ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আমাদের দেