ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

কান্তজিউর মন্দিরের রাসমেলা ও রক্ষা পেলনা শকুনের কালো থাবা থেকে । দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক একের পর এক জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে এ ঘটনা কোন ভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে মেনে নেয়া সম্ভব নয় । এ ঘটনা আমাদের নাগরিক জীবন কে আরো নিরাপত্তাহীনতার মুখে দিয়েছে । বিদেশী নাগরিক , ব্লগার , প্রকাশক , মহরমের তাজিয়া মিছিল , ধর্মীয় পীড় , মাওলানা, যাজক , মোয়াজ্জিন কিংবা মাজারের খাদেম হ্ত্যা সবই একই সূত্রে গাঁথা । আমাদের গোয়েন্দাদের তথ্য মতে এসব ঘটনার সব গুলির সাথেই আছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সম্পৃক্ততা । জেএমবি , আনসারউল্লাহ বাংলাটিম বা আনসার আল ইসলাম যা ই বলি না কেন এসব ই যে উগ্র ধর্মীয় জঙ্গি গোষ্ঠির কাজ তা অস্বীকার করার উপায় কারো ই নেই । একের পর এক এধরনের হামলা জাতি হিসেবের আমাদের জন্য কত টুকু শন্তির বার্তা বয়ে আনছে তা আমরা সবাই কম বেশি অনুভব করছি ? পূর্বের ঘটে যাওয়া এধরনের জঙ্গি হামলার কোনটার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার না হওয়ার ফলাফল ই বর্তমান সময়ের এই নাজুক পরস্হিতি ।

যশোহরের উদিচী থেকে শুরু করে রমনার বটমূলে পহেলা বৈশাখে বোমা হামলা সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলা থেকে শুরু করে ২১ আগষ্ট আওয়ামীলিগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা এমন কি বালিয়ার চড়ে গির্জায় বোমা হামলা থেকে শুরু করে খুলনার আহমদিয়া সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে বোমা হমলা কোনটার ইতো তদন্ত ও বিচার সম্পুর্ন হয়নি । এ সব হমলাকে কাজে লাগিয়ে এর ফায়দা হাসিল করে নিয়েছে আমাদের বিভিন্ন শাসক গোষ্ঠি । এসব হালার মামলায় প্রতিরোধ করতে পেরেছে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে ।সাজানো হয়েছে নতুন নতুন নাটক আর এসব নাটকের নায়কদের সন্ধানে যখন আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে থাকতে হয় ব্যস্ত সেই সুযোগ কেই কাজে লাগিয়ে সত্যিকার ভিলেনেরা পাড় পেয়ে আবার নতুন ঘটনার জন্ম দিয়ে তাদের অসীম শক্তির বার্তা আমাদে জানান দেয় । দিনাজপুরের কান্তজিউয়ের মন্দিরে বোমা হামলা তাই প্রতিচ্ছবি । দিনাজপুরের কাহারোলে কান্তজিউয়ের মন্দিরে প্রায় তিন শতাব্দী ধরে চলে আসছে রাসমেলা । কান্তজিউর মন্দির ও রাসমেলা এটি হিন্দুধর্মাম্বলীদের হলে ও শরিক হন সকল ধর্ম বর্ণ ও গোত্রের মানুষ যার প্রমান আমরা দেখেছি আহতদের তালিকা থেকে। বোমা হামলার স্হান ছিল রাসর যাত্রা প্যান্ডেল । যাত্রাপালায় জঙ্গি হামলার এটা নতুন কিছুন নয় এর আগে ও বিভিন্ন সময়ে যাত্রা প্যান্ডেলে জঙ্গি হামলার ঘটনা আমারা দেখেছি । সে অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় এ ধরনের হামলা আমাদের আবহমান বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি হামলা আমাদের জাতি সত্ত্বার উপর হামলা । তাই শকুনের এই কলো থাবা এক দিকে যেমন হুমকিতে ফেলেছে আমাদের বাঙালির সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি , অন্যদিকে হুমকি শিকার হয়েছে আমাদের জাতি সত্ত্বার মূল ভিত্তি আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি ।এখন ই সময় আমাদের সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তাব্যক্তি তাদের চোখের ঝাপসা কাটিয়ে খোলা চোখে তাকাতে হবে আমাদের মুক্ত আকাশের দিকে যেখানে উড়ছে ধর্মীয় উগ্রবাদের কালো শকুন বার বার থাবা দিচ্ছে আমাদের জন-জীবনের নিরাপত্তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি ও জাতি সত্ত্বার মূল ভিত্তি বাঙালি সংস্কৃতির উপর।