ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

খোলপেটুয়া নদী ট্রলারের ঘট ঘট আওয়াজ তুলে এগিয়ে যাচ্ছিলো। আমরা তার থেকেও ৫০ফুট দুরুত্ব রেখে পিছু পিছু চলতে থাকলাম। অভাবনীয় ঘটনা । সুন্দরবনের কোল ঘেষে চলা একটি পূনার্ঙ্গ মৃত বাঘের মরদেহ নিয়ে এগিয়ে চলেছে বনকর্মীসহ টাইগার প্রজেক্ট ও পুলিশ সদস্যদের একটি দল।

ঘটনাটি এবছরের ১২ মার্চের ঘটনা। সাতক্ষীরা শ্যামনগরের গোলাখালি থেকে প্রথম খবরটি দেয় ফজলু নামের একজন। এরপরই একের পর এক খবর আসে বাঘ পাশের মালঞ্চ নদী পার হয়ে গোলাখালি গ্রামে ঢুকে পড়েছে। এটিএনের নিউজের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান বার্তা সম্পাদক মিশুক স্যার ব্যাস্ত ছিলেন নিজের কক্ষে স¤প্রচার বিভাগের যন্ত্রপাতি নিয়ে। ফোন করে বলি, স্যার বাঘ ঢুকেছে সুন্দরবন ঘেষা লোকালয়ে। উত্তরে: তুমি এখনও কেন বসে আছো। আমি একরকম ভ্যাবাচেকা খেয়ে দ্রুতই ‘জলে-জঙ্গলে’র দলটি গুছিয়ে নিলাম। বাজে রাত রাত ১০টা ৪৫ মিনিট। আবারো মিশুক স্যারের ফোন: ঢাকা ছাড়ো তাড়াতাড়ি। আমরা ঢাকা থেকে বেড়িয়ে পড়লাম।

অন্ধকারে পথ এগিয়ে যায়, আর কতো তাড়াতাড়ি পৌছাতে পারবো শ্যামনগরে সেই চিন্তাই করছিলাম, আর চোখের সামনে,ভেসে উঠছিল হাতে লাঠি-সোটা, কুড়াল-খুন্তি নিয়ে কিছু হিংস্র মানুষের মুখ। মিশুক স্যারের ফোন :কতদুর তোমরা ? :আমরা মাগুরা রাত বাজে তিনটা। এবার স্যারের মূল কথা ছিলো : গাড়ি দেখে চালাতে বলো । সুন্দরবনের গোলাখালি থেকে ফজলু জানায় বাঘটি জনৈক অরবিন্দ্রের গোয়াল ঘরে ঢুকে ছয়টি ছাগল খেয়ে ফেলেছে। আমি নিশ্চিত হলাম বাঘটি আর কোন ভাবে গোলাখালি গ্রাম থেকে বের হতে পারবে না। অদক্ষ বনকর্মী আর টাইগার প্রজেক্টের কর্মীরাও পারবে না জনগনের রোষানল থেকে বাঘের শেষ নিশ্বাস ধরে রাখতে।

আমাদের গাড়ি ততোক্ষনে মাগুরা পার হয়ে গেছে। সহযোগী রোমেল ও আমি, কারও চোখেই ঘুম নেই। গাড়ি চালক আসাদ বুঝতে পারে আমাদের কাজটি একটু বেশিই জরুরী। সে গতি একটু বাড়িয়ে দেয় আমাদের বুঝতে না দিয়েই। হটাৎ ফোন :ভাই বাঘটি মারা পড়েছে। বনবিভাগের কর্মীরা আসতে দেরী করাতে লোকজন আর সময় নেয়নি। তার কথা শেষে অন্ধকারেই একে অপরের মুখ দেখাদেখি করলাম। একটু চা খেতে হবে জায়গা দেখে গাড়ি থেকে নেমে পড়ি। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলি আমরা এখন কি করবো ? মিশুক স্যারকে ফোন দেবো কিনা ভাবছিলাম । ফোন দিতেই স্যার বললেন :বোকার মতো প্রশ্ন করছো কেন। এগিয়ে যাও।

