ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

স্বায়ত্ত্বশাসন থেকে স্বাধীকার আন্দোলন এরই চুড়ান্ত পরিণতি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মহান ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত ও আড়াই লক্ষ বীর জননীর সম্ভ্রম এর বিনিময়ে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশের আজকের অবস্থা পিচ্ছিল পথে যে বাঙলাদেশের জন্ম তার আজকের অবস্থার সঠিক চিত্র সত্যিকরের হতাশা ও ব্যঞ্জনার যে চেতানা বা লক্ষ্য নিয়ে আমাদের সোনার বংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল তা কালের পরিক্রমায় শুধুই বিলাপে পরিনত হয়েছে । যুগ যুগ ধরে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চেতনায় উৎবুদ্ধ হয়ে অকাতরে নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিতে মোটেও কুন্ঠা বোধ করেনি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূলচেতনাই ছিল একটি গনতান্ত্রীক মূল্যবোধে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র । সত্যিকার অর্থে কি স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সেই মূল চেতনার কোন প্রতিফলন আমরা ভোগ করতে পেরেছি? আজও কি আমাদের দেশে গনতন্ত্র নামক সোনার হরিণের দেখা আমরা পেয়েছি? স্বাধীনতার পর থেকেই শাষক গোষ্ঠী নিজেদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ি করার জন্য যে যেভাবে পরেছে আমাদের গনতন্ত্রকে হত্যা বা ধ্বংস করতে মোটে ও কুন্ঠাবোধ কেনি ।স্বাধীন বাংলার স্হ্যপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যিনি জীবনের অধিকাংশ সময়ই বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা ও গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন তিনিই স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীর ক্ষমতা ভার গ্রহনের পর নিজের ক্ষমতাকে পাকা পোক্ত করতে বিরোধী মতবাদকে ধ্বংশলীলায় পরিনত করতে কুন্ঠাবোধ করেননি। ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধ ফেরত এবং সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মীদের দিয়ে গঠিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) উপর অত্যাচার তারই নজির!

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীবলে বহুদলীয় সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবং দেশের সমগ্র রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে বাকশাল নামক একক রাজনৈতিক দল গঠন করে বাংলাদেশের গনতন্ত্রকে চিরতরে হত্যার প্রথম অধ্যায় রচনা করা হয়। এরই ফলশ্রতিতে ১৯৭৫ সালে ঘটে যায় বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কলংকময় ও ঘৃনিত অধ্যায়। ১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জীবন দিতে হয় প্রায় স্ব-পরিবারে। এরই ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের গনতন্ত্র ধাবিত হতে থাকে গভীর অন্ধকারে। ক্ষমতার লোভে আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর চরিত্র ও হয়ে উঠে হিংস্র। একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থানে রক্ত নদীতে পরিনত হয় আমাদের সেনানিবাস। এরপর থেকে আমাদের ঘাড়ে পরে বসে সামরিক আইন নামক দানব। যদিও পরবর্তীতে, ১৯৭৮ সালে, সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুন:প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিনে কিন্তু সেটা ও ছিল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার একটা বন্দোবস্ত।

পরবর্তীতে আমাদের গনতন্ত্রের ভাগ্য নিয়ে চলে একের পর এক নাটকীয়তা গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নামে আন্দোলনের নাম করে ফুঁসিয়ে দেওয়া হয় এদেশের আপামর জনসাধারনকে সেলিম, দেলোয়ার, নুর হোসেন, ফাত্তাসহ কতই না যুবককে ১৯৯০ শেষ দিকে পতন ঘটে বাংলাদেশের অন্যতম স্বৈরশাষক এরশাদের। এরপর আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখে শুরু করে বাংলাদেশের গনতন্ত্রপ্রেমি জনগন কিন্তু মুহূর্তেই আমাদের গনতন্ত্রের নতুন স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিনত হতে থাকে ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে বসে তৎকালীন শাষক গোষ্ঠি বিএনপি। যদিও তারা গনতন্ত্রের দোহাই দিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্টিত হয়েছিল কিন্তু তারা ও ক্ষমতা চিরস্থায়ি করার জন্য গনতন্ত্রকে ধ্বংস করতে মোটে ও কুন্ঠাবোধ করেনি এরই সাথে আমাদের দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষ বৃক্ষ ডালা-পালা গজাতে শুরু করে আর সেই প্রতিহিংসার বিষবৃক্ষ আজ সমগ্র জাতিকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে নিয়ে এসেছে। তারই ফলশ্রুতি ২১শে আগষ্ট ২০০৪ এর তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা। আমাদের ক্ষমতা ধর রাজনীতি জীবিদের আজ মূল দোহাই হল সংবিধান। সংবিধান রক্ষার মায়া কান্না তারা সব সময়ই অস্থির কিন্তু যে সংবিধান আমাদের মৌলিক অধিকারের জন্য করা আদৌ কি আমাদের সেই মৌলিক অধিকার রক্ষার বিন্দু মাত্র পদক্ষেপ নিয়েছেন কোন শাষক গোষ্ঠি?

আমাদের হীন রাজনীতিজীবীরা তাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য বার বার সংবিধানের বুকে ছুরি চালিয়ে জনগনের জন্য মৃত সংবিধান ও মৃত গনতন্ত্র রক্ষার মায়া কান্না কি ভাবেই না কেঁদেছেন। তাদেরই মায়া কান্নার শিকার হয়ে কত মায়ের বুকই না খালি হয়েছে! আজ বাংলাদেশের গনতন্ত্র মৃত। রাজনৈতিক বিরোধী শক্তির স্থান গুম হয়ে হয়ত কোন নদীর বক্ষ নয় তো জেলের লাল দালান। সংবাদ পত্র বা সংবাদ মাধ্যমকে শাষক গোষ্ঠির গলা চেপে ধরার অভিলাষ ।

আজ বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেত্রী বাংলাদেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও দুই বারের সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী তার কার্যালয়ে পুলিশ ও ইট, বালির ট্রাকে অবরুদ্ধ তার দলের নেতাকর্মীরা কেউ জেলের লাল দালানে, কেউ আত্মগোপনে আবার কেউবা হরতাল অবরোধের নামে নৈরাজ্যে ব্যস্ত । এক দিকে সরকার তাদের বিরোধীদের সভাসমাবেশ করেছে নিষিদ্ধ অপর দিকে নিজেরা আইনে বৃদ্ধা আংগুল দেখিয়ে সমাবেশের নামে রাজনৈতিক নোড়াংমিতে লিপ্ত হয়েছে । আমাদের রাজনীতি জীবিদের রুচি যে ক্রমানয়ে ধ্বংস তারই প্রমান গত কালকের সহরাওয়ার্দি উদ্যানের জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর অশালীন বক্তব্য । আজ আমাদের দেশে গনতন্ত্র শুধুই মরিচিকা গনতন্ত্র আমাদের কাছে আজ শুধুই একটা স্বপ্ন । মৃত আমাদের গনতন্ত্র । আমাদের গনতন্ত্র আজ শবযাত্রার পথিক ।