ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত আমাদের দেশের শিক্ষার মান নিয়ে একটি প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ সাধারন মানুষের মুখেমুখে আলোচিত ও সমালোচিত । প্রতিবেদনে অতিসম্প্রতি ফল প্রকাশ হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ন কয়েক জন শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকারভিত্তিক যাদের মধ্যে কয়েক জন আবার জিপিএ ৫ ও পেয়েছে । প্রতিবেদক শিক্ষার্থীদের বেশকয়েকটা সাধার প্রশ্ন করেছেন যার উত্তর জানাটা ঐ সকল ছাত্র-ছাত্রীর অবশ্যই উচিত কিন্তু দূর্ভাগ্য হলেও সত্যি তারা এই সাধারন প্রশ্ন গুলির উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে । অবশ্য এই গুটিকয়েক ছাত্র-ছাত্রীর এ ধরনের সাধারন প্রশ্নের উত্তর না জানা নিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়া সকল ছাত্র-ছাত্রীর মেধা বা তাদের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা কতটুকু সমচীন হবে তা নিয়ে আমার যথেষ্ট প্রশ্ন আছে ? তবে আমাদের শিক্ষার মান নিয়ে যে প্রশ্ন সেটা অনেক পুরোনো । আমাদের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য একেক সরকার একেক পদ্ধতি ও ফর্মূলা আবিস্কার করেন তার পর ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে । আর সরকারের আবিস্কৃত ফর্মূলার গেরাকলে পরে আমাদের কোমলমতি শিশু ও তাদের অভিবাকরা আছেন নানান যন্ত্রনায় ।

আলোচিত ঐ প্রতিবেদনে সাংবাদিক মহোদয় যে চিত্র তুলে ধরেছেন তার মূল বিষয়ের সাথে আমার ও কোন দ্বিমত নেই কিন্তু আমার প্রশ্ন তিনি ঐ প্রতিবেদন তৈরি করতে যেয়ে সাংবাদিকতার রীতি ও নীতি কতটুকু মেনেছেন বা অনুসরন করেছেন ? ঐ প্রতিবেদনে যে সকল শিক্ষার্থীদের দেখানো হয়েছে তারা সবাই অপ্রাপ্ত বয়স্ক আর এই অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিক্ষার্থীদের এ ধরনের সাক্ষাতকার প্রচার করে সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করা কতটুকু আইন সিদ্ধ সেটাই একটা বড় প্রশ্ন ? উক্ত প্রতিবেদনে প্রচার হওয়া শিশুরা যে শুধু মাত্র সামাজিক ভাবেই হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন এমন টি ই নয় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ও আমি চিন্তিত এবং শংকিত । আতি নিকটেই তাদের জন্য বড় চ্যলেঞ্জ উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি । উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি জন্য ভালো কোন কলেজ এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে তারা যখন কোন ভালমানের কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হবে সেখানে ও হয়তো তাদের এই সাক্ষাতকার কাল হয়ে দাড়াতে পারে । উক্ত প্রতিবেদনে প্রতিবেদকের প্রশ্ন গুলি ছিল খুব ই নগন্য এসব প্রশ্নের উত্তর যানাটাই তাদের জন্য স্বাভাবিক কিন্তু হঠাৎ একটা বাচ্চার সামনে টেলিভিশনের ক্যামেরা বুম ও একজন সাংবাদিকের উপস্হিতি খুবই অস্বাভাবিক । এই অস্বাভাবিকতার করনে হয়তো এমন ও হতে পারে যে উক্ত শিক্ষার্থীরা যথাযথ উত্তর দিতে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে ?

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক সময়ে অধিকাংশ ভাল কলেজে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের এসএসসি তে জিপিএ-৫ পাওয়া টা বধ্যতা মূলক । দেশের রাষ্ট্রপতির নাম কি এমন প্রশ্নের উত্তর না জানলে হয়তো বন্ধু মহলে হাসির পাত্র হতে হবে কিন্তু জিপিএ-৫ না পেলে ভাল কলেজের দরজায় ও যাওয়া যাবে না । এমন চিন্তার করনেই হয়তো আজ আমাদের ক্ষুদের শিক্ষার্থীরা বাহিরের নানা কিছু জানার চেয়ে ভাল ভাবে সিলেবাস শেষকরার দিকে বেশি মনোযোগী হয়ে পরছে । তাই যে কোন মূল্যেই হউক পাবলিক পরীক্ষা গুলিতে চলছে কোমল মতি শিশু ও তাদের অভিবাবকদের জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতা। এমন কি আমরা প্রায় ই সংবাদ মাধ্যমে ও দেখি জিপিএ-৫ না পাওয়ার করনে কোন কোন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ পর্যন্ত বেছে নেয় । আমরা চাইবো আমাদের শিক্ষার মান থাকুক সকল প্রশ্নের উর্দ্ধে । কিন্তু শিক্ষার মান উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে কোন সাংবাদ বা প্রতিবেদন প্রচার করতে যেয়ে যদি কোন কোমলমত শিক্ষার্থী আত্মীয় বন্ধু বা সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হবে বা সেই সংবাদ বা প্রতিবেদন কোন কোন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে আন্ধকারের দিকে ঠেলে দিবে এমনটা কোন সুস্হ্য মস্তিকের মানুষের ই কাম্য নয় । সরকার ,শিক্ষক, অভিবাবক ও শিক্ষার্থী সহ রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক ই আমাদের শিক্ষার মানউন্নয়ন নিয়ে এক যোগে কাজ করে উন্নত মেধা ও মননশীল শিক্ষাব্যবস্হা প্রতিষ্ঠিত করবো এটাই কাম্য ।তবে এই প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীরা অতিসাধারন এই প্রশ্ন গুলির উত্তর না দিতে পেরে সমাজের যত টুকু লজ্জিত হয়েছে তার চেয়ে বেশি লজ্জিত হওয়ার কথা আমাদের তথা এই সমাজের এই রাষ্ট্রের কারন আমরা তাদের যথাযথ শিক্ষা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছি বলেই তারা আজ লজ্জিত হচ্ছে । তাই এই লজ্জা কোমলমতি শিশুদের নয় এ লজ্জা আমাদের এ লজ্জা সমাজের এ লজ্জা রাষ্ট্রের এ লজ্জা আজ আমাদের সকলের ।