ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

প্রতিটা জাতি ধর্ম ও বর্ণের মানুষের জন্য বিশেষ বিশেষ কিছু আনন্দের মুহুর্ত ও দিন আছে । আমরা বাঙ্গালিরা ও এর ব্যতিক্রম নই আমাদের বিভিন্ন উৎসবের মধ্যে দুইটি দিন বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য বিশেষ করে মুসলমানদের জন্য একটি হলো ঈঁদুল ফিতর আর একটি ঈঁদুল আযহা । শোলাকিয়ার সাথে আমাদের দেশের মুসলমানদের একটা বিশেষ সম্পর্ক আছে এই সম্পর্কটা ই হলো ঈঁদ কেন্দ্রিক । মুসলমানদের জন্য ঈঁদ ই হলো আনন্দ আর এই ঈঁদ আনন্দের শুরুটাই হয় ঈঁদের নামাজ দিয়ে । আমাদের দেশে যত গুলি ঈঁদের জামাত হয় তার মধ্যে সব চেয়ে বড় জামাত হয় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শোলাকিয়ায় সেই ১৮২৮ সালে থেকেই এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের অংশ গ্রহনে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এ জামাত ।দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ঈঁদ উৎসবের অংশ হিসেবে শোলাকিয়ায় আসেন । শোলাকিয়ার ঈঁদের জামাত ১৮৮ বছর পার করলে ও পূর্বে কোন অঘটন ঘটেনি শোলাকিয়ার তথা আমাদের ঈঁদ আনন্দে । ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আবশেষে ধর্মীয় উগ্রবাদের কালো থাবা ক্ষমা করে নি মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈঁদকে ।শোলাকিয়ার মাটি রণ্জিত হয়েছে সাধারন মানুষের রক্তে ঈঁদের সব আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে জঙ্গিদের বুলেট আর চাপাতির আঘাতে ।ঈঁদের আনন্দের পরিবর্তে শোলাকিয়ার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে গেছে নিহতের স্বজনদের আহাজারি আর আহতদের আর্তনাথে । মুহুর্তেই জীবন দিতে হলো দুই জন পুলিশ সহ চারজন নিরীহ মানুষ কে । তার মাত্র সপ্তাখানেক আগে জঙ্গিদের আরো এক ঘৃন হামলায় রাজধানীর গুলশানে বিদেশী নাগরিক সহ জীবন দিতে হয়েছে ২৮ জন সাধারন মানুষকে ।

১৭৮৯ সালে ফরাসী বিপ্লবের সময় বাস্তিল দুর্গের পতনের বার্ষিকী হিসেবে প্রতি বছর ১৪ জুলাই জাতীয় দিবস পালন করে ফ্রান্স যেটাকে বলা হয় বাস্তিল দিবস ।বাস্তিল দিবস উদযাপন করতে ফ্রান্সের বহু লোক দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় নিস শহরে ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী বিখ্যাত প্রমেনেদ দেজাঙ্গলে চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন আতশবাজির উৎসবে এসেছিলেন জাতীয় দিবস পালনের উৎসবে । শেষ পর্যন্ত সেই উৎসব আর উৎসব থাকে নি ঊৎসব পরিনত হয়েছে শোক আর আর্তনাতে মুহুর্তে ই ধর্মীয় উগ্রবাদি জঙ্গিদের কোন এক ট্রাক তুলে দেয়া হয় উৎসবে আসা নিরীহ মানুষের উপর । মুসলিম নামধারী কোন এক ড্রাইভার নিসংকোচে হাজারো জনতার উপর দুই কিলোমিটার চালিয়ে নিয়ে যায় ২৫ টনি একটি ট্রাক । শিশু আবাল বৃদ্ধ সহ মুহুর্তেই জীবনদিল ৮৪ জন সাধারন ফরাসি মানুষ । মাত্র আট মাস আগেই রক্তাত হয়েছিল ফ্রান্স । ইসলামী স্টেট নামধারী জঙ্গিদের হামলায় তখন ও জীবন দিতে হয়েছিল ফ্রান্সের ১৩০ জন সাধারন মানুষকে ।

ফ্রান্স হউক আর আমাদের বাংলাদেশ ই হউক আজ আমরা সবাই এক গ্লোবাল ভিলেজের বাসিন্দা । গুলশান ও শোলাকিয়ার ক্ষত এখনো আমাদের ভিতর দগ দগ করছে রক্তক্ষরন বন্ধ হয় নি সেই ক্ষত থেকে এর ই মাঝে নিস এর হামলা আমাদের মঝে নতুন আতংকের জন্ম দিয়েছে । আবার কোন ট্রাক আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে । ফ্রান্স সুগন্ধের জাতি ফরাসি সুগন্ধির জগৎ যোরা নাম আছে আমরা ও সুগন্ধি প্রিয় জাতি ঈঁদের দিন আমরা ও সুগন্ধি ব্যবহার করি । আমাদের ব্যবহিত সুগন্ধির সুবাসে আকাশ বাতাশ সুবাশিত হয়ে ঈঁদের আনন্দকে করে আরো আনন্দময় । ধর্মীয় উগ্রবাদী তথা জঙ্গিবাদের কালো থাবা আমাদের এবারের ঈঁদের আনন্দকে যেমন আর্তনাতে পরিনত করেছে তেনমনি ফরাসি বাসীর বাস্তিল উৎসবকে ও আর্তনাতে পরিনত করেছে । স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন আসে মানুষ নামধারি শকুন গুলি কেন বার বার আমাদের আনন্দকে আর্তনাতে পরিনত করছে ? কার স্বার্থে কিসের স্বার্থে ? এখন ই সময় সকল মানবতার শক্তিকে এক হয়ে এ শকুনদের অবশ্যই পরাজিত করতে হবে আমাদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় আমাদের মানবতা রক্ষায় ।