ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

ব্যাংককের শপিং ও ব্যবসার কেন্দ্রস্থল রাজপ্রাসং এলাকায়, যেখানে ১৭ আগস্ট একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরিত হয়, সেখানে ১৯৫৬ সালে ইরাওয়ান নামের হোটেল নির্মাণ শুরু হয়েছিলো। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কারণ কুসংস্কারাচ্ছন্ন শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যেতে অস্বীকার করেছিলো। শ্রমিকরা ভাবছিলো যে যায়গাটা অভিশপ্ত। তাদের এই ধারনা হয়েছিলো কারণ বেশ কিছু শ্রমিক কাজ করতে যেয়ে আহত হয়েছিলো এবং নির্মাণের জন্য মার্বেল বহনকারী একটি জাহাজ সাগরে ডুবে যায়। সমস্যা নিরসনে কর্তৃপক্ষ একজন হিন্দু পুরোহিতের সাহায্য নেয়। হিন্দু পুরোহিত এসে বলেন যে যেখানে হোটেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে তা অশুভ ও অভিশপ্ত। তিনি বলেন এই যায়গায় একটি মন্দির স্থাপন করা প্রয়োজন। যেহেতু হোটেলটি হিন্দু পুরাণের ইন্দ্রের হাতির নামানুসারে করা হয়েছিল, তাই পুরোহিত নির্দেশ দেন হিন্দু ঈশ্বর ব্রহ্মার মূর্তি গড়ার যিনি সৃষ্টি, অনুগ্রহ ও বদান্যতার প্রভু হিসেবে পরিচিত। কর্তৃপক্ষ পুরোহিতের প্রস্তাব মেনে নেয়। প্রভু ব্রহ্মার চার মুখবিশিষ্ট একটি মূর্তি স্থাপন করা হয় । শ্রমিকরা কাজে ফিরে আসে। হোটেলটি তৈরি হয় বিনা বাধায়। ১৯৯১ সালে মালিকানা পরিবর্তন হয়। বর্তমানে এই এলাকা গ্র্যান্ড হায়াত ইরয়ন কোম্পানীর অধীনে আছে।

ইরাওয়ান মন্দির ব্যাংককের মোটামুটি মুল কেন্দ্রে অবস্থিত। আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি শপিং সেন্টার। এলাকাটি ট্রাফিক জ্যামের জন্যও বিখ্যাত।১৭ আগস্ট বোমা বিস্ফোরনে মারা যায় ২৭ জন, আহত হয় ৮৭ জন। বিস্ফোরনের পর এলাকা জুড়ে ভাঙ্গা কাঁচ এবং মানব দেহের বিভিন্ন অংশ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পরে থাকে। ব্যাংককের ইতিহাসে এটা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। অতীতের প্রত্যেকটি বোমা বিস্ফোরনের ঘটনা রাজনৈতিক অস্থিরতার সাথে জড়িত ছিল এবং কোনটাই এতটা মারাত্মক ছিলনা। সর্বোচ্চ হতাহত নিশ্চিত করার জন্যই এই ব্যস্ত এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশী পর্যটকদের হতাহত করার লক্ষ্যও নিশ্চিত করা হয়। বোমাটি বেশ শক্তিশালী ছিল। বিস্ফোরণস্থল থেকে ৩০ মিটার দূরে এর ইলেক্ট্রিক সার্কিট পাওয়া গেছে। আফগানিস্তান এবং ইরাকে যে ধরনের বোমা হামলা চালানো হয় এটা সেই ধরনের বোমা ছিল যদিও মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদীরা যে ধরণের হামলা করে তার সাথে এই হামলার হামলার কোনও মিল নেই।

আগে থেকে চাপে থাকা সামরিক সমর্থিত সরকার আরও চাপে পরে যাবে এই হামলার কারনে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে ধুকতে থাকা পর্যটন খাত আরও বেশী ধুকতে শুরু করবে। ইনভেস্টার কনফিডেন্স কমে যাবে, ব্যাবসা বাণিজ্য কমে যাবে।

একটা লক্ষনীয় ব্যাপার হলো বিস্ফোরনের পর ব্যাংককে দৃশ্যত তেমন কোন বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। মন্দির খুলে দেয়া হয়েছে, ঢোকার মুখেও তেমন কোনও তল্লাশি চালানো হচ্ছেনা।এটা হতে পারে যে কর্তৃপক্ষ দেখাতে চাইছেন ব্যাংককের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।

এক নজরে ব্যাংককে এর আগে ঘটে যাওয়া বোমা হামলা গুলোঃ
২০১৫ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারীঃ সরকার বিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশের কাছে বোমা বিস্ফোরণে ১২ বছরের একজন বালক এবং ৪০ বছর বয়সী একজন মহিলা নিহত হয় এবং ২২ জন আহত হয়।

২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি: ব্যাংককের একটি ব্যস্ত শপিং মলে বোমা বিস্ফোরনের ঘটনায় ২ জন নিহত ও ২২ জন আহত হয়।

২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি: সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের একটি শিবিরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ২৮ জন আহত হয়। বিস্ফোরণটি ছিল দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সঙ্কটের ফলসরূপ একটি নিয়মিত সহিংসতার ঘটনা।

২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি: গ্রেনেড বহন করার সময় একঘরে এটি বিস্ফোরিত হয় এবং এতে গ্রেনেড বহনকারী এক ইরানী নাগরিক তার পা হারায় এবং আরও৪ জন আহত হয়।পরবর্তীতে পুলিশ ঐ বাড়িতে সি -৪ প্লাস্টিক বিস্ফোরক পায়, ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এই সহিংসতার পিছনে ইরানকে দায়ী করে।

২০১০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর: সন্ধ্যায় একটি আবর্জনার পাত্রের মধ্যে লুকিয়ে রাখা বোমা বিস্ফোরিত হলে তিনজন আহত হ য়।

২০১০ সালের ২৬শে আগস্টঃ ব্যাংককের কেন্দ্রে অবস্থিত একটি বন্ধ শপিং মলে বোমা বিস্ফোরনের ঘটনায় ১ জন আহত হয়।