গাড়ি আবার ছোটে। চলার পথেই জানতে পারি বনবিভাগের লোকজন রাতারাতি বাঘের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যেতে চায়। ফোনে বনকর্তাদের অনেকভাবে অনুরোধ করলাম, মৃত বাঘটি কিছু সময়ের জন্য রাখতে, আমরা কিছু ছবি নেবো। তারা রাখবেন কিনা জানিনা তবে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বনকর্তা জহিরউদ্দীন ও এসিএফ তৌফিকুল আশ্বাস দিলেন। সকাল ছয়টা, দিনের আলো ফুটছে।

মিশুক স্যারের ফোন। সব শুনে তিনি বললেন :বাঘটি ঘটনাস্থল থেকে নিতে বারণ করো এবং শেষ পর্যন্ত দেখো বাঘটি নিয়ে তারা কি করে? স্যার বলে যান আর আমি ভাবি, মিশুক স্যার কি রাতে ঘুমাননি? মানুষটা এমন কেন? বন বিভাগের অদক্ষতা, এলাকাবাসীর বাঘ হত্যা আর আমাদের প্রতিকুল যাত্রাপথ নিয়ে তিনিও যে অনেক চিন্তিত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এতো আন্তরিক ও দায়িত্ব সম্পন্ন মানুষ আমার কর্মজীবনে আর একটিও দেখিনি। অফিস থেকে বের হবার সময় বলেছিলেন লেপেল মাইক্রোফোন, ক্যামেরা-ব্যাটারী, ল্যাপটপ, লাইটস এসব নিয়েছি কিনা।

সকালের ঠান্ডা বাতাস সরিয়ে দিয়ে গাড়ি দ্রুত এগিয়ে যায়। আর ঘন্টা খানেক লাগবে। সকাল সাতটা আমরা তখন সাতক্ষীরা অতিক্রম করছি। এসিএফ সাহেব কথা দিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু ঘটনা স্থলে পৌছে দেখি গোলাখালি গ্রাম থেকে মৃত বাঘটিকে নিয়ে বন বিভাগের দলটি ট্রলারটি ছেড়ে দিয়েছে। শ্যামনগরের ফজলু ও সাংবাদিক সালাউদ্দিন বাপ্পীর আগে থেকে ঠিক করা ট্রলারে উঠেই ছুটতে থাকলাম বাঘের মরদেহ বহন করা ট্রলারের দিকে। এক সময় ট্রলারটি একটি দুরুত্ব রেখেই পেয়ে যাই। বাঘের মৃতদেহ বহনকারী ট্রলারটির গন্তব্য কলাগাছি বন অফিসে। গত সাত বছরের মধ্যে পিটিয়ে হত্যা করা আরও তিনটি বাঘ মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে কলাগাছি বন অফিসেই। বনবিভাগ মিডিয়াকে এড়িয়ে তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যাচ্ছিলো কেন? প্রশ্নটি এখনও মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে ।

এর মাঝেই মিশুক স্যারের ফোন: কোথায় তোমরা? ফেলে আসা বিস্তারিত ঘটনা বলে চললাম । স্যার সব শুনে বললেন: ‘তুমি সংবাদের পিছনে না, সংবাদই তোমার পিছু পিছু ছুটছে’। ঘন্টাখানেক খোলপেটুয়া নদীর পানিতে ঘট ঘট শব্দে ট্রলার এক সময় থেমে যায় কলাগাছি বন অফিসের কাঠের জেটিতে। রোমেল আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলো। আমাদের সামনে বেশ দুরত্বে বাঘ বহনকারী ট্রলারটি চলতে থাকায় মৃত বাঘটি তখনও আমাদের চোখে পড়েনি। এবার কাছে যেতে চোখে পড়লো। আর চোখে পড়তেই ধক্ করে উঠে হৃদপিন্ড ! এত বড় একটি বাঘ !! চকচকে ডোরাকাটা দাগ আর নেই। মালঞ্চ নদীর তীরে পিটিয়ে হত্যা করা বাঘটির সারা গায়ে কাদা মাখা। মাথায় জমাট বাধা কালো রক্ত। চোখের সামনে এভাবে বাঘটিকে পড়ে থাকতে দেখে বুকটা শুন্য হয়ে গেলো। মৃত বাঘটিকে সামনে রেখে উপস্থিত সকলে একটা পর একটা ছবি তুলতে থাকলো। হাজার হলেও ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’।

