ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

সড়ক দূর্ঘটনা যেন আমাদের জাতীয় জীবনের একটি ভয়াবহ অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন ভাবেই কমছে না সড়ক দুর্ঘটনা ও এতে প্রাণহানির সংখ্যা। প্রতিদিন ই আমাদের সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে ” সড়ক দূর্ঘটনা ” । অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় আমাদের দেশের সড়ক পথগুলো যেন এক একটি মৃত্যুকূপ আর এই কূপের মাঝে পরে প্রতিদিন ই ঘটছে দূর্ঘটনা যাতে প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য তর-তাজা মানুষ । নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের প্রতিবেদন অনুযায়ি ২০১৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৬ হাজার ৫৮২ জন নিহত হয়েছে। যা ২০১৩ সালের চেয়ে ১ হাজার ৪২ জন বা ২৭ শতাংশ বেশি । প্রতিবেদনে আরো বলা হয় ২০১৪ সালে সংঘটিত ২ হাজার ৭১৩ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে ১০ হাজার ৭৭০ জন আর ২০১৩ সালে আহতের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৯১৪। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব অনুযায়ি ২০১৪ সালের মোট ৫,৯২৮টি ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা সংঘঠিত হয়েছে। এতে সর্বমোট ২৬,১১৩জন যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিক সড়ক দুর্ঘটনা শিকার হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনা নিহত হয়েছেন ৮,৫৮৯ জন, আহত হয়েছেন ১৭,৫২৩ জন। এর মধ্যে হাত বা পা হারিয়েছেন বা অন্য কোন অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন ১,৬২৩ জন। এসব দুর্ঘটনা সিংহভাগেই পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে দরিদ্রতার কাতারে নেমে এসেছেন। একই সময়ে সরকারি হিসাবে প্রায় ২,৩০০ টি সড়ক দুর্ঘটনা মামলা হয়েছে। এ সময় ১,২৬৬টি বাস, ১৪১৩ টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৭১২ টি হিউম্যান হলার। ৩৯০ টি কার-জীপ-মাইক্রোবাস, ১,২৩১ টি অটোরিকশা ১,৪৬৮ টি মোটরসাইকেল ১,১৭৩ টি ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা, ১,০৬৯ টি নছিমন করিমন দুর্ঘটনা কবলে পড়েছে। এতে ১,২৫৬ জন ছাত্র-ছাত্রী ১৫৬ জন শিক্ষক, ৬৮ জন সংবাদিক, ৬৩ জন ডাক্তার, ৯০ জন আইনজীবী, ৬৩ জন ইঞ্জিনিয়ার, ২১৫ জন আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্য (পুলিশ, সেনা সদস্য, বিজিবি ও আনসার সদস্য) এছাড়া ৯৯১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ১৪২ জন সরকারি কর্মকর্তা ২,২২২ জন নারী ও ১,৪৬৯ শিশু সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

আর প্রতি বছর বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ১০ লাখের ও অধিক লোক জীবন হারায় এবং প্রায় ৫০ লাখ লোক পঙ্গুত্ম বরণ করে । বিভিন্ন সংগঠনের পরিসংখ্যানের মত পার্থক্য থাকলে ও সড়ক দূর্ঘটনা যে আমাদের দেশে ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে এ নিয়ে কোন মত পার্থক্য নেই ।গত ১৩ আগস্ট ২০১১ দেশবরেণ্য চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীর সহ মোট ৫ জন সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর পর সমগ্র জাতীর ভিতর যখন তীব্র প্রতিক্রয়া সৃষ্টি হ্য় তখন হয়তো ভেবেছিলাম সরকারের ভিতর হয়তো শুভ বুদ্ধির উদয় হবে । দেশে সড়ক দূর্ঘটনার মাত্রা হয়তো কিছুটা হলে ও কমে আসবে । কিন্তু তৎকালীয় সময়ে সরকারে কিছু কর্তাব্যাক্তির কার্যক্রম ও কথা বার্তা জাতীকে ভিশন ভাবে মর্মাহত করেছে । এরপর গত ২৯ নভেম্বর ২০১৪ ঢাকায় সড়ক সড়ক দূর্ঘটনায় আমরা হারালাম দেশের খ্যাতনামা সাংবাদিক জগলুল আহম্মেদ চৌধুরীকে । এভাবেই প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা ঝড়ে যাচ্ছে অসংখ্য তাজা প্রাণ । দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যত ব্যবস্থাই আমরা নেই না কেন এটা কখনোই বন্ধকরা সম্ভব নয় কিন্তু যাথাযথ কার্যকর ব্যবস্হ্যার মাধ্যমে এর মাত্রা অনেক টা নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব । তাই আমাদের উচিত জরুরি ভিত্তিতে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার কারণসমূহ চিহ্নিত করে আশু প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়া, তার সাথে কীভাবে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব থেকে জনগণকে রক্ষা করা যায় তা নিশ্চিত করা। একজন দক্ষ সচেতন চালক সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তার সাথে আমাদের অন্য কারণগুলোও বিবেচনায় আনতে হবে যেমন গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি , সড়কের বেহাল অবস্থা, পথচারীদের বেপরোয়া পথচলাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। সর্বোপরি সরকারকে উপলদ্ধি করতে হবে যে বাংলাদেশে এখন অন্যতম সমস্যাগুলির একটি সড়ক দুর্ঘটনা আর একটি দুর্ঘটনা একজন মানুষের বা একটি পরিবারের আজীবনের কান্না। তাই সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করে মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চিত করা ।