ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

বছর মাঝামাঝিতে বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমে সংবাদের বিশেষ শিরোনাম ছিল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে অবৈধ মানাব পাচার । থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার সীমান্তে গভীর জঙ্গলে গণকবর আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার থেকে মানবপাচারের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পায় । সে সাথে সন্ধান মিলে পাঁচ শতাধিক গনকবরে যেখান থেকে উদ্ধার করা হয় শতাধিক বাংলাদেশী ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মরদেহ৷এরা সবাই ভাগ্য পরিবর্তনের সন্ধানে জীবন বাজি রেখে সমুদ্র পথে ছোট নৌকায় করে পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে পাচার হয়ে গিয়েছিল । আর সেই ভাগ্যপরিবর্তন ই তাদের হতভাগ্য করেছে । জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় , এ বছর মে মাসে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের প্রায় পাঁচ হাজার নাগরিককে সমুদ্রে ভাসমান জাহাজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আর ২০১৪ সাল থেকে চলতি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের প্রায় এক লাখ নাগরিক সমুদ্র পথে উন্নত জীবনের আশায় মালয়েশিয়া কিংবা থাইল্যান্ডে পাড়ি দেন এছাড়া চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত এই সংখ্যা ৩১ হাজার বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ৷ তারা শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছেন কিভাবে আছেন তার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি এই প্রতিবেদেনে । আমাদের দেশ থেকে অবৈধ পথে মানবপাচারের মূল কারন ই হলো বেকারত্ব । আমাদের বেকার দরিদ্র জনগোষ্ঠি উন্নত ভবিষ্যতের আশার পাচারকারীদের খপ্পরে পরে সমুদ্র পথে পাড়ি জমায় অজানা গন্তব্যে । আমাদের বেকার জনগোষ্ঠির পাশাপাশি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন বেড়ে যাওয়ায় সেখান থেকেও সমুদ্রপথে পাচারের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে তারা । জাতিসংঘের হিসাব মতে সমুদ্র পথে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় যাত্রা করা লোকজনের ৪০ শতাংশের মত বাংলাদেশি বাকীরা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা৷ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকুল অঞ্চল বিশেষ করে কক্সবাজার এলাকায় মানব পাচারকারী চক্রের মূল ঘাঁটি হলেও তাদের নেটওয়ার্ক সাড়া দেশে বিস্তৃত ৷

মানবপাচারকারী চক্র তাদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারা দেশ থেকে বেকার যুবকদের সংগ্রহ করে কক্সবাজারে নিয়ে পাচার করে থাকে ৷ আমাদের দেশে মানব পাচারকারী চক্রের সঙ্গে পুলিশ , প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতা সহ মন্ত্রী এমপিদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অভিযোগ আছে৷ সমুদ্রপথে বাংলাদেশের মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের ও যোগাযোগ আছে৷ বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়া কেন্দ্রিক এই পাচারকারী চক্রের সঙ্গে থাই সেনা কর্মকর্তা সহ সেখান কার স্হানীয় প্রভাবশালীরা ও জড়িয়ে পড়েছিলেন৷ ফলে এই চক্রটি কখনো কখনো সাময়িকভাবে চাপে পড়লেও আবার সক্রিয় হয়৷ এ বছরের মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাচার হয়ে যাওয়াদের গণকবর আবিষ্কার হওয়ার পর বাংলাদেশের পুলিশ ও প্রশাসন পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কিছুটা নড়ে চরে বসেছে ৷ তারপর থেকে চারজন মানবপাচারকারী পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে সেই সাথে আটক হয়েছে কম-বেশি ৮০ জন৷ বাকিরাও দেশের অভ্যন্তরে বা দেশের বাইরে আত্মগোপন করেছে৷ বাংলাদেশ থেকে সমূদ্রপথে মানব পাচারে মৌসুম হিসেবে বিবেচিত শীত কাল , গ্রীষ্ম এবং বর্ষার সময় সমুদ্র খুবই উত্তাল থাকে তাই পাচার কারীরা ঝুকির কারনে ছোট ছোট নৌকায় করে মানবপাচার একরকম প্রায় বন্ধ ই রাখে আর হেমন্ত এবং শীতকালে সাগর শান্ত থাকে বলেই তাই এই সময়ে সাগর পথে ছোট নৌকায় মানবপাচার বেড়ে যায়৷কক্সবাজার এলাকা বর্তমান এই সময় টাই মানবপাচার মৌসুম আর এই মৌসুমের শুরুতেই বাংলাদেশের মানবপাচারকারীরা আত্মগোপন অবস্থা থেকে আবারো ফিরে আসতে শুরু করেছে৷শীতকালে শান্ত সাগরের সুবিধা নিয়ে যাতে আবার পাচারকারীরা সক্রিয় হতে না পারে, আর যাতে নতুন করে মানবপাচারের ভয়াবহ কালো অধ্যায় নিয়ে আন্তজাতিক সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হতে না হয় তার জন্য আমাদের পুলিশ ও প্রশাসন কে এখনি খেয়াল রাখতে হবে।