ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

“আজ হতে চির উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির, সত্যিই তুমি মহান উদার বাদশাহ আলমগীর।” কবি কাজী কাদের নেওয়াজের কবিতার পংক্তি দুটি আজ খুব মনে পরছে ।সেই কোন কালে দিল্লীর বাদশাহ আলমগীর শিক্ষককে কিভাবে সম্মানিত করেছেন তার ই প্রমান মিলে এই কবিতায় ।আমরা সবাই ছোট বেলায় কবি কাজী কাদের নেওয়াজের কবিতাটি পরেছি কিন্তু তার সারংশ আদৌ কত জন বুঝেছি বা বুঝতে পেরেছি ? শিক্ষক যাদের বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগড় শ্যামল কান্তি ভক্ত তেমনি একজন মানুষ গড়ার কারিগড় , একজন শিক্ষক । জীবনের দীর্ঘ বাইশ বছর নিজের অর্জিত জ্ঞান ও মেধা সবই উজার করে দিয়েছেন ছাত্রদের মাঝে তার জ্ঞান ও মেধার আলোয়ে আলোকিত হয়ে আজ হয়তো অনেকেই সমাজে প্রতিষ্ঠি ও সম্মানিত । শ্যামল কান্তি ভক্ত দীর্ঘ বাইশ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের মদনপুরের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন হঠাৎ করেই গত ১৩ মে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি তথা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি । ক্লাশে পড়া না পারার জন্য যে শিক্ষক প্রায়ই ছাত্রদের কানে ধরে দাড় করিয়ে রাখতেন বা কানধরে উঠবস করাতেন তাকেই নাকি শেষ পর্যন্ত হাজারো মানুষের সামনে কানধরে উঠবস করতে হলো তা ও আবার একজন সাংসদের উপস্হিতিতে সাংসদের ই হুকুমে ।

সংবাদ মাধ্যম থেকে যতটুকু জেনেছি এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ই না কি এ কান্ড । শিক্ষার্থীর আভিবাবক বিদ্যালয়ের পরিচানলা পরষদের কাছে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ করলে বিদ্যালয় পরিচানলা পরষদ এ নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করে । বৈঠকের সময় ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির বিষয়টি এলাকার বিভিন্ন মসজিদের মাইকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এলাকার মানুষের কানে । ক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষককে মারধর করে অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে ব্যর্থ হলে স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানকে খবর দেওয়া হয়। তিনি সেখানে গিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকে তাঁর কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে বলেন। ওই সময় সাংসদ সেলিম ওসমানের নির্দেশে শিক্ষক প্রকাশ্যে কানে ধরে ওঠ-বস করে ক্ষমা চান। পরে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। শুধু তা-ই নয়, এরই মধ্যে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অবশ্য ধর্ম নিয়ে কটূক্তির বিষয়টি শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ও তার বেশকয়েক জন সহকর্মী সহ অভিযোগকারি শিক্ষার্থী ও তার অভিবাবক গনমাধ্যমে অস্বীকার করে আসছেন । সবচেয়ে মাজার বিষয় হলো কে বা কারা মসজিদের মাইক যোগে শ্যামল কান্তি ভক্তর ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির বিষয়টি প্রচার করেছে তাদের এখন ও সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি !

তাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে কে বা কারা কার স্বার্থে এবং কোন স্বার্থে এমন ঘটনার জন্ম দিল ? যে শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে নিজের ঘাম ঝরিয়ে বাড়ি বাড়ি থেকে ছাত্র ধরে এনে একটি বিদ্যালয়কে সু-প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি কি এতই অজ্ঞ যে হুট করে একজন ছাত্রকে পিটাবেন আর ছাত্রের চিৎকারের কারনে ধর্ম নিয়ে অবমাননা বা কটুক্তি করবেন ? যতটুকু শুনেছি বিদ্যালয় পরিচালনা পরষদের মধ্যে রয়েছে নানা স্বার্থের বিরোধ তা নিয়ে দলাদলি ও ভাগাভাগি রয়েছে । দ্বন্দ্ব রয়েছে পরিচালনা পরষদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ও । বর্তমান প্রধান শিক্ষককে সরাতে পারলে কোনো পক্ষ নিজেদের কোনো পছন্দের ব্যক্তিকে প্রধান শিক্ষক করতে হয়তো পথের অনেক কাঁটা ই পরিস্কার হয়ে যেত সেই হিসাব–নিকাশ থেকেই হয়তো একটি বিশেষ মহল আদা জল খেয়ে লেগেছিল শ্যামল কান্তিকে সরাতে ।পরিকল্পনাটি যে নিখুঁত, তা একটু ঠান্ড মাথায় চিন্তা করলেই বুঝা যায়। স্থানীয় সাংসদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহ হাজারো জনতার সামনে ই এই চূড়ান্ত বর্বরতার ঐ ঘটনাটি ঘটেছেন।উৎসুক জনতা ও ” জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ” স্লোগানে নিষ্ঠুর এই বর্বরতা কে উপোভোগ করেছেন ।

আজকের রাজনৈতিক ক্ষমতাবান সেলিম ওসমানরা তো বাদশাহ আলমগীর ও বঙ্গবন্ধু ই উত্তসুরি । তাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আত্মমর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধের জায়গাগুলো কি এসব জনপ্রতিনিধির নেই ? পরিবার থেকে কি আদৌ তাদের শেখানো হয়নি কীভাবে শিক্ষকের সঙ্গে ব্যবহার করতে হয় ? জানি না বাদশাহ আলমগীর কিংবা বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এই বর্বরতার বিচার কিভাবে করতেন ? শ্যামল কান্তি ভক্ত যদি কোনো অপরাধী করে থাকেন তাহলে তাঁর বিচার হবে এটা অস্বাভাবিক নয় । কিন্তু বিনা আপরাধে একজন সম্মানিত শিক্ষককে যারা এধরনে অপমান করলো শারিরীক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করলো তাদের আজ কি বিচার হবে ? কারা ই বা করবে তাদের বিচার ? শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত আপনার সাথে যা হয়েছে তা হয়তো কোন দিন ই আমরা আপনাকে পুষিয়ে দিতে পারবো না তবে আপনার কাছে ক্ষমা চেয়ে কলংকের বোঝা হয়তো কিছুটা হলকা করতে পারবো । আপনাকে কানে ধরিয়ে অপমান করে তারা শুধু আপনাকেই ছোট করে নি ছোট করেছে পুরো সমাজ তথা জাতিকে । নাক কান কেটেছে সমগ্র সমাজের সমগ্র জাতির ।