ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আজ থেকে প্রায় দশ মাস আগে একটি লেখা পোষ্ট করে ছিলাম যার শিরোনাম ছিল ” মৌলবাদের খঞ্জর, রাষ্ট্রযন্ত্রের জেল জুলুম এবং আমাদের মুক্তমত ! ” দশ মাস গর্ভে থাকার পরে আমার সেই লেখার সারমর্ম আজ পরিপূর্নতা পেয়েছে । আমার এই লেখাটার পর অনেকেই আমাকে অনেক ভাবে তৃস্কার করেছে আমার আমার ফেইজবুক সাইডে যেয়ে অনেকে হুমকি ও ইনবক্স করেছে । তার পর ও আমি তা পরোয়া করি না কারন আভিজিৎ দার মত মস্তবড় ব্লগার ও না আমার প্রবীর দার মত উচ্চমাপের সাংবাদিক ও নই । আমি নগন্য একজন চামচিকে ব্লগার তাই আমার চিন্তার কোন কারণ ই দেখিনা । আমি সবসময় ই বলেতাকি বর্তমান আওয়ামীজোট সরকার তথা কথিত বা স্ব-ঘোষিত মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি । আমার এই বলার পিছনের যুক্তি আমি আমার প্রায় প্রত্যেক লেখাতেই দিয়ে থাকি ।সাংবাদিক প্রবীর সিকদার এমন এক পরিবারের সন্তান যে পরিবারের যে পরিবারের ১৪ জনকে একসঙ্গে হত্যা করেছিলো পাকিস্তানি বাহিনী ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে । এর সাথে তার আরেকটি পরিচয় যিনি নিজের জীবন বাজি রাখে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘৃনিত যুদ্ধাপরাধীদের মুখোশ উন্মচোন করতে পেরেছিলেন দৈনিক জনকন্ঠের “তুই রাজাকার” শিরোনামের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে । আর এই ” তুই রাজাকার ” শাহবাগ জাগরন মঞ্চের স্লোগানের একটি অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । অথচ আজ সেই সাংবাদিক প্রবীর সিকদার কারাগারের লাল দেয়ালে বন্দি তাকে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী তিনি এক মামলার আসামি। আর মামলাটি করেছেন স্বপন পাল নামের ফরিদপুরের একজন আইনজীবি।

সাংবাদিক প্রবীর সিকদার দীর্ঘদিন যাবৎ জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের মতে তার জীবনের তিন জন সবচেয়ে বড় শত্রুই হলেন ফরিদপুরের তিন জন যুদ্ধাপরাধী আর তাদের মধ্যে দুই জনই হলেন মাননীর প্রধান মন্ত্রীর নিকট আত্মীয় একজন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনীয়ার জনাব মোশাররফ হোসেন, রাজাকার নুলা মুসা ওরফে মুসা বিন সমশের । এই লুনা মুসার বাহিনীর হাতে আহত হয়ে চিরকালের জন্য একটি পা হারাতে হয়েছে সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে । আর অপর জন ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধি আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার যিনি বর্তমানে দেশ ছাড়া।

সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের বর্তমান অবস্হার প্রেক্ষাপটে আমি আজ আমার সেই লেখা ” মৌলবাদের খঞ্জর, রাষ্ট্রযন্ত্রের জেল জুলুম এবং আমাদের মুক্তমত!” লেখার পক্ষে আবারো কিছু কথা বলবো । আমরা যারা লেখালেখি করি বিশেষ করে আমাদের যাদের অবস্হান মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষে তাদের মূল শত্রু ধর্মীয় উগ্রবাদ। কারণ, আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতাকে তারা মোটেও সহ্যকরতে পারেনা। তাই ধর্মীয় উগ্রবাদীদের খঞ্জর সবসময়ই আমদের পিছু করছে তার প্রমান ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি। আর রাষ্ট্রযন্ত্রের জেল যে জুলুম তার ও আমরা দেখেছিলাম কিন্তু তাই আজ চূড়ান্ত ভাবে প্রমানিত সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের গ্রেফতারের মাধ্যেমে । যে প্রবীর সিকদার একসময় ছিলেন বর্তান শাষক গোষ্ঠীর নয়নের মনি অথচ আজ যখন তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারন ডায়েরি করতে যেয়ে শূন্য হাতে ফিরে এসে নিজের শত্রুদের নাম সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে স্টাটাসের মাধ্যমে সকলকে জানাতে চেয়েছিলেন আর তাতেই তিনি কুপোকাত হলেন।

সাংবাদিক, শহীদদের সন্তান এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সৈনিক প্রবীর সিকদার বোধয় হয় ভুলেই গিয়ে ছিলেন এটা আর একাত্তরের সেই বাংলাদেশ নাই এটা ডিজিটাল বাংলাদেশ। যেখানে খুনের আসামি চিৎকার করে নিজের পরিচয় জানান দিলেও থাকে ধরাছোঁয়ার বাহিরে, অথচ নিজের জীবনের শত্রুদের নাম সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করলে গ্রেফতার হতে হয় তথ্য প্রযুক্তি আইনে। বাহ! কি চমৎকার ডিজিটাল বাংলাদেশ যেখানে ভিওআইপির মাধ্যেমে পাচার হচ্ছে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা । হয়তো এ লেখার জন্য আমার কি হবে তা আমি জানি না তার পর ও যে চুপ করে থাকা যাবে না। লিখতে হবে আমাদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য , লিখতে হবে আমাদের বাংলাদেশের জন্য , লিখতে হবে যুদ্ধাপরাধীদের পরিচয় ও বিচারের জন্য লিখতে হবে নীল আভিজিৎ ও প্রবীর সিকদারদের জন্য।