ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

২৪ মার্চ ১৯৮২ বাংলাদেশের আকাশে উদিত হয়েছিল আরো এক কলো সূর্য এ দিন দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সরিয়ে বরখাস্ত সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক আইন জারির মাধ্যমে দখল করে নেয় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে ছাত্র সংগঠন গুলি এরশাদের অবৈধ ক্ষমতা দখল কে নিরবে মেনে নিতে পারে নি । এরশাদের অবৈধ ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে প্রথম আন্দোলনের সূচনা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে । সামরিক শাসন জারির প্রথম দিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করে। ২৪ মার্চ কলাভবনে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে পোস্টার লাগাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয় ছাত্রনেতা শিবলী কাইয়ুম, হাবিব ও আব্দুল আলী। পরে সংক্ষিপ্ত সামরিক আদালতে তাঁদের সাত বছরের কারাদন্ড হয়। সেই থেকে শুরু হয় সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রদের আপসহীন লড়াই।

বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা ২৬ মার্চের স্বাধীনতা দিবসে সাভারের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে গিয়ে শহীদ বেদিতেই সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। মিছিলের খবর শুনে সাভার সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনী চলে আসে, স্মৃতিসৌধে ছাত্রদের ওপর চলে নির্মম নির্যাতন। সে সময় সামরিক আইন জারি থাকার কারনে সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ থাকলে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে লাল-কালো অক্ষরে এরশাদের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে দেয়াল লিখন অব্যাহত ছিল। এক সময় স্বৈরসরকারের পুলিশ সাদা চুন দিয়ে দেয়াল লিখন মুছতে মুছতে ক্লান্ত হয়ে পরে । এভাবেই এরশাদের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে চলতে থাকে দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রামের প্রাথমিক প্রস্তুতি।

সেপ্টম্বরের প্রথম সপ্তাহে গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম লিখিত বিবৃতি প্রদানের মধ্যমে প্রতিবাদের সূচনা হয় । এর ই মধ্যে এরশাদের সামরিক সরকারে বির্তকিত শিক্ষামন্ত্রী মজিদ খানে নতুন শিক্ষানীতি নিয়ে ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে ।১৯৮২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরের শিক্ষা দিবসে এ শিক্ষানীতি বাতিল করার পক্ষে ছাত্র সংগঠনগুলো একমত হয়। ১৯৮২ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ১৪টি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ । ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে মজিদ খান শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে গণসাক্ষরতা অভিযান চলে। দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মজিদ খান শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার কাজও শুরু হয়। এ সংগ্রামকে প্রতিরোধ করতে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি খন্দকার মোহাম্মদ ফারুককে গ্রেপ্তার করলে ছাত্ররা আরো ফুঁসে ওঠেন। তাঁর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি সারা দেশে ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। এরই মধ্যে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩ সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি হাতে নেয়।

কর্মসূচি অনুযায়ী ১৪ ফেব্রুয়ারি সুশৃঙ্খল ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা কর্মসূচিতে যোগ দেন। মিছিলের প্রথমে শতাধিক ছাত্রীর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখ করার মতো। খুবই শান্তিপূর্ণ মিছিল ছিল, উৎসবের মতো অনেকটা। ব্যারিকেডের সামনে যখন মিছিল যায় হাইকোর্টের গেট ও কার্জন হল-সংলগ্ন এলাকায়, তখন মেয়েরা ব্যারিকেডের সামনে বসে পড়েন। নেতারা তারকাঁটার ওপর উঠে বক্তৃতা দিতে শুরু করেন। মিছিলটি ছিল হাইকোর্টের গেট থেকে বাংলা একাডেমী পর্যন্ত। কিন্তু কোনো উসকানি ছাড়াই তারকাঁটার একদিক কিছুটা সরিয়ে রায়ট কার ঢুকিয়ে রঙিন গরম পানি ছিটাতে শুরু করে পুলিশ। এরপর ভেতরে ঢুকে বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে। সাধারণ ছাত্ররা তখন এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করে পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। পুলিশ তখন ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন জয়নাল। সেদিন জয়নালকে গুলিবিদ্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি, তাঁর শরীর বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে পুলিশ। একই সময় শিশু একাডেমির এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা দীপালি সাহা নামের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয় নিহত হয় তবে দীপালির লাশ গুম করে ফেলে পুলিশ। আরো অনেকেই নিখোঁজ হয় তাদের জীবিত বা মৃত কোনো অবস্থায়ই পাওয়া যায়নি। জয়নাল পড়েছিলেন কার্জন হলের মধ্যে। তাঁকে ধরে ঢাকা মেডিক্যালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে যেসব ছাত্র সকালে মিছিলে আসেননি, তাঁরা বিকেলে জয়নালের জানাজায় বটতলায় উপস্থিত হন। হাজার হাজার সাধারণ মানুষও উপস্থিত হয়। উপস্থিত ছাত্র-জনতার ওপর চলে পুলিশি তাণ্ডব। এ সময় মহসীন হলের রান্নাঘরে জয়নালের লাশ ছাত্ররা লুকিয়ে রাখে।

পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় সেনাবাহিনী ও বিডিআর। শাহবাগ, টিএসসি চত্বর, কলাভবনের সামনে, নীলক্ষেত, কাঁটাবনের রাস্তা ধরে পুরো অঞ্চল ঘেরাও করে ফেলে তারা। অপরাজেয় বাংলার সমাবেশে পুলিশ অতর্কিত লাঠিচার্জ শুরু করে। এ সময় বহু ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে পুলিশ ছাত্রছাত্রীদের মেরে হাত-পা ভেঙে ট্রাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ফজলুল হালিম চৌধুরী পদত্যাগ করেন। কলাভবনের ভেতরে ঢুকে পুলিশ ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক যাঁকে পেয়েছে তাঁকেই নির্যাতন করেছে। ওখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খ ম জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে। অবশেষে মুহসীন হলের রান্না ঘরে লাশ পাওয়া গেলে অন্যান্য হলে লাশের তল্লাশি বন্ধ করা হয়। এ সময় দুই হাজারের ওপর ছাত্রজনতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে সরকারি হিসেবে তা এক হাজার ৩৩১ জন। সবাইকে গ্রেপ্তার করে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় শাহবাগের পুলিশ কন্ট্রোল রুমে।এরপর তাঁদের তুলে দেওয়া হয় আর্মির হাতে। বন্দি ছাত্র-জনতার ওপর প্রথমে পুলিশ ও পরে আর্মি নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায় । মেয়েদেরও গ্রেপ্তার করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রবল চাপের কারণে তাঁদের ১৫-১৬ তারিখের মধ্যে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। আর স্বৈরাচারবিরোধী এটিই প্রথম ব্যাপকতর আন্দোলন। স্বৈরাচারবিরোধী এই আন্দোলন কে সমর্থন জানাতে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ও সেদিন রাজ পথে মিছিল সহ নেমে আসে তাদের মিছিলে শরিক হন মেডিকেল কলেজ সহ বিভিন্ন কলেজের ছাত্ররা ।এ মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ ও ব্যাপকভাবে লাঠিচার্জ করে এতে শহীদ হন কাঞ্চন ।আর এভাবেই বাংলার মাটিতে স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলন চাংগা হতে থাকে ।

১৯৬৯ সালের আইয়ূব বিরোধী আন্দোলনে আসাদ নিহত হলে যেমন কেঁপে উঠেছিলো তৎকালিন সমগ্র পূর্ব পাকিস্তান তেমনি নূর হোসেন নিহত হবার পর এরশাদের স্বৈরাশাসনের ভিতে ও চরম ভাবে ঝাকুনি লাগে । আটোরিক্সা চালক নুর হোসেন দেশের অন্য সবার মত গনতন্ত্র মুক্তির আকাংখায় ১৯৮৭ সালের এই দিনে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী গণ-আন্দোলনে বুকে-পিঠে ” গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক ” লেখা স্লোগান নিয়ে বিক্ষোভ করেন নূর হোসেন। রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় (বর্তমান শহীদ নূর হোসেন স্কয়ার ) পুলিশের গুলিতে শহীদ হন তিনি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অকুতোভয় সেই যুবকের অগ্নিঝরা স্লোগান সহ্য হয়নি তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদের। স্বৈরাচারের লেলিয়ে দেওয়া বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে তাঁর বুক ঝাঁঝরা করে দেয়। গুলিতে আরো শহীদ হন যুবলীগ নেতা নুরুল হুদা বাবুল ও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের ক্ষেতমজুর নেতা আমিনুল হুদা টিটোও। নূর হোসেনের আত্মত্যাগে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন আরো বেগবান হয়।

শহীদ জেহাদ সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে এক অবিস্মরণীয় নাম। ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে ঢাকার পল্টনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন নাজির উদ্দিন জেহাদ একই সময়ে আরো শহীদ হন ঢাকা পলিটেকনিকের ছাত্র মনিরুজ্জামান রক্তঝরা ওই আন্দোলন ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠার। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে গিয়ে পুলিশের বুলেট নিজের বুকে বরণ করে নেন জেহাদ ও মনিরুজ্জামান ।শাহাদাত বরণ করেন এই অকুতোভয় ছাত্রনেতা তাদের রক্ত স্রোতের ধারা জোয়ারের বেগে বেগবান হয় স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান ।

