? আমারও লজ্জা লাগে। কান লাল হয়ে যায়।

আমাদের দেশে একুশে ফেব্রুয়ারী মানেই বই মেলা, আর একদিন অথবা এক সপ্তাহের নাটক, আর সংবাদপত্রে কয়েকটি ক্রোড়পত্র। আর সারা বছর কোন কথাই বলা হয় না। গণিত, পদার্থ, বাংলা ইত্যাদির অলিম্পিয়াড হয়, আমাদের গৌরবউজ্জ্বল ইতিহাস নিয়ে কি একটা প্রতিযোগিতা হতে পারে না? একবার এক সাক্ষাৎকার পড়েছিলাম তারেক মাসুদের, তিনি বলেছিলেন এক স্বাধীনতা যুদ্ধ আর ভাষা আন্দোলন নিয়ে সারা জীবন ছবি বানালেও তা শেষ করা যাবে না। মুক্তি যুদ্ধ নিয়ে চলচিত্র হয়েছে, আরও হয়ত হবে। চোখ বন্ধ করে অনেকেই কয়েক্তা নামও বলে দিতে পারবেন। কিন্তু ভাষা আন্দোলন নিয়ে কয়টা ছবির নাম বলতে পারবেন? আমার নিজেই মনে পরছে না।

অনেককেই বলতে শুনি, globalization এর কারণে নাকি আমাদের সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। এর দোষ কি globalization এর? নাকি আমদের। আমার মনে হয় শতকরা নব্বই ভাগ দায়ভার আমাদের। মানুষ তাই দেখবে, তাই মনে রাখবে যা তাকে আপনি বার বার দেখাবেন বা শোনাতে পারবেন। হিন্দি গান, সিরিয়াল গুলো টিভিতে যতবার দেখান হয়, ততবার কি কোন বাংলা গান, নাটক দেখানো হয়? আমাদের দেশীয় চ্যানেল গুলতে যতক্ষণ বিজ্ঞাপন চলে ততক্ষণ সবাই হিন্দি চ্যানেল এর গান দেখে বলে আমার মনে হয়। এখন সময় এসেছে এগুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবার। অনেক কথা বলে ফেললাম। আর একটা কথা বলেই শেষ করবো।

কিছুদিন আগে বসুন্ধরা সিটিতে লিফটে করে উঠছিলাম। ৬ কিংবা ৭ বছর বয়সের একটি ছোট্ট ফুটফুটে মেয়ে তার বাব মায়ের সাথে এসেছে। লিফটে উঠতে উঠতে সে গাইছিল, why this kolaveri kolaveri di…. নামের একটি গান। আমি যখন মেয়েটির দিকে তাকিয়ে হাসলাম, তখন তার মা গর্বের সাথে বলল, তার chikni চামেলী গানটাও মুখস্ত। আমার ঠিকই লজ্জায় কান লাল হয়েছিল। কারণ, আমারও যে লজ্জা লাগে।