ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

দখল বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের কাছে একটি অতি পরিচিত শব্দ । অতি প্রচীন কাল থেকেই আমরা দখল ও দখলবাজদের সথে পরিচিত পলাশীর প্রান্তে নবাব সিরাজউদ্দোলার পতনের পর আমাদের দখল করে নেয় ব্রিটিশ বানিয়ারা, দেশ বিভাগের পর দখল করে নেয় পশ্চিমা পাকিস্তানি শক্তি। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত ও আড়াই লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম ও অসংখ্য মুক্তি পাগল মানুষের ত্যাগের বিনিময় অর্জিত স্বাধীন দেশে থেকে আজ ও দখল শব্দটি মুছে যায়নি স্বাধীনতার চোয়াল্লিশ বছর পর ও দখলদারের হাত থেকে আমরা মুক্ত হতে পারিনি । গ্রামের কৃষি জমি , নদী থেকে শুরু করে নগর মহানগরে গলি থেকে রাজ পথ এমন কি আদালাত হাসতাপাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোন জায়গায়ই আজ আর দখল মুক্ত নয়। স্বাধীনতার পর পরই প্রতি ক্ষেত্রের প্রভাবশালিদের হাতে দখল হতে থাকে প্রতিটি ক্ষেত্র যা থেকে জাতি আজো মুক্তি পায়নি বা আদৌ মুক্তি পাবে কি না সেটাই প্রশ্ন? বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম প্রধান জনবহুল দেশ সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আমাদের জনসংখ্যাও বাড়ছে ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠির খাদ্য চাহিদা মেটানো জন্য কৃষি জমির কোন বিকল্প নাই অথচ আদের দেশের ভূমিদস্যুদের ছোবলেই নাকি প্রতিদিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রায় ২০০ হেক্টর কৃষিজমি। প্রায়ই আমাদের সংবাদ মাধ্যেমের শিরোনাম হ্য় দেশের বিভিন্ন নগরীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান আদৌ সেই অভিযান কতটুকু স্বার্থক সেটা ই একটা বড় প্রশ্ন? অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযানের সময় কখনো কখনো আমরা দেখি দখলদার কাছে হার মানতে হয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আমার কখনো উচ্ছেদ শেষ না হতেই নতুন করে দখল শুরু হয়ে যায়। বেশ কিছুদিন আগে সংবাদ মাধ্যেমে জানতে পেরেছি ঢাকার গাউছিয়া ও চাঁদনী চক মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাতের দখল মুক্তকরার সময় ফুটপাতের হর্কাদের হামলার শিকার হন ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের এক মহিলা মেজিষ্ট্রেট পরে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় কোন মতে জীবন নিয়ে বাঁচেন ঐ নারী মেজিষ্ট্রেট। দখলদারদের খুটির জোড় কতটুকু সেটি আমরা দেখেছি অতি সাম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের উপর হামলার মধ্যদিয়ে। মেয়র আনিসুল হক তার নির্বাচনী অংগীকারে যে বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তার মধ্য অন্যতম ছিল তেজগাঁওয়ের রেলওয়ের জায়গায় গড়ে উঠা অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড সরানোর। দায়িত্ব গ্রহনের পর দফায় দফায় তিনি ট্রাক মালিক ও শ্রমিকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সেখান থেকে তাদের স্হপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য তিন দফা সময় বেধে দিয়ে শেষ পর্যন্ত পূর্বঘোষনা অনুযায়ী ২৭ নভেম্বর ২০১৫ রেল মন্ত্রী ও মেয়রের উপস্হতিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় হামলার মুখে পরেন খোদ মেয়র আনিসুল হক। দীর্ঘ তিন ঘন্টা বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়ন অফিসের ভেতর অবস্হান করে পরে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ প্রহরার জীবন রক্ষা করেন মেয়র।

ফুটপাত মানে হাঁটার পথ তবে আমাদের দেশে এর অর্থ ভিন্ন হাঁটার জায়গা অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসছেন দোকানিরা। ফুটপাত হকারদের দখলে চলে যাওয়ার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর চলে যাচ্ছে, সরকার বদল হচ্ছে, প্রতিশ্রুতির উচ্চকণ্ঠ আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছে না। বরং দিনকে দিন অবনতি হচ্ছে। শহরের এমন কোনো এলাকা নেই, যেখানে ফুটপাত দখলের বিষদৃশ্য চোখে পড়ে না। ঢাকার শহর সহ আমাদের দেশের বিভিন্ন শহরে সন্ত্রাসী কর্যক্রম ও চাঁদাবাজির অন্যতম ফটুপাত। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে ১৬৩ কিলোমিটার ফুটপাতের মধ্যে ১০৮ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ফুটপাতই রয়েছে প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে। এছাড়া নগরীর ২ হাজার ২৮৯ দশমিক ৬৯ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৫৭২ দশমিক ৪২ কিলোমিটার সরকার দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় বসেছে পণ্যের পসরা। পথচারীরা বিড়ম্বনায় পড়ছেন প্রতি পদে পদে। হকার্স সমিতির সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর অলি গলি পর্যন্ত বিবেচনায় নিলে ব্যবসার স্পট আছে দুই হাজারেরও বেশি। সব মিলিয়ে দিনে প্রায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এ হিসাবে মাসে ১৮ কোটি এবং বছরে ২১৬ কোটি টাকা রাজধানীর চাঁদাবাজদের পকেটে যাচ্ছে। শুধু ফুটপাত দখল এখনেই কি শেষ? রাজধানীর হাতিরঝিলে আদালতের রায় কে উপেক্ষা করে সগৌরবে মাথা উঁচূ করে দাঁড়িয়ে আছে আনিসুল হকদেরই সংগঠন বিজিএমইএ এর অবৈধ স্হাপনা বিজিএমইএ ভবন। রাজধানীর চার পাশের বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগনদীর সহ সমগ্র দেশের সরকারি প্রায় সব জমি ও সম্পত্তির প্রায় সব টুকুই দখল হয়ে গেছে বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্টিত ক্ষমতাশীনদের হাতে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সব কিছুই ক্রমান্বয়েই চলে যাচ্ছে দখলবাজদের হাতে এ যেন এক দখলের রাজ্য আর এই দখলের রাজ্যে আমরা আজ অসহায় জাতি।