ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মুঠোফোন অর্থাৎ মোবাইল ফোন প্রায় সবার ই হাতে হাতে । পরিবারে কনিষ্টতম শিশুটি ও শুদ্ধ করে বলতে পারে মোবাইল ফোনের নামটি তাই এমন জামানার অতি প্রয়োজনীয় এই যন্ত্রটির নামের বানান ভুল করা বা ভুল হওয়া বোধহয় কারোই বিশ্বাস কারার মত নয় বা বিশ্বাস যোগ্য নয় । আর এমন ভুলটা যদি হয় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় তা কি কেউ বিশ্বাস করবেন ? কেউ বিশ্বাস করুন আর নাই করুন গত ৮ জানুয়ারি ২০১৬ অনুষ্ঠিত হওয়া দেশের ৩৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্ন পত্রে এমন ” হাস্যরসাত্মক ” ভুলের ই সন্ধান পাওয়া গেছে।

এ পরীক্ষার চার নম্বর সেট ” দোলনচাঁপা ” এর ১৮৬ নম্বর প্রশ্নটি ছিল এমন : Mobile Pone-এর কোনটি input device নয় ? যেখানে শুদ্ধ ও সঠিক বানান টি হওয়ার কথা ছিল ” Mobile Phone ”

এই ভুলেই কিন্তু ভুলের শেষ নয় , একই সেটের ১৩৩ নম্বর প্রশ্ন টি ছিল: বর্তমানে NAM এর সদস্য সংখ্যা কত ? স্বাভাবিক ভাবেই সঠিক উত্তর আসে ১২০ অথচ উত্তরে জন্য নির্ধারন করা হয়েছে (ক) ৩৩ (খ) ১৫ (গ) ৭৭ (ঘ) ২১ ।

আর ১৪৩ নম্বর প্রশ্ন ছিল দুইটি সমান্তরাল রেখা কয়টি বিন্দুতে ছেদ করে ? এখানে উত্তরে লেখা হয়েছে (ক) ৪ (খ) ২ (গ) ৮ (ঘ) ১৬। এই প্রশ্নের ও সঠিক উত্তরের সন্ধান মিলেনি এখানে ।

এবারের ৩৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় দেশের ১৬১টি পরীক্ষা কেন্দ্রে দুই লাখের ও বেশি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পিএসসির তথ্যমতে এই বিসিএসের মাধ্যমে দুই হাজারের বেশি লোকবল বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেয়া হবে। যেখানে বিগত বেশকয়েক বছর যাবত আমরা দেখছি প্রত্যেকটি পরীক্ষাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের কালিমা থেকে মুক্ত হতে পারেনি আর পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা হলো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি পরীক্ষা যার মাধ্যমে হাজারো মেধাবী বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ পায় সেই পরীক্ষার প্রশ্ন পত্রে এতগুলি ভুল সেটা সত্যি দুঃখজনক ও হাস্যকর নয় কি বটে ?

এখানে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে বিসিএস পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট পাবলিক সার্ভিস কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগ্যতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে । বর্তমানে দেশের সিংহভাগ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার অভ্যস্ত । এ প্রযুক্তির উৎকর্ষ যখন ছুঁই ছুঁই, তখন এ ধরনের ভুল জাতি হিসেবে আমাদের জন্য কতটুকু সম্মানজনক সেটাই একটা বড় প্রশ্ন ?