ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

শিশু জিহাদের কথা হয়তো আমরা ভুলে ই গেছি । আর ভুলব ই না বা কেন ? প্রতি দিনের নতুন নতুন ঘটনার চাপে পূর্বে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনাই ধামাপাচা পরে যায় । আমারা ও ভুলে যাই পূর্বের অনেক ঘটনা অনেক স্মৃতি । জিহাদ নিন্মবিত্ত পরিবারের শিশু সন্তান বাবা মার সাথে থাকতেন রাজধানীর শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনি এলাকায় । ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর সঙ্গীদে সাথে খেলতে গিয়ে রেলওয়ে কলোনি এলাকার ই একটি পরিত্যাক্ত নলকূপের খোলা গভীর পাইপে পরে মারা যায় জিহাদ । জিহাদকে পরিত্যাক্ত ঐ পাইপ থেকে উদ্ধের প্রক্রিয়া দেশের বিভিন্ন টেলিভিশনের মাধ্যমে সারা রাত জেগে সরাসরি উপোভোগ করেছেন জাতি । আমারা দেখেছি সেদিন ঘটনা স্হলে রাজনৈতিক নেতা-মহানেতাদের দৌড় ঝাপ আর আমাদের করিতকর্মা ফারার সার্ভিসের কর্তাব্যক্তিদের আজগুবি কথাবার্তা যা সত্যি ছিল হাস্যকর । জিহাদের মৃত্যুর পর সারাদেশের মানুষের ভিতর যে প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল তাতে হয়তো এত টুকু আশা করেছিলাম এ ধরনের ঘটনার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয় তার জন্য আমাদের ক্ষমতাশীনদের কিছুটা হলেও বিবেক উন্মচিত হবে । জিহাদের মায়ের আর্তনাথ ও সমগ্র জাতির প্রতিক্রিয়া জাগ্রত করতে পারেনি আমাদের ক্ষমতাশীনদের ঘুমন্ত বিবেক কে । জিহাদের মৃত্যুর ঘটনার সমালোচনার ঝড় কে ধামাচাপা দেয়ার জন্য সরকার লোক দেখানো কিছু ব্যবস্হা নিলেও বন্ধ হয় নি ঐ ঘটনা ।

২০১৫ সালের ০৮ ডিসেম্বর রাজধানীর শ্যামপুরে খোলা ম্যানহোল দিয়ে স্যুয়ারেজ লাইনে পড়ে জীবন দিতে হয়েছে পাঁচ বছরের শিশু নীরবকে । নীরবের মৃত্যুর পর ও একই ধরনের আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছিল সমগ্র দেশে । সেই আলোচনা আর সমালোচনার ঝড় ছিল শুধু মাত্র চায়ের কাপে আর টেলিভিশনের টক শোতে ই সীমাবদ্ধ । কাজের কাজ যেই কপাল সেই মাথা সরকার ও তার প্রশাসন কারো ই টনক নড়েনি । গত ১৩ জুলাই সেই একই ঘটনা নতুন করে ঘটে রাজধানীর মহাখালীতে, মহাখালী বাস টার্মিনালের পাশে খোলা পয়ঃনিষ্কাশন নালার পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় ছয় বছরের শিশু সানজিদা আক্তার আর গত ২২ জুলাই জিহাদ , নীরব আর সানজিদার মতোই স্যুয়ারেজ লাইন থেকে লাশ হয়ে ফিরল শিশু জুনায়েদ হোসেন সাব্বির।ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টার তৎপরতায় মিরপুরের কমার্স কলেজের পেছনে পয়ঃনিষ্কাশন নালা থেকে উদ্ধার হয় চার বছরের শিশু জুনায়েদ হোসেন সাব্বিরের লাশ । এর আগের দিন বিকেলে খেলতে গিয়ে খোলা স্যুয়ারেজ লাইনের নর্দমার মধ্যে পড়ে যায় শিশু জুনায়েদ ।

জিহাদ , নীরব ,সানজিদা ও সাব্বিররা নর্দমার পানিতে ডুবে মর্মে মর্মে অনুভব করেছে মৃত্যু কত ভয়ানক।জিহাদ , নীরব ,সানজিদা ও সাব্বিরদে এই মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের সমাজের জাগ্রত বিবেকের কেউই হয়তো মেনে নিতে পারবে নি আবার ফুটফুটে চেহারার এই শিশুদের বাঁচার করুণ আর্তি আমাদের সরকার ও তার প্রশাসনের বিবেক কে ও জাগাতে পারেনি। জিহাদ , নীরব ,সানজিদা ও সাব্বিরদের মৃত্যুকে কি আমরা সাধারন মৃত্যু হিসেবে ই মেনে নিব ? না এ গুলির কোনটা ই স্বাভাবিক মৃত্যু না প্রতিটি মৃত্যুর জন্য দায়ী আমাদের রাষ্ট্র ও তার প্রশাসনের কারো না কারো অবহেলা । যদি কারো অবহেলার জন্য কোন মৃত্যুর মত কোন ঘটনা ঘটে এমন মৃত্যুর দায় নেবে কে ? কে নেবে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব ? আমাদের দেশে ঘটে যাওয়া এ ধরনের প্রতিটি ঘটনায় ই দায়ীরা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। জিহাদ , নীরব ,সানজিদা ও সাব্বিরের পিতা মাতার আর্তনাথ কখনো ই পৌঁছে না তাদের কানে । দায়িত্বপ্রাপ্তরা যদি নিজেদের দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতেন তাহলে এমন ঘটনা ঘটত না। খালি হতো না জিহাদ , নীরব ,সানজিদা ও সাব্বিরের মায়ের মত হাজারো মায়ের কোল । তার পর ও দায়িত্ববানদের কাছে এত টুকু ই ফরিয়াদ একটি বার হলে ও জিহাদ , নীরব ,সানজিদা ও সাব্বিরের পিতা মাতার আর্তনাথকে অনুভব করুন আপনারা একটু হলে ও দায়িত্ববান হউন ।