ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ ও আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ একই সূতয়ে গাঁথা । এর কোন টাকেই বাদ দিয়ে আমাদের অস্তিত্বের কথা চিন্তা একেবারেই অসম্ভব । অবিসাংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর নামেই সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্হায়ী রাষ্ট্র প্রধান করে গঠিত হয়েছিল প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার যাদের নেত্বতে পারিচালিত হয়েছিল আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ । জিয়াউর রহমান , খালেদ মোশারফ , মোঃ শফিউল্লাহদের রণাঙ্গণে নেতৃত্ব সেই সাথে বাংলার আপমর জনসাধারনের আত্মত্যাগ ই মহান মুক্তি যুদ্ধে আমাদের বিজয়ের মূল মন্ত্র । বিজয় অর্থাৎ স্বাধীনতার চৌয়াল্লিশ বছর পর ও নানা ভবে বির্তকিত করা হয় আমাদের মুক্তি যুদ্ধকে । ” মুক্তিযুদ্ধ মানেই আওয়ামী লীগ ” এমনটাই দাবী আওয়ামী নেতৃত্বের কিন্তু এ দাবী কখনোই বাস্তবতা পায়নি । মুক্তিযুদ্ধ মানে ই যে বাংলার আপমর জনগন এটাই বাস্তবে প্রমানিত হয় । কারণ ” মুক্তিযুদ্ধ মানেই আওয়ামী লীগ ” এ তত্ত্বে যে সব মুক্তিযুদ্ধারা বিশ্বাসী নয় পরবর্তীতে তারাই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া বিএনপি তে যোগদিতে থাকেন , গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র । অতি সম্প্রতি ” মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন আছে ” বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্য জাতিকে মর্মাহত করছে এটাই স্বাভাবিক । জামাত- শিবির সহ মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি দীর্ঘদিন যাবৎ এমনটি বলে আসছিল যদিও এর পক্ষে কোন বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমান কোন ভাবেই উপস্হান আজো করা সম্ভব হয়নি বা কখনো হবে ও না । শহীদের সংখ্যা যাই হউক না কেন আমাদের দেশ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে ,মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্বোরোচিত গনহত্যা হয়েছে এটা তো বাস্তব সত্য । নাকি এমন দিন আসছে যে বিএনপি নেত্রীর মুখে তার মিত্র জামাত শিবিরের মত শুনতে হবে আমাদের দেশে কোন মুক্তি যুদ্ধ হয়নি হয়েছে গৃহযুদ্ধ নয় তো দীলিপ বড়ুয়াদের মত দুই কুকুরের কামড়া কামড়ি!
খালেদা জিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগ রাজাকার পুষছে। যুদ্ধাপরাধী নূরুল ইসলামকে ‘পতাকা’ দিয়েছিল। খালেদা জিয়ার এ কথা অস্বীকার করার কোন পথ নেই ঠিক তেমনি শাহ আজিজ সাকা চৌধুরী নিজামী মুজাহিদের পতাকা ও সহ্যকরা যায় না । শেখ হাসিনা নিজের দলের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছেন না এটা সত্য এটা ও সত্য যে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম খালেদা জিয়ার কাছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে বিচার পান নি পেয়েছেন লাঞ্ছনা আর রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপবাদ , গোলাম আজম পেয়েছে এদেশের নাগরিকত্ব । বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন তারা ক্ষমতায় আসলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রাখবেন জাতি আপনার এ কথাকে সাধুবাদ জানায় কিন্ত প্রশ্ন একনব্বইয়ে ক্ষমতায় এসে কেন এ কথাটি বেমালুম ভুলেগিয়েছিলেন ? যে ভাবেই হউক কেন শেখ হাসিনাকে দীর্ঘদিন পরে বিচারের কাজ কাধে নিতে হলো ? জামায়াতের আদর্শ-নীতি ধারণ করে নিজেদের কে যেমন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে দাবি করা যায় না তেমনি ‘স্বচ্ছ’ ‘আন্তর্জাতিক মানদন্ড’ ইত্যাদি ইত্যাদি বলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াধী রাখার কথা বলা শুধুই মাত্র লোক হাঁসানোর শামিল । খালেদা জিয়া যেখানে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সে ক্ষেত্রে তার দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের সে প্রশ্নকে সমর্থন করাই একমাত্র কর্তব্য হয়ে দাড়িয়েছে সেই সাথে জামাত-শিবিরের প্রপাগান্ডাকে উৎসাহিত ও সমর্থিত করেছে তেমনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে নিজেদের দাবিকে ও জনগনের কাছে হাস্যকার দাবী হিসেবে পরিনত হয়েছে।