ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

বাংলাদেশ আজ ইসলামি মৌলাবাদী জঙ্গিদের আশ্রয়স্হলে পরিনত হয়েছে একের পর এক নতুন নামে মাথা চারাদিয়ে উঠছে ইসলামি মৌলাবাদী জঙ্গি গোষ্ঠি। আর এদের হামলায় একের পর এক জীবন দিতে হচ্ছে মুক্ত চিন্তার বিবেকবান মানুষদের। আবার এসব জঙ্গি গোষ্ঠি নতুন নতুন তালিকা প্রকাশ করছে বুদ্ধিজীবিদের যারা নাকি ওদের পরবর্তি খুনের টার্গেট থেকে বাদ যায়নি খোদ বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র পতিমন্ত্রীও । গত দুইদিন আগেও ইসলামি মৌলাবাদী জঙ্গি গোষ্ঠিদের একটি গ্রুপ নতুন মৃত্যুপরোয়ানা জারি করেছে। কিন্ত সরকার এ ব্যাপারে একেবারেই নিশ্চুপ! একের পর এক মৃত্যুপরোয়ানা জারি হচ্ছে, চাপাতির কোপে একের পর এক খুন হচ্ছে কিন্ত আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের শক্তি (?) নিশ্চিন্তে নাকে তেল দিয়ে ঘুমুচ্ছে।

সম্প্রতি রয়টার্সকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাক্ষাৎকার থেকে এটা পরিস্কার যে ইসলামি মৌলাবাদী জঙ্গিদের দ্বারা কোন খুনের বিচারের ব্যপারে সরকার মোটেও উৎসাহি নন। কারণ বর্তমান সরকারে ক্ষমতা রক্ষার জন্য ইসলামি মৌলাবাদী জঙ্গিদের গ্রেফতার করে সংখ্যাগুরু মুসলমানদের মনে বা তাদের অনুভূতিতে আঘাত করতে চান না। বরং দুই-চার জন কেন দুই চার ডজন মুক্তচিন্তার মানুষ খুন হওয়ার পরও যদি মুসলমানদের খুশি রেখে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় সেটাই বোধ হয় সরকারের জন্য উত্তম । সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাক্ষাৎকারেও তিনি মুক্তচিন্তার লেখক এবং ব্লগারদের নাস্তিক হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেছেন।  জয় বলেছেন “আমরা (আওয়ামী লীগ) নাস্তিক হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। তবে এতে আমাদের মূল আদর্শের কোনো বিচ্যুতি হবে না। আমরা ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী।” আর এতে ইসলামি মৌলাবাদী জঙ্গিরা আরো উৎসাহিত হয়েছে । তাই তারা একের পর এক হুমকি দিয়েই চলছে । এমন কি ইসলামি মৌলাবাদী জঙ্গিরা ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত নারীবাদী মুক্তচিন্তার লেখিকা তসলিমা নাসরিনকেও হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আর তাই ইসলামি জঙ্গিদের কাছ থেকে একের পর এক হুমকির মুখে অবশেষে জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতে বাধ্য হলেন বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত নারীবাদী মুক্তচিন্তার লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

ভারত ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন নারীবাদী মুক্তচিন্তার এই লেখিকা। বাংলাদেশে গত কয়েক মাসে ব্লগার অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান ও অনন্ত বিজয়কে হত্যার পর তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে জঙ্গিরা। তসলিমা তাঁর টুইটারে লিখেছেন, “বাংলাদেশে নাস্তিক ব্লগারদের যে ইসলামপন্থীরা হত্যা করেছে তারাই হুমকি দিচ্ছে। আমি উদ্বিগ্ন। ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। সাক্ষাৎ পাইনি। ভারত ছাড়লাম। নিরাপদ বোধ করলেই ফিরব।” দি টাইম অফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, সম্প্রতি ‘অ্যাট জিহাদ ফর খলিফা’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে তসলিমাকে টুইট করা হয়। বলা হয়, ‘৮৪ জনের হিটলিস্টে তোমারও নাম আছে। দিন গুনতে শুরু করো।’ এই লিস্টে এর আগে অবশ্য নাম ছিল বাংলাদেশে খুন হওয়া ওই চার ব্লগারের। ‘অ্যাট জিহাদ ফর খলিফা’র ওই হুমকি টুইটটি আসলে ‘আনসার আল ইসলাম অ্যাট আনসার বিডি’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে; যে আনসার আল ইসলামের নাম উঠে এসেছে প্রতিটি ব্লগারের হত্যার পরেই।

এদিকে এই হুমকি বার্তা পাওয়ার পর তসলিমা নাসরিন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তাঁর দপ্তর থেকে সাড়া পাননি। সম্প্রতি জঙ্গিদের কাছ থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার পর একটি ইংরেজি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তসলিমা নাসরিন বলেন, ‘এতে আমি ভীত নই। তবে যত দিন আমি বেঁচে থাকব তত দিন ওরা আমার মুখ বন্ধ করতে পারবে না’। তাই তসলিমা নাসরিনের সুরে সর মিলিয়ে বলতে চাই ইসলামি মৌলাবাদী জঙ্গিদের হুমকি তে আমরাও ভীত নই । মৃত্যু কখনোই কোন মুখ বন্ধ করতে পারে না । কিন্ত পরিতাপের বিষয় হলো ত্রিশ লক্ষ্য মানুষের রক্তের বিনিময় অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা যে এভাবে ইসলামি মৌলাবাদী জঙ্গিদের আগ্রাসনে ধ্বংস হতে বসেছে তা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।