ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

বাংলাদেশে মুক্তচিন্তার মানুষদের উপরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভাবে হামলা হয়ে আসছে বিভিন্ণ ভাবে অত্যচার ও নিপীড়নের স্বীকার মুক্তচিন্তার মানুষগুলো। স্বাধীনতার পর পরই শুরু হয় মুক্তচিন্তার মানুষদের উপর ধর্মীয় উগ্রবাদীদের অত্যচার নীপিড়ন আর তাদের অত্যাচারে হাত থেকে নিজের জীবনকে রক্ষাকরতে দাউদ হায়দার তসলিমা নাসরিনদের দেশ মাতৃকার মায়া ত্যাগকরে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে হচ্ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে মুক্তচিন্তা ও মুক্তমত প্রকাশের মানুষের সংখা দিন দিন বেড়েই চলছে। বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির যুগে মানুষ আর অন্ধ গোড়া হয়ে থাকতে চায় না । তাই আধুনিক প্রযুক্তি তথা ইন্টারনেইটকে মানুষ তার মুক্ত চিন্তা ও মুক্তমত প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে বাছে নিয়েছে বিশেষ করে তরুন প্রজন্ম । কিন্তু আমাদের দেশে অনলাইনে মত প্রকাশকারিদের তথা ব্লগারদেরকে কিছু ধর্মীয় গোড়া তথা উগ্রধর্মীয় গোষ্ঠিরা নাস্তিক হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে।

বিশেষ করে ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি শাহবাগের মুক্তচিন্তার লেখক ও ব্লগাররাসহ নতুন প্রজন্মের তরুণরা যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ রায়ের দাবিতে আন্দোলনের গণজোয়ার গড়ে উঠা গণজাগরণ মঞ্চ তৈরির পর থেকে বাংলাদেশের উগ্র ইসলামিক মৌলবাদী শক্তি না জেনে না বুঝে ঢালাও ভাবে ব্লগারদের নাস্তিক বলে আখ্যায়িত করে আসছে আর তার সাথে সাথে ই শুরু হয়েছে ব্লগার নিধন কর্মসূচী যে কর্মসূচীর বাস্তবায়ন করছে মৌলবাদী ইসলামি জঙ্গিরা ইতোমধ্যে বেশ কয়েক জন ব্লগার কে খুন হতেহয়েছে মৌলবাদীদের চাপাতির কোপে । কিন্তু অদ্যবধি কোন হত্যারই কুলকিনারা করতে পারেনি সরকার ও তার প্রশাসন। আর এসব হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সরকার ও প্রশাসন সম্পুর্ণ রূপে উদাশীন আর সেই উদাসীনতার সুযোগে হত্যাকারীরা মনের আনন্দে একের পর এক হত্যাকান্ড চালিয়া যাচ্ছে। শত আলোচনা -সমালোচনা কোনটাই সরকার বা প্রশাসনের অন্তর স্পর্শ করতে পারেনি বা সরকার ও তার প্রশাসন কোন ভাবেই তা উপলব্ধি করতে পারেনি । এর বাস্তবতা অতিসম্প্রতি রয়টার্সকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাক্ষাৎকার থেকে । সরকারের অবস্থান বোঝাতে গিয়ে জয় বলেছেন, “আমরা একটি সরু রশির উপর দিয়ে হাঁটছি “।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাক্ষাৎকারেও ব্লগারদের নাস্তিক হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেছেন । জয় বলেছেন “আমরা (আওয়ামী লীগ) নাস্তিক হিসেবে পরিচিত হতে চায় না। তবে এতে আমাদের মূল আদর্শের কোনো বিচ্যুতি হবে না। আমরা ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী।” তিনি আরো বলেন ” অভিজিৎ একজন ঘোষিত নাস্তিক ছিলেন ” তাই আমার মা অভিজিৎ রায়ের বাবাকে ব্যক্তিগতভাবে সমবেদনা জানিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এতটাই অস্থির যে প্রকাশ্যে তার পক্ষে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন জয়। জয়ের সাক্ষাৎকারটি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, হেফাজত -জামায়াত -বিএনপি, অনলাইন লেখক – গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে ‘নাস্তিক ‘ প্রচারণা চালিয়ে সফলভাবে তা প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের তালিকা করে হত্যা করতে চাওয়া হয়েছে, হত্যা করা হচ্ছে। হত্যাকান্ডের শিকার ব্যক্তির পরিবারের পক্ষে সরকার প্রকাশ্যে অবস্থান নেবে, দেশে সেই পরিবেশ বিরাজ করছে না। হত্যাকান্ডের শিকার পরিবারের পক্ষে অবস্থান নিলে, বিরোধীরা প্রচারণা চালাবে যে, সরকার নাস্তিকদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকার এই প্রচারণার শিকার হয়ে বিপদে পড়তে চায় না এটাই সম্ভবত সরকারের মূল চিন্তা । সরকার তার ক্ষমাতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য মৌলবাদীদের নিজের কব্জায় রাখাটাই উত্তম মনে করছে। আর এতে ই বাড়তি শক্তিতে বলীয়ান হচ্ছে উগ্র ধর্মিয় মৌলবাদী গোষ্ঠি । তাই আমরা একের পর এক নতুন নতুন সংগঠন নতুন নতুন দাবি শুনে আসছি । তাই অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার দায় কখনো আনসারল্লাহ বাংলার আবার কখনো আলকায়দা স্বীকার করছে । তাই সরকার ও প্রশাসন ব্লগারদের হত্যার ব্যপারে যে নীরব ভূমিকা পালন করছে তাতে সরকার তার ক্ষমতা স্হায়ী করা চেষ্টা করে মৌলবাদী জঙ্গিদের কাছে আত্মসমর্পন করছে।