ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আমার গত কালের লেখা ” বর্ষবরণে বস্ত্রহরণ ” যার শিরোনামে ই সবাই বুঝতে পেরেছেন আমার ঐ লেখার মূল উদ্দেশ্য ও বিষয় টা কি ছিল । তার পর চাই নি এ নিয়ে আর কিছু লিখতে জানি আমি বা আমরা ব্লগে বা ফেইসবুকে যা ই লিখছি তার মোটে ও কোন উপযোগিতা নেই এই প্রতিবাদ বা ক্ষোভ কারো কাছেই পৌছবে না মাত্র গুটি করেক ব্লগার বা ফেইসবুকে কিছু বন্ধু বা অনুসারীরা ছাড়া কেউ এব্যাপারে কোন কর্ণপাত ই করবেন না আর আমাদের মত অর্ধ শিক্ষিতের কথা ব্লগ বা ফেইসবুকে ও কেউ পড়ে না কারন বর্তমান সমাজে সেলিব্রেটি না হলে তা কোন কিছুতেই মূল্য নাই । যেমন টি বলা হয় গরীব ও নারীর মূল্য নাকি বাংলাদেশের কোথাও নাই । হয়তো আমার এই উক্তিতে অনেকেই ক্ষেপে যাবেন বলবেন আমি নারীদের বা গরীব মানুষ কে হেয় করার জন্য ই বোধ হয় এই উক্তি করেছি । সত্যিকার অর্থে আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটাই বাস্টব সত্য ।

এবারের বাংলা নববর্ষ আমাদের সমগ্র জাতিকে এটা লজ্জিত ও কলংকিত করেছে । একাত্তরের মুক্তি যুদ্ধের পর এভাবে আমাদের মা বোনদের ইজ্জত নিয়ে মসকরা করা সাহস আর কেউ পেয়েছে বলে আমার মনে হয় না এ ঘটার আজ পাঁচ অতিবাহিত হলো এসময়ের মধ্যে আমাদের প্রশাসন এর কোন সুরাহাই করতে পরলো না বরং এ নিয়ে শুরু করছে বিভিন্ন তামশা যা আমাদের জাতিকে আরো লজ্জিত করেছে । কোন তদন্ত ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলে দিলেন ” যারা এঘটনা ঘটিয়েছে তারা সবাই বহিরাগত ” সেই সাথে উপাচার্য মহোদয় আরো বললেন কোন ভাবেই এ গটনার কোন ছবি বা ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা যাবে তাতে নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান সম্মান সব নষ্ট হবে । কথাটা যদিও হাস্যকর উপাচার্য মহোদয়র কথা চলে আসে যাদের মান-সম্মান বলতে কোন শব্দ ই নাই সে খানে মান সম্মান যাওয়ার তো প্রশ্ন ই আসেন । তো উপাচার্য মহোদয় আপনি হঠাৎ করে এতটা সম্মানী কিভবে হলেন? হাস্যকর বক্তব্য পাওয়া গেল আমাদের পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে ও ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার সমগ্রদেশ যেখানে সরব সেখানে বর্তমান সরকারীদল ও তাদের মহাশক্তি শলী ছাত্র সংগঠন পুরোপুরি নিশ্চুপ যদিও একই দিন জগন্নাথ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল ছাত্রলীগ। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় অনেক গুঞ্জন থাকলেও সুনির্দিষ্ট করে এখনও ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার প্রমাণ সামনে আসেনি। কিন্তু কেন জানি সরকার ,প্রশাসন , বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ ও কিছু সংবাদ মাধ্যম এ ঘটনা নিয়ে লুকোচরি করছে তারা কি যেন ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে । মাঝে মাঝে আমার খুব দুঃখ হয় ও লজ্জা হয় কিছু সংবাদ মাধ্যম ও সংবাদ কর্মীর জন্য আর সম্ভবত এ ধরনের সংবাদ মাধ্যম ও সংবাদ কর্মীদের জন্য ই শামীম ওসমানেরা সংবাদ কর্মী তথা সাংবাদিকদের কুকুরের সাথে তুলনা করতে কুন্ঠাবোধ করা না ।

৭১ টেলিভিশন তাদের সংবাদে এ ঘটনার একটা সিসিটিভির ফুটেজ জাতির সমানে প্রচার করেছে যা নিয়ে চরম বিতর্ক আছে ৭১ টেলিভিশনের সাংবাদিক ফারজানা রুপা তার রিপোর্টে সত্যিকার সত্যকে ধামাচাপাদেয়ার যথেষ্ট চেষ্টা করছেন যা সাংবাদিক হিসেবে তার কাছে দেশবাসির কাময় নয় কারন একজন আদর্শ সাংবাদিকের কাজই হলো তার রিপোর্টের মাধ্যমে জনগনের সামনে আসল সত্য তুলেধরা কিন্তু জাতি হিসেবে আমারা এতটা হতভাগা যে আমরা সব সময় ই আসল সত্য থেকে অবস্হান করি অনেক দূরে ! বর্তমান দেশের প্রধানমন্ত্রী সংসদে স্পিকার সংসদে ও রাস্তার বিরোধীদলীয় নেতা তারা সবাই নারী সুতরাং নারী হিসেবে আরেক নারীর সম্ভমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াটা ই একজন আদর্শ নারীর কর্তব্য কিন্তু আমাদের এই আদর্শ নারীরা তাদের কর্তব্য পালনে সম্পুর্ণ ভাবে ব্যর্থ । এ ঘটনা সবাই যেন ধামাচাপা দিতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে । উপাচার্য মহোদয় চেষ্টা করছেন প্রক্টোরকে রক্ষা করার জন্য ! প্রক্টোরের চেষ্টা ও উপাচার্য রক্ষা করতে পুলিশ প্রশাসন চাচ্ছে তাদের নিজের দায় এড়াতে নিজেদের নেতা কর্মীদের বাচানোর জন্য সরকার ও সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠ মরিয়া । সবাই চাচ্ছেন আসল সত্য ধামা চাপা দিয়ে কোন অদৃশ্য ভুতের উপর দায় চাপিয়ে দায় মুক্ত হতে । কিন্তু বর্ষবরণের আনণ্দের ভাগিদার হতে যে মা বোনারা টিএসসিতে এসে যে কলংকের দায় নিয়ে ঘরে ফিরে গেছেন তারা কিভাবে মুক্ত হবেন সেই দায় থেকে সেই কষ্ট থেকে ?