ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

একের পর লাশের মিছিলে যুক্ত হচ্ছে শিক্ষক,শিক্ষার্থী, প্রকাশক, লেখক, ব্লগার, যাজক, ইমাম মুয়াজ্জিন বিদেশী নাগরিক, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীসহ মুক্তমনা মানুষ । প্রতি দিনই দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল । হত্যার উল্লাসে মেতে উঠছে দুস্কৃতিকারী নামধারীরা । নানা ভাবে নানা শ্রেনীর মানুষ আজ এই হত্যার শিকার । মাত্র অল্প কয়েক দিনে আমাদের দেশে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে । এ ধরনের হত্যাকান্ডের পর স্বাভাবিক ভাবেই আমরা দেশের সাধারন মানুষ নানা ভাবে প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠি যদিও এই প্রতিবাদ খুবই অল্প সময়ে ই আবার ঝিমিয়ে যায় । ঝিমিয়ে যাওয়া প্রদিবাদের সুযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ঝিমিয়ে যাচ্ছে । এই ঝিমানোর সুযোগে তথা কথিত দুস্কৃতিকারীরা তথা অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা নতুন করে জ্ঞাতসারেই কাউকে হত্যা করে নতুন চাঞ্চল্যের জন্ম দিচ্ছে ।এ সব ঘটনা নিয়ে নানা জনের নানা মত । প্রতিটি ঘটনার পর ই আমাদের রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিরা এগুলিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে আখ্যায়িত করলেও প্রশ্ন থেকে যায় সত্যিকারে ই কি খুন হত্যার মত জঘন্য ঘটনা গুলি কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা?

গত ২৫ এপ্রিল গাজীপুরের কাসিমপুর কারা ফটকের সামনে দুস্কৃতিকারীদের গুলিতে খুন হন কারা সার্জেন্ট ইনস্ট্রাক্টর রুস্তম আলী হাওলাদার এর ই কিছুকক্ষন পরের সংবাদের শিরোনামে উঠে আসে রাজধানীর কলাবাগানে জোড়া খুনের খবর । রাজধানীর কলাবাগানে দূবৃত্তের চাপাতি ও বুলেটের আঘাতে খুন হন সাবেক মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তা ও সমকামীদের অধিকার আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক বাংলা দেশে সমকামী ও তৃতীয় লিংগের অধিকার-বিষয়ক একমাত্র ম্যগাজিন ” রূপবান ” এর সম্পাদক জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মঞ্চনাটকের কর্মী মাহবুব তনয় । একের পর এক ঘটে যাওয়া এধরনের ঘটনা কে কি বলে আখ্যায়িত করা যায় তা হয়তো আমার বোধগম্য নয় তবে সরকার ও তার প্রশাসন বরাবে ই দাবি করে আসছে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ! দেশে একের পর এক সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ঘটনা ওই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।চাঞ্চল্যকর হত্যার অধিকাংশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে এক ধরনের ব্যর্থতার পরিচয় দিতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহীনিকে ।

বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তরের তৈরি করা হিসাব অনুযায়ী গত সাড়ে তিন মাসে দেড় হাজারের বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে দেশে। মাস ভিত্তিক হিসেবে জানুয়ারি ২০১৬ তে সাড়া দেশে খুন হয়েছে ২৬৭ জন ফেব্রুয়ারি মাসে ২৯১ জন মার্চ মাসে খুন হয়েছে ৩০৭ জন আর এপ্রিলের প্রথম বিশ দিনে ই খুন হতে হয়েছে প্রায় ৩০০ জনকে । গত বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে খুনের ঘটনা ঘটে প্রায় চার হাজার ২৫টি । মানুষের জীবন যেমন কোন কিছুর বিনিময়েই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় তেমনি হত্যা হত্যাই এটাকে সংখ্যায় নির্নয় করা কোন ভাবে ই সভ্যসমাজের কাজ নয় । প্রতিটি হত্যাই সমান ঘৃনিত অপরাধ । একটি হত্যার বিচার না হলে বা অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনা হলে অন্য একটি ঘটনা ঘটাতে উৎসাহ বোধ করে অপরাধীরা । তাই কোন হত্যাকান্ড ই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে না একটি হত্যার ঘটনা যেহেতু আরো একটি হত্যাকান্ড সংগঠিত হওয়ার জন্য প্রেরনা যোগায় তাই এতেই আমরা ধরে নিব একটি ঘটনার সাথে আরেকটি সম্পৃক্ততা অবশ্যই আছে । ২৫ এপ্রিলের কোন একসভায় অবশ্য আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বীকার করে নিয়েছেন যে এসব হত্যাকান্ডের কোনটি ই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় ।আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় যদি ও এ সব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলেই চালিয়ে যাচ্ছেন ।

এ সব হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন হউক আর অবিচ্ছিন্ন হউক তা নিয়ে আমারা সাধারন মানুষ কখোনই তর্কে যাবো না বা যাওয়ার ও প্রয়োজন মনে করি না । এ ধরনের একের পর এক খুন হত্যা আমাদের সাধারন মানুষের মনের ভিতর যে ভয়ের সৃষ্টি করেছে এটা ই বাস্তব । এ ধরনের একের পর এক ঘটে যা হত্যার ঘটনায় আজ আমরা সাধারন মানুষ কেউ ই নিজেকে ঘরে অথবা বাহিরে কোথাও নিরাপদ ভাবতে পারছি না । চাপাতি আর বুলেটের ভয় যেন আজ সমগ্র জাতিকে তাড়া করে ফিরছে ।প্রতিটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেয়া সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব । সরকার ও প্রশাসনের উচিত হবে এধরনের অপরাধ কমাতে হলে সঠিক তদন্তের মাদ্যমে অভিযুক্তকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো । শাস্তি না হলে অপরাধীরা নতুন অপরাধের জন্য উৎসাহ পায়। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাক এটা সুস্হ্য জাতি হিসেবে আমাদের কারো ই কাম্য নয় ।সব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করতে পারলেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটিয়ে আমাদের সাধারন মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব ।