ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
12_Khaleda+Zia_050115_0003

আমাদের দেশের রাজনীতি গত কয়েকদিন যাবৎ বেশ টালমাটাল । আমাদের দেশের এই গভীর অন্ধকার রাজনীতির গুহার শেষ যে কোথায় তা বোধ হয় ভাল ভাবে কোন নাগরিকেরই বলা সম্ভব নয় । আজ আমাদের দেশের রাজনীতি শুধুই ক্ষমতা কেন্দ্রীক অর্থাৎ আমাদের দেশের রাজনীতিজীবীদের রাজনীতি শুধুই ক্ষমতার জন্য । ক্ষমতার বাহিরে বা ক্ষমতার বিকল্প অন্য কিছুই ভাবা আমাদের রাজনীতিজীবীদের পক্ষে আদৌ সম্ভব না । আর আমাদের দেশের রাজনীতিজীবীদের ক্ষমতার প্রতিযোগিতার বলির পাঁঠা হলাম আমরা বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। আমাদের দেশের রাজনীতিজীবীদের ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এক রূপ আর ক্ষমতার বাহিরে থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণ তার উল্টো ।

যাই -ই হোক, আমি এতটুকুতে যতটুকু বকবাস করেছি তা সবারই জানা । আমাকে গত দুই দিন যাবৎ যে বিষয়টা ভীষন ভাবে পীড়া দিচ্ছে তা হলো অতি সম্প্রতি সময়ে আমাদের দেশের বৃহৎ বাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা বিএনপির সভা নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সরকারের বৈরি আচরণ একটি স্বাধীন গনতান্ত্রিক দেশে তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও দুই বারের বিরোধী দলীয় নেতার প্রতি এমন আচরন কোন সভ্য সমাজ গ্রহন করতে বা সহ্য করতে পারে বলে আমি মোটে ও বিশ্বাস করতে পারিনা। যেমনটি পারার কথা ছিলনা একুশে আগষ্ট ২০০৪ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলার বিষয়টা। কিন্তু আমরা বাঙালি জাতি ক্রমেই দূর্বল হয়ে পড়ছি আমাদের প্রতিবাদী মনোভাব দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তার কারন হিসেবে অনেক মনে করে থাকেন আমাদের বর্তমান রাজনীতিজীবীদের রাজনীতিতে দেউলিয়াপনাই ।

ক্রমানয়েই আমাদের রাজনীতিজীবীরা রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হতে বসেছেন তা প্রমান আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে পেয়েছি। কিন্ত গত কয়েক দিনে তা আরো ভাল ভেবে ফুটে উঠেছে । সরকারিদলের দেউলিয়া প্রমান পেয়েছি বিরোধী দলকে সভা সমাবেশ না করতে দিয়ে বেগম জিয়াকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি তার দলের নেতা কর্মীদের মামলা ও গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আর বিরোধীদল তথা বিএনপির দেউলিয়ার প্রমান জনবিরোধী জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচীর মাধ্যমে জনজীবনে আতংক ও দুর্ভোগ সৃষ্টি করে । বিএনপি তার চেয়েও রাজনীতিক ভাবে বড় দেউলিয়ার প্রমান দিয়েছে দেশের মানুষের মর্যাদার কথা চিন্তা না করে দেশের মানুষের কাছে নিজেদের বিদেশী প্রভূদের বড় গোলাম প্রমান করতে চেয়ে । বাংলাদেশের মালিক বাংলাদেশের সাধারন জনগন। আর তাই বলা হয়, জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস। কিন্তু আমাদের রাজনীতিজীবীরা মুখে এ কথা স্বীকার করলেও অন্তরে তাদের বিশ্বাস ভিন্ন। আর তাই সব সময়ই তারা দেশের মানুষের কথা না ভেবে তাদের বিদেশী প্রভুদের খুশী করতে যা যা করনীয় তা করতে দেশ ও জাতীর স্বার্থ জলাঞ্জলি দিতে মোটে ও কূন্ঠা বোধ করেন না। তার ই প্রমান যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসম্যানদের স্বাক্ষর ‍জাল করে বিএনপি নেতার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসম্যানদের মিথ্যা বিবৃতি প্রকাশ ও ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহর খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেয়ার মিথ্যা ফোনালাপ । বিএনপিতে আজ কোন নূন্যতম বিবেকবুদ্ধি ও বোধ সম্পন্ন লোক আছে বলে আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় । কোন বিবেক বুদ্ধি ও বোধ সম্পন্ন লোকের জাতির সাথে এহেন মিথ্যা বলা কখনই সম্ভব নয় । তাই আমার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, কোন স্বার্থে এবং কার স্বার্থে বিএনপি জাতির সাথে এত বড় মিথ্যার ও প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে আর্ন্তজাতিক ভাবে আমাদের লজ্জা ও হাসির পাত্রে পরিনত করল?