ডাঃ মিলন যিনি আসীম সাহসীকতা নিয়ে ১০ অক্টোবর শহীদ জেহাদের লাশ আন্দোলনরত ছাত্রদের হাতে তুলে দেয়। ছাত্ররা লাশ নিয়ে অপরাজেয় বাংলার সামনে চলে যায়। এখানেই তখন স্বৈরাচারী এরশাদের পতন ঘটানোর শপথে গঠিত হয় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটি। ২৭ নভেম্বর ১৯৯০ সেদিন মিলনের রিকশা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পেছন দিয়ে যাওয়ার সময় (এখন যেটা মিলন চত্বর) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর থেকে গুলি করে। একটা গুলি মিলনের বুকে এসে লাগে। স্বৈরাচারী সরকার ভেবেছিল নেতাকে মেরে আন্দোলন দমন করবে; কিন্তু ফল হলো উল্টো। মিলনের শহীদ হওয়ার খবর পৌঁছলে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন নতুন মাত্রা পায় । সে রাতেই ধর্মঘট ডাকা হয় সংবাদপত্রে। পরদিন থেকে বন্ধ হয়ে গেল পত্রিকা বের হওয়া। ২৯ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গণহারে পদত্যাগ করেন। ৩০ নভেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের জন্য ২ ঘণ্টা কারফিউ শিথিল করা হয়। সে সুযোগে আন্দোলনের শহীদদের জন্য মসজিদে মসজিদে গায়েবানা জানাজার সময় মুসল্লিদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিডিআর। সেদিন রামপুরা ওয়াপদা রোডে বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় বাসায় ঢুকে বিডিআররা এক মাকে হত্যা করে। ১ ডিসেম্বর মিরপুরে মিছিলে বিডিআরের গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান পাঁচজন। কাজীপাড়ায় দুজন, ডেমরা-যাত্রাবাড়ীতে দুজন, চট্টগ্রামের কালুরঘাটে সেনাবাহিনীর হাতে একজন, খুলনায় রিকশাচালক মহারাজ, নারায়ণগঞ্জে মণ্ডলপাড়ায় এক কিশোরসহ সারা দেশে আরো অসংখ্য মানুষ নিহত হন পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিডিআরের গুলিতে। ড. মিলন হত্যার পরে মাসে অর্থাৎ স্বাধীনতার বিজয়ের মাসের ২ তারিখে রাজধানীতে ছাত্ররা গণ আদালতে বিচার করেন স্বৈরাচার এরশাদের। গণ আদালতে তাঁর মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। একই সময় সচিবালয় সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকাশ্য এরশাদের বিরুদ্ধাচারণ করে মিছিল বের করেন। গণহারে সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেন। এসময় রাজপথে টহলরত সেনা ও পুলিশের ভ্যান থেকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনকারীদের দিকে হাত নেড়ে সমর্থন দিতে দেখা যায় বিভিন্নস্থানে। ৩ ডিসেম্বর রাতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে এরশাদ শর্তসাপেক্ষে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। চার ডিসেম্বর এরশাদের ” শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাব ” প্রত্যাখ্যান করে পথে নামে মানুষ। বিকেলে তিন জোটের সমাবেশ থেকে এরশাদকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। ১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর রাত ১০টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের ইংরেজি সংবাদে জেনারেল এরশাদ পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে পদত্যাগপত্র স্বাক্ষর করেন জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এভবেই বাংলার মাটিতে জেনারেল এরশাদের দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরশাসনের আবসান হয় ।

কিন্তু যে আশা ও স্বপ্ন নিয়ে জাফর, জয়নাল , বাবুল , নুর হোসেন , জেহাদ বা ডাঃ মিলনদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের সে আশা ও স্বপ্ন আদৌ কি পূরণ হয়েছে ? যে গনতন্ত্রের জন্য তারা জীবন উৎসর্গ করেছেন সেই গনতন্ত্র আজো আমাদের কাছে মরিচিকা ।এরশাদের পতন ঘটিয়ে সংসদীয় ব্যবস্থার প্রচলন ছিল শাসক শ্রেণীর রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি সংস্কার মাত্র।এতে শাসক শ্রেণীর ক্ষমতার পোশাক বদল হয়েছে মাত্র কিন্তু আচরন আগের টাই আছে । একদিন যারা শপথ নিয়ে ছিল স্বৈরাচারী এরশাদের বিচার করার তারাই আজ সেই স্বৈরাচারকে ক্ষমতার অংশাদারিত্ব দিয়েছে । বিশ্বলুচ্চা, বিশ্ববেহায়া , পল্টি বন্ধু নানা উপাধিতে ভূষিত সেই স্বৈরাচারী এরশাদ কদর রাজনৈতিক ময়দানে সবচেয়ে বেশি এবং আমাদের শাসকগোষ্ঠি তার ই পদাংক আনুসরন করছেন । সংসদীয় ব্যবস্থা উন্মোচিত হয়েছে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র রূপে। আজ ছাত্র-যুবসমাজকে দেশপ্রেমিক, জাতি ও জনগণের সেবক হিসাবে গড়ে না তুলে, নৈতিক অবক্ষয়ের চরমে ঠেলে দেয়ার সবরকম আয়োজন চলছে। এ পরিস্থিতিতে উত্তরণের পথ ভোট বা সংস্কার নয় এ কথা আজ দিবালোকের মত স্পষ্ট। আজ কোটি কোটি বঞ্চিত জনগণের স্বপ্ন পুরণের পথ সুগম হয় নি জাতি আজো মুক্ত হতে পারেনি স্বৈরাচারে পেতআত্মা থেকে । তাই স্বৈরাচার পতনের রজত জয়ন্তিতে এসে জাফর, জয়নাল , বাবুল , নুর হোসেন , জেহাদ বা ডাঃ মিলনদের রক্তের ঋণ যাতে শোধ করতে পারি সেটাই হউক নতুন করে শপথ ।