মিশুক স্যারের কথা মনে পড়ে: সংবাদ তোমার পিছনে ছুটছে। মাটিতে রাখা বাঘটির কাছে গিয়ে নিজেকে শক্ত করি। ৭ ফুট ১০ ইঞ্চি বন্য বাঘটির দৈর্ঘ্য মেপে জানালো বনবিভাগের এক কর্মী। চারপাশে একবার চোখ বুলালাম। শ্যামনগর থানার ৭/৮ জন পুলিশ সদস্যসহ উপস্থিত প্রায় ৩০ জন আমরা মৃত বাঘটি দেখছি। বনবিভাগ কর্মকতা তৌফিকুল ইসলামের সাথে চোখচোখি হলো; আমাদের দেখে তার ভুরু একটু কুঞ্চিত! আমিও তাকে অল্পতেই বুঝাতে পারলাম, আমরা যা দেখছি তাই সংবাদে প্রচার করবো এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। কিন্তু কি কারনে আমরা তাদের বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছি বুঝতে পারছি না। সাতক্ষীরা সুন্দরবন এলাকাতে বাঘ মারা গেলে একজন পশু চিকিৎসক বাঘের পোষ্টমোর্টেম করতে আসেন। এ পর্যায়ে ডাক্তার অনুপস্থিত। জানলাম ডাক্তার সাহেব আসছেন। রোমেল ক্যামেরায় মৃত বাঘটির ডিটেইল ছবি নিতে থাকলো। ভিডিওতে দেখা যায় এর আগেও শ্যামনগরের দুটি বাঘ হত্যার সময় গামছা দিয়ে চোখ-মুখ বাঁধা ৪/৫ জনের একটি দল বাঘ হত্যা উৎসবের সামনের কাতারে থাকে। তারা অন্যদের বাঘ মারতে ইন্ধন জোগায়। বলা যায় তারা বাঘ হত্যার প্রধান ‘উষ্কানীদাতা’।

এর মধ্যে ডা. স্বপন কুমার রায় একজন পশু চিকিৎসক এসে জানালেন বাঘটির বয়স ছিলো আনুমানিক বারো থেকে তেরো বছর। এটি স্ত্রী বাঘ (বাঘিনী)। ক্ষয়ে যাওয়া বাঘটির দাঁত দেখে ডাক্তার সাহেব জানালেন বাঘটি তার খাদ্য সন্ধানে লোকালয়ে চলে এসেছে। সবাইকে দুরে সরিয়ে দিয়ে ডাক্তার সাহেব বললেন বাঘটির পোর্ষ্ট মোটেমের কাজ শুরু করতে। আগে থেকে চাকু হাতে দাড়িয়ে থাকা একজন আরম্ভ করলেন চামড়া ছিলার কাজ।

বাঘের চামড়া ছিলা-চারটি খানি কথা নয়। ডোরাকাটা এই চামড়ার রাজকীয় মহিমা দেখেই ইংরেজ আমলে এদের নাম রাখা হয় ’রয়েল বেঙ্গল টাইগার’। ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’ সহ সারা বিশ্বে ডোরাকাটা বাঘের সংখ্যা কমে আজ ৩২০০। ২০০৪ সালে একটি জরিপ থেকে বেড়িয়ে আসে আমাদের সুন্দবনের বাঘের সংখ্যা ৪৪০ টি। সরকারী হিসেব অনুসারে ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল অর্থাৎ গত সাত বছরেও সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা এক জায়গাতেই স্থির হয়ে আছে। বনবিভাগের নথি অনুযায়ী ২০০৪ থেকে ২০১১ পযর্ন্ত ১৬টি বাঘ বিভিন্ন কারনে মারা গেছে। ষোলটি বাঘ বাদ দিয়ে সরকারী সে হিসেবে ৪৪০টি বাঘের সংখ্যা বর্তমানে ৪২৪টিতে নেমে আসার কথা ছিলো। কিন্তু সাত বছরে বাঘের সংখ্যা কমেও না বাড়েও না !! কেন বাঘ গণনা হয় না এমন প্রশ্নে সারাসরি উত্তর বন কর্তাদের বন বিভাগের টাকা পয়সা নাই।

যাই হোক, রাজকীয় চামড়া খুলে ফেলে বাঘের মাংসপিন্ডের পাশেই মেলে রাখা হলো চামড়াটি। এবার কিছুটা বুঝা গেলো কি নির্মমভাবে ছয়টি ছাগল হত্যার দায়ে বাঘটি পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘাতকদের কি হবে এমন উত্তরে তৌফিক সাহেব বলেন বন্যপ্রাণী হত্যা আইন অনুসারে ঘাতকদের চরম শাস্তি প্রদান করা হবে। চামড়া খুলে ফেলার পর, পড়ে থাকা মাংসপিন্ডের কাছে সকলেই এগিয়ে আসলেন। কেটে ফেলা পুরো লিভারটি নিয়ে ডাক্তার সাহেব বললেন দেখুন এটাতে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন রয়েছে। বলেই ডাক্তার সাহেব কেটে ফেলা লিভারটি তার সঙ্গে আসা সহযোগীর ব্যাগে রাখলেন। সবাই এক নয়নে তাকিয়ে আছে ডাক্তার সাহেবের দিকে। এবার ফুসফুস কেটে নিয়ে ডাক্তার বললেন ’ এটা হলো ফুসফুস এটাও নেকরোসিস’ হয়েছে। বলেই ফুসফুসটি ব্যাগে রাখলেন। হটাৎ মনে পড়লো মিশুক স্যারের কথা : সংবাদ আমার পিছনে ছুটছে। প্রশ্ন করেই বসলাম :কেন বাঘের ফুসফুস ব্যাগে নিলেন? উত্তর: এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। রোগ নির্নয়ে এসব অঙ্গ-প্রতঙ্গ পরীক্ষাগারে ঢুকানো হবে। ডাক্তার থেমে থাকলেন না বাঘের নিতম্বের প্রায় কেজি দুয়েক মাংসও কেটে নিলেন। এটা কেনো ? উত্তরে এটাও নাকি পরীক্ষার জন্য । আমি ভীষন অবাক হলেও কাউকে বুঝতে দিলাম না।

এর মাঝেই প্রায় আট ফুট একটি গর্ত করেছে দুইজন বনকর্মী । হটাৎ চাপা সরগোল, ভাই অমাকে লেজ থেকে আমাকে মাথা থেকে, মাথা ঘুরাতেই দেখি এক অন্যরকম দৃশ্য। আমি প্রায় পলক না ফেলেই দেখতে থাকি চুপিসারে কেউ কেটে নিচ্ছে লেজ কেউ মাংসপিন্ড কেউ আবার নাভির অংশ। আর সবাই মাটিতে ফেলে রাখা বাঘটিকে ঘিরে রেখেছে যাতে বন কর্তাও চোখে না পড়ে। আমি দুরে সরে থাকা বনকর্তার দিকে তাকিয়ে দেখি আসলে তিনি সবই দেখছেন। অন্যদিকে যারা বাঘের অঙ্গ-প্রতঙ্গ ও মাংস সংগ্রহ করছে তাদের মধ্যে আগত সকল পুলিশ সদস্য বনকর্মী এমন কি টাইগার প্রজেক্টের কোন কর্মীও বাদ পড়েনি এই মাংস নেওয়া থেকে। আমাকে একজন চুপিসারে বলার চেষ্টা করলো ভাই আপনার একটু মাংস লাগবে কিনা। আমি হেসে বলি আমি নিয়ে কি করবো।রোমেলকে কিছুই বলতে হয়নি। ঘুমহীন চোখে সে ক্যামেরা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ছবি নিতে থাকে, বাঘের অঙ্গ-প্রতঙ্গ ও মাংস লুটপাটের দৃশ্য।

লোকটি পেশায় একজন ট্রলার চালক হলেও আমাকে একটু বলার চেষ্টা করলো । বাঘের মাংস আমার বউ নিতে কইছিলো এছাড়া বাঘের এই মাংস দিয়ে সব রোগ সারানো যায়। কিভাবে রোগ সারানো যায় প্রশ্নের উত্তরে: এগুলো রোদে শুকিয়ে গুড়া করে অনেক দিন সংরক্ষন করে রাখা যায়। অল্প অল্প করে দুধের সাথে খাইলে অনেক শক্তি পাওয়া যায়। ট্রলার চালক আরও একটি সত্যি কথা প্রকাশ করলেন, আমি তো অল্প পাইলাম ওরা যে পরিমানে নিছে তাতে অনেক টাকা লাভ হবে। এক কেজি মাংস প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। অনেক কবিরাজ এই মাংস কেনার জন্য সারা বছর তাকায়ে থাকে। সারা বছর তাদের রোগ সারাতি হয় না ! বাঘ তো আর সব সময় মরে না। কথা বলতে বলতেই এবার দেখলাম বাঘের গায়ে কোন মাংস আর নেই। মিডিয়াকে দেখে একটু খাকিয়ে উঠলেন তৌফিক সাহেব। এ কাজ কে করলো? কিন্তু কে দেবে এই প্রশ্নের উত্তর। সবার পকেট ও ব্যাগে লিভার, ফুসফুস, মাংস সবই তো চোখের সামনেই লুট হয়ে গেলো। সে মূর্হুতেই ব্যবসা হয়ে গেলো প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা। এই প্রশ্নের উত্তর কি ? এমন প্রশ্নের উত্তরের আশা না করে, চেয়ে চেয়ে দেখলাম শুধু বাঘের কংকাল দুজন টেনে হেচড়ে নিয়ে পাশের আট ফুট গর্তে ফেলে দিলো।

ছাগল হত্যার দায়ে নিহত বাঘটি যে ছাগল খেয়ে ফেলেছে তার কি কোন প্রমান আছে ? আমার কথায়, শোনে ডাক্তার বললেন পাকস্থলী ফুটো করে দাও। ফুটো করে দিলে দেখা যায় ভিতরে শূণ্য ! ছাগল তো দুরে থাক এক মুঠো খাবারও নাই। ফুস করে বাতাস বের হলো, আর কিছুই না। শূন্য পেটে হন্য হয়ে ঘুরে বেড়ানো রয়েল বেঙ্গল টাইগার, আজ লোকালয়ে এসে নির্মমতার শিকারে মাটি চাপা পড়লো। অনেক শক্ত পক্ত করেই মাংসহীন কংকাল পুতে রাখা হলো। বাঘের জীবন অবসান ও সেই সাথে মাটি চাপার দৃশ্য দেখে ফেলার কারনে অন্য কয়েকজনের মতো আমাকেও সরকারী ইতিহাসের পাতায় স্বীকারোক্তি দিতে হলো। তাতে লেখা রয়েল বেঙ্গল টাইগার সঠিক ভাবেই ‘চিরানিদ্রায়িত’ হয়েছে। আমি ঠিকই স্বাক্ষর করলাম কিন্তু ভিডিও টেপে থেকে গেলো বাঘ মাটি চাপা দেওয়ার ‘প্রকৃত এক মানসিক বিকৃতির ইতিহাস’। সেই সাথে মিশুক স্যারের কথা মনে পড়ে ’সংবাদ তোমার পিছু ছুটবে, যদি সততায় এগিয়ে যাও’।

এই লেখার বেশিরভাগ অংশ ছাপা হয়েছে সমকাল’ পত্রিকায়।