ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

 

আজ পহেলা মে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন । যারা নিজেদের অক্লান্ত পরিশ্রম তথা মাথার ঘাম মাটিতে ফেলে একটি দেশের দেশের অর্থনীতির চাকা চালু রাখে, আজ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন । অথচ বিশ্বের যে কোন প্রান্তেই হউক না কেন, শ্রমিক আজো তার যথাযথ অধিকার থেকে এখনো বঞ্চিত । পূঁজিবাদি শ্রেনীর কাছে আজীবই বিসর্জন দিয়ে আসে খেটে খাওয়া মানুষগুলি তাদের অধিকার। বাংলাদেশে যেখানে প্রতি পদেই লাঞ্চনা বা বঞ্চনার শিকার শ্রমিক শ্রেনী তথা শ্রমজীবি সমাজ। বাংলাদেশ যেখানে খেটে ঘাম ঝড়ানো খেটে খাওয়া মানুষের কোন সামাজিক অবস্হান আছে এটা মোটেও প্রমানিত নয়। তারমাঝেও আজ বাংলাদেশ সহ সমগ্র বিশ্বে পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস।

বাংলাদেশে শ্রমিকদের কথা আসলে বা মনে পরলে প্রথমেই মনে করিয়ে দেয় স্মরণ কলের অন্যতম বিশ্বের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা সাভারের রানা প্লাজা ট্রেজেডির কথা । মাটির নিচ থেকে বের হয়ে আসে কোন নাম না জানা শ্রমিক ভাই-বোনের হাড় বা মাথার খুলি । ২৪ এপ্রিল ২০১৩ সকাল আনুমানিক ৯:০০ টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা ধসে পড়ে । ভবনটিতে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা সহ একটি ব্যাংক এবং একাধিক অন্যান্য দোকান ছিল সকালে ব্যস্ত সময়ে ঘটে যায় বিশ্বে ইতিহাসের অন্যতম নাড়কীয় ঘটনা তথা বিশ্বের বিশ্বের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা । যেখানে ১১২৬টি লাশ উদ্ধারের কথা বলা হলেও আরো অসংখ্য লাশই বের করে আনা সম্ভব হয়নি ধ্বংস স্তুপের ভিতর থেকে । ওই ঘটনায় আহত হয়েছে আড়াই হাজারের বেশি শ্রমিক আর এখনও নিখোঁজ রয়েছে হাজারের উপর । গত কয়েক দিন আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির দুই বছর পার হলেও এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্হতের কোন তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরন দিয়ে পূর্নবাসনের যথাযথ কোন ব্যবস্হা আজো দৃশ্যমান নয় । অথচ সরকারের কিছু ব্যক্তি ও তথাকথিত কিছু শ্রমিক সংগঠন এ ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদরে আখের গুছিয়েছে । এ ছাড়া তাজরিন ফ্যাশন সহ হাজারো ঘটনায় প্রতিনিয়তই জীবন দিতে হয় বাংলাদেশের শ্রমিকদের ।

কর্মস্থলের দুর্ঘটনা ছাড়া ও আমাদের দেশের শ্রমিক বিশেষ পরিবহন শ্রমিকদের শিকার হতে হয় রাজনীতির প্রতি হিংসার। হরতাল অবরোধের নামে প্রতিনিয়তই আগুন আর ভাংচুরের শিকার আমাদের পরিবহন সেক্টর। ইতোমধ্যে হরতাল অবোরধের নামে গানপাউডার বা পেট্রোল বোমার আগুনে জীবন দিতে হয়েছে অনেক শ্রমিক। যার কোন সুষ্ঠু বিচার কখনোই হয়নি । আমাদের দেশে গৃহকর্মীদের তো মানুষ হিসেবেই মনে করেন না গৃহকর্তা বা গৃহকর্তৃ । প্রতিনিয়তই সংবাদ মধ্যমে ভেষে আসে কোন কোন না কোন ঝলসানো গৃহকর্মীর বিভৎস ছবি। শিক্ষক, ডাক্তার ব্যবসায়িক বা রাজনীতিক নেতা বা সমাজকর্মী যাদের কথাই বলুন না কেন সমাজের প্রায় প্রতিটি ঘরেই নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন প্রায় প্রতিটি গৃহ কর্মী । পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই প্রতি মুহুর্তে নির্যাতিত হচ্ছে কোন না কোন শ্রমিক । তারমধ্যেও আজ পলিত হচ্ছে মহান মে দিবস ।

মহান মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে দুনিয়া জুড়ে আজ কত না সভা সেমিনার হবে । কত না বড় বড় বুলি আসবে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে । শ্রমিকদের দুই নয়ন ভরে দেয়া হবে হাজারো স্বপ্নে । আবার আগামিকাল থেকে শ্রমিকদের যে মাথায় সে কপালই থকবে । ভাগ্যের চাকা কখনোই ঘুরে না বা ঘুরবে না খেটে খাওয়া শোষিত মানুষগুলির। তারপরও আজকের মহান মে দিবসে সেই প্রত্যাশাই করবো, সভাসেমিনার যাই হউক, যত নীতিই সরকার বা রাষ্ট্র গ্রহন করুক, অন্তত্ কিছুটা হলেও যেন তা শ্রমিকের জন্য কাজে আসে। কিছুটা হলেও যেন শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় । জয় হউক বাংলাদেশের। জয় হউক এদেশের খেটে খাওয়া মেহনতি ও শ্রমজীবী মানুষের।