ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

” এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম , এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম ” জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানে সেই চির স্বরনীয় অমর বানী । ৭ ই মার্চ ১৯৭১ তৎকালীন রেইস কোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণের সেই বানী বা ডাক যে ডাকের উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে সমগ্র বাংগালী মুক্তির সংগ্রাম তথা স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাপিয়ে পরেছিলেন । আজ ২৬শে মার্চ আমাদের জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জনের একটি দিন আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস । আমাদের স্বাধীনতার দীর্ঘ চৌচল্লিশ বছর পর এসে ও আমাদের স্বাধীনতা আজ ও আমাদের কাছে বার বার হচ্ছে অর্থহীন বার বার শুধুই একা প্রশ্ন স্বাধীনতার দীর্ঘ চৌচল্লিশ বছর পর এসে ও আমরা কি পালেম ? আমারা বাংলাদেশীরা নানা ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময় দুই শতাব্দীতে দুই ,দুই বার স্বাধীনতা পেয়েছি এই দুবার স্বাধীনতায় আমরা কী পেয়েছি?

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্যই ছিল শোষন মুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা বৃটিশ ও পাকিস্হানীরা আমাদের যে ভাবে শোষন ও শাসন করেছে স্বাধীনতার দীর্ঘ চৌচল্লিশ বছর পর এসে ও কি আমারা আমাদের স্ব-জাতীয় শাষক গোষ্ঠীর চরিত্রের কোন ভিন্ন রুপ দেখেছি ? প্রথমে বৃটিশ শাষক গোষ্টি আমাদের ভগ্য নিয়ে তামশা করেছে পরে পাকিস্হানীরা । শুনেছি পশ্চিমার নাকি আমাদের ভগ্য চুরি করে পাচার করে ওরা ধনীতে রুপান্তরিত হয়েছে । আমাদের ভগ্যকে ওরা নাকি সব পশ্চিমে পাচার করে দিয়েছে ? স্বাধীনতার দীর্ঘ চৌচল্লিশ বছর পর এসে ও আজ স্ব-জাতিদের দ্বারা আমাদের ভাগ্য পাচার হচ্ছে পশ্চিমা দেশে ই ঘুষ আর দূর্নীতির টাকার পশ্চিমের কোন দেশেই সম্পদের পাহাড় গড়ছে আমাদের স্ব-জাতিয় শাসক ও শোষক গোষ্ঠী কতই না পরিতাপের বিষয় ! দুবেলা দু’মুঠো ভাত , স্বাস্হ্য ,শিক্ষা আর নিরাপদে একটু মাথা গোজার ঠাই সামন্য এত টুকু দাবী আর স্বপ্ন নিয়েই বার বার স্বাধীনতার সংগ্রমে ঝাপিয়ে পরেছিল আমাদের অগ্রজেরা । কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ চৌচল্লিশ বছর পর এসে ও সেই স্বপ্নের নাম মাত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? বরং আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের অত্যাচার বৃটিশ ও পাকিস্হানি শাষকদের অত্যাচারকে হার মানিয়েছে ! বুলেটের গুলির ভয়ে আজ আর কেউ মিছিলে যেতে চায় না , গ্রেনেটের ভয়ে আজ আর কেউ সভা সমাবেশে আসতে চায়না গুমের আতংকে মেধাবী তরুন আজ আর রাজনীতি নাম লেখাতে চায় না তথাকথিত নেতার ভয়ে থানার বড় কর্তা আজ আর সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করতে আগ্রহ দেখায় , ধর্মীয় সংখ্যাগুরুদের ভয়ে সংখ্যালঘুরা রাতে নিজ ঘরে ঘুমাতে পারে না নারী যেখানে পুরুষের ভয়ে সন্ধ্যারপর ঘর থেকে বের হয়না, ধর্মীয় উগ্রবাদী তথা মৌলবাদীদের চাপাতির ভয়ে মুক্ত বিবেক বা মুক্ত চিন্তার মানুষ গুলি আজ যেখানে নির্বাক তা হলে আমরা কী পেলাম স্বাধীনতায়?