ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

যে কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এটাই একটা কোন সুস্হ্য মানুষ বা কোন সুস্হ্য সমাজের দায়িত্ব । কিন্তু কোন অন্যায়ের প্রতিবাদের করনে সেই প্রতিবাদ কারীদের গুলিকরে হত্যা করা কোন সুস্হ্য জাতি বা কোন সুস্হ্য বাহিনীর পক্ষে আদৌ সম্ভব কিনা সেটা ই একটা প্রশ্ন ? টাঙ্গাইলের কালিহাতি বর্তমান সময়ের এক রক্তাত ও শোকার্ত জনপদের নাম । যেখানে ছেলের সামনে মাকে বিবস্রকরে যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদে একে একে জীবন দিতে হলো ৪ জনকে তা ও আবার পুলিশের গুলিতে । কথাটা ভাবতে ই কেন জানি গা শিউরে উঠে । প্রথমত মা ও ছেলের চেয়ে নিবিড় সম্পর্ক আর কিছু আছে বলে কেউ মনে করে এটা আমি মোটেও ভাবতে পারিনা ।একজন মায়ের শরীরের বিন্দু বিন্দু কণা দিয়ে তার সন্তনার জন্ম । পরম মমতায় জীবনের সব কিছু বিষর্জন দিয়ে মা তার সন্তান কে বড় করে এবং মানুষ হিসেবে তার সন্তানকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করে । কিন্তু যখন সেই সন্তানের সামনে একজন মমতাময়ী মাকে অপমান বা নির্যাতন করা হয় তখন কোন সুস্হ্য সন্তানের পক্ষেই তা মানা কোন ভাবেই সম্ভব না । আর যদি সেটা হয় কোন সন্তানের সামনে মায়ের যৌন নির্যাতন তা কি কোন সন্তান সহ্যকরতে পরে ? যেমন টি পারেনি টাঙ্গাইলের কালিহাতির সেই নির্যাতিত মায়ের সন্তান । হ্য়তো সেই নির্যাতিত মায়ের সন্তানের ক্ষোভ গোটা কালিহাতির সাধারণ মানুষ অন্তর দিয়ে অনুভব করতে পেরেই গোটা কালিহাতির মানুষ ক্ষোভে ফেটে পরেছিল । হয়তো এই ক্ষোভ কালিহাতির মানুষের অনেক দিনের জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ? কারণ একটি সমাজের মানুষ বিভিন্ন ভাবে শোষিত ও নির্যাতিত হতে থাকার পর সামান্য ছুতাতেই বিস্ফোরিত হয় এটম বোমার মত আর সেই বিস্ফোরনের স্ফুলিংগ ছড়িয়ে পরে সমাজের চার দিকে ।টাঙ্গাইলের কালিহাতির ঘটনার দ্বারাই তা প্রমাণিত হচ্ছে যে, আমাদের দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমানয়ে চরম অবনতি দিকে যাচ্ছে। মানুষ আজ আর আইন-শৃঙ্খলা বাহীনির উপর মোটেও বিশ্বাস রাখতে পারছে না । আর তাই যে কোন অন্যায়ের জন্যই মানুষ আজ চরম প্রতিবাদী হয়ে উঠছে যেমন টি ঘটেছে স্বাধীনতা পূর্বে আমার এই মাতৃভূমিতে ।

পশ্চিমা বর্বরদের অত্যাচরে আমাদের এ প্রান্তের মানুষ এতটাই অতিষ্ট ছিল যে শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন বাজি রেখে পশ্চিমাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে দ্বিধাবোধ করেন নি ।আর তার ই ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালে অর্জিত হয়েছে আমাদের মহান স্বাধীনতা । যাক আসাযাক এবার টাঙ্গাইলের কালিহাতির কথায় ১৫/০৯/২০১৫ তারিখে কালিহাতী উপজেলার সাতুটিয়া গ্রামে মা ও ছেলেকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে রোমা ও তার ভগ্নিপতি হাফিজ উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন বখাটে। এ ঘটনায় নারী নির্যাতন আইনে মামলার পর পুলিশ মূল আসামি রোমাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করলে ও এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার অথাৎ ১৭/০৯/২০১৫ তারিখে এলাকাবাসী কালিহাতী উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ বিক্ষোভ মিছিলেও পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে বেশকয়েক জন আহত হন।এরই ফলশ্রুতিতে শুক্রবার বিকালে ঘাটাইল উপজেলার আঠারোদানা, কালিহাতী উপজেলার সাতুটিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ মাইকে ঘোষণা দিয়ে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।এলাকার বিক্ষুব্ধ লোকজন বিচারের দাবিতে মিছিল নিয়ে কালিহাতী বাস স্ট্যান্ড হয়ে থানা ঘেরাও করার জন্য যাওয়ার সময় হামিদপুর বাজারে ঘাটাইল থানা পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজনের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। পুলিশ লোকজনের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।আর তাতে ঘটনাস্হলে ২ জন সহ আজ পর্যন্ত মোট ৪ জনকে জীবন দিতে হলো ।সাবাভিক ভাবেই প্রশ্ন আসে অপরাধীদের পুলিশ গ্রেফতারের পর ও কেন সাধারন মানুষের এই ক্ষোভ কেন এই প্রতিবাদ ? ২০/০৯/২০১৫ তারিখে ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান ফরিদপুরের এক মতবিনিময় সভায় মন্তব্য কেরেন যে, ” পুলিশের প্রতি মানুষের খারাপ ধারণা জন্মগত। পূর্ব পুরুষ থেকে মানুষ এই ধারণা পোষণ করে আসছে।” আসলেই কি জনাব এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামানের মন্তব্য সত্যি ? পৃতিবির উন্নত দেশের মানুষেরা পুলিশ কে তাদের পরম বন্ধু হিসেবে ভাবে এটাই তাদের ক্ষেত্রে সত্যি । কিন্তু পুলিশের ডিআইজি এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামানের মতে পুলিশের প্রতি আমাদের দেশের মানুষের খারাপ ধারনা জন্মবার কারণ তারা কি কখনো খতিয়ে দেখেছে ? তার যেহেতু বুঝতে পারছেন যে না বাংলাদেশের মানুষের তাদের প্রতি অর্থাৎ পুলিশের প্রতি জন্মলগ্ন থেকে খারাপ ধারনা আছে তবে কেন তারা সেই খারাপ ধরনা মানুষের মণ থেকে মুছেদিতে পরলো না ? তবে কি কালিহাতির ঘটনা সেই খারাপ ধারনার ই বহিপ্রকাশ ? আমাদের দেশের প্রতিটি সরকাই পুলিশকে তাদের কায়েমী স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করে আসছে বর্তমান সরকের ও তার ব্যতক্রম নয় বরং বর্তমান সরকার পূর্বের সকল সরকারের চেয়ে বেশী পুলিশ নির্ভর । ২০১৪ একতরফা নির্বাচনের পর পুলিশ নির্ভর না হয়ে বর্তমান সরকারের আর কোন উপায় ছিল না । কারণ যে কোন আন্দোলন কে ধুলিশ্বাত করতে বর্তমান সরকারের পুলিশের বিকল্প ছাড়া আর কিছু আছে বলে সরকার ভাবতে পারে না । তাই যে কোন সুষ্ঠ আন্দোলন বা প্রতিবাদ কে প্রতিহত করার জন্য পুলিশ ই সরকারের একমাত্র ভরসা । হ্য়তো একটা প্রশ্ন আসতে পারে যে অতি সাম্প্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ভ্যাট বিরোধী আন্দোলন ও তো চাইলে সরকার পুলিশ দিয়ে দমন করতে পরতো সেটা না করে কেন সরকার তাদের দাবী মেনে নিলেন?

এটা ছিল সরকারে অন্য আরেক কৌশল যে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা সু-সৃংখল ভাবে আন্দোল করার কারণে তাদের আন্দোল স্বার্থক হয়েছে আর বিরোধী রাজনৈতিক দলের জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনের কারণে ই পুলিশ বাহীনি তাদের দেশ ছাড়া করছে । যা ই হউকনা রাজনৈতিক নেতাদের অবস্হ্যা এটা নিয়ে দেশের সাধারন মানুষের তেমন মাথা ব্যাথা নেই কারন আমাদের রাজনৈতিকজীবিরা আজ সাধারন মানুষের কাছে থেকে অনেক দূরে । তাই তাদের নিয়ে ভাবার সময় এখন আর বাংলাদেশের মানুষের নেই তাদের অত্যাচারে জাতি আজ স্তব্ধ নিশ্চুপ । আর তাই যে কোন অন্যায়ের ই প্রতিবাদ ক্রমানয়ে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে । টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে প্রতিবাদ বিক্ষোভের হতাহতের ঘটনায় পুলিশের বড় কর্তারা বলছেন যে তাদের পুলিশেরা নাকি থানাকে রক্ষাকরার জন্য যা যা করার তাই করেছে । থানা কে এবং উক্ত থানার অধিনে বসবাস রত সমস্ত মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের কর্তব্য । তাই যদি কালিহাতির সাধারন জনগন থানায় হামলা চালায় তা হলে তো তারা অপরাধী আর পুলিশ যদি সেই হামলা কারিদের প্রতি হত করে থাকে তা হলে তো পুলিশ তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথা যথ ভাবে পালন করে আমাদের কে বিশেষ ভাবে উপকৃত করেছে ! তবে কেন কালিহাতি ও ঘাটাইল থানার ওসি সহ অন্যন পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়ছে ? অন্যদিকে কালিহাতি ও ঘাটাইলের সাধারন মানুষের অন্যায়ের প্রতিবাদকে প্রতিহত করতে এবং কালিহাতি ও ঘাটাইলের মানুষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পুলিশ ৭০০-৮০০ ব্যক্তিকে আসামি করে পুলিশ মামলা করায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছে এলাকাবাসী। বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশের পুলিশ আজ চরম বেপরোয়া । শিক্ষক , সাংবাদিক , সাধারন মানুষ কেউ ই আজ আর পুলিশের লান্হনার বাহিরে নয় । এর জন্য বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার মনোভাবই এক মাত্র দায়ী । কারণ সরকার ভাবছে তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্হায়ী করার জন্য পুলিশ ই একমাত্র নিয়ামক তাই সরকার যেমন পুলিশ নির্ভর হয়ে পরছে আর সরকারে এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে পুলিশ ও চরম বেপরোয়া হয়ে পরেছে । পরিশেষে এটাই বলবো কালিহাতি ও ঘাটাইলের মানবতাবাদী বীর জনতা এক জন মায়ের প্রতি নির্যাতনের জন্য জীবন দিয়ে মামলা খেয়ে যে প্রতিবাদ করেছে তা সত্যি জাতীকে নতুন পথের সন্ধান দিবে এটাই প্রত্যাশা ।