ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

গত কালই এবারের বই মেলায় প্রথম যাওয়া । সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকতেই চোখে পরল জাগৃতি প্রকাশনীর স্টল । তাই এদিক ও দিক না তাকিয়ে সোজা চলে গেলাম ওখানে । স্টলের ঠিক মাঝ খানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ধর্মীয় উগ্রবাদীদের হাতে সদ্য খুন হওয়া ফয়সাল আরেফীন দীপনের স্ত্রী ডা. রাজিয়া রহমান । বই কেনার ছলে তার সাথে কিছুক্ষন কথা হলো । সদ্য বিধবা ডা. রাজিয়া রহমান সব কিছুতেই যেন উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন তারপরও কিছু কথা হলো । মেলাতে ঢোকার পথেই হঠাৎ করেই চোখ গেল রাস্তার ঐ কোণে যেখানে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের চাপাতির কোপে খুন হতে হয়েছে বিজ্ঞান মনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়কে । গত বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় এখানেই আভিজিৎ ও বন্যা আহমেদের রক্তের জোয়ার বয়ে গেছে আজ এখানে রক্তের কোন চিহ্ন নেই । তারপরও মনের ভিতর রয়ে গেছে অজানা আতংক আর ভয়। এই ভয়কে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ দৈনিক যুগান্তের সংবাদের পর থেকে । গোয়েন্দারা নাকি জানিয়েছেন আনসারুল্লাহ বাংলাটিম এবারও ভাষার মাসে চারজন ব্লগারকে কুপিয়ে মারার পরিকল্পনা করেছে । কেন জানি আমার কাছে বার বার মনে হয় ধর্মীয় উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী সবসময়ই সরকার ও প্রশাসনের কাছে থেকে একটি বিশেষ আনুকূল্য পেয়ে থাকে । পহেলা বৈশাখ রমনা বটমূলে বোমাহামলা হউক আর ২১ আগষ্টের গ্রেনড হামলার ঘটনা হউক চাই সেটা হুমায়ুন আজাদ অভিজিৎ কিংবা দীপন হত্যা হউক । কোনটার ই তো কোন সুষ্ঠ সুরাহায় আজো পর্যন্ত হয়নি ।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৬ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কিভাবে ই না প্রকাশকদের কে হুমকি দিয়ে বললেন তারা যেন উস্কানিমূলক বই প্রকাশ না করে। শামসুজ্জামান খান সাহেবের কাছে প্রশ্ন উস্কানি বলতে আপনি কি বুঝিয়েছেন? ভেবেছিলাম পহেলা ফেব্রুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মেলার উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে হয়তো অভিজিৎ-দীপনসহ ধর্মীয় মৌলবাদীদের হাতে খুন হওয়াদের নিয়ে কিছু একটা বলবেন। এবারের মেলা হয়তো অভিজিৎও দীপন স্মরনে উৎসর্গ করবেন । কিন্তু না তেমন কোনটাই হলো না ।

আশাহত হয়েছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। মর্মাহত হয়েছি শামসুজ্জামান খান সাহেবের কথায়, যখন তিনি গর্বের সাথে বলেছেন বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে অভিজিৎ, দীপনের স্মরণে কিছুই করা হচ্ছে না । অভিজিৎ খুন হয়েছে বছর ছুঁই ছুঁই দীপনও বেশ কয়েক মাস। কিন্তু আজো আমাদের সরকার ও তার আইন শৃংখাল রক্ষাকারী বাহিনী এর কোন কুলকিনারায় পৌছেনি । সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার পরক্ষনেই আমরা শুনেছি ৪৮ ঘন্টার মধ্যে খুনিদের পাকরাও করে এর বিহিত হবে কিন্তু ৪৮ মাস পার হয়ে গেলে ও অথৈ সাগরে ডুবে আছে সাগর-রুনি হত্যার রহস্য । তাই বার বার শুধুই মনের ভিতর একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খায় কেন আমাদের দেশে এমনটা হয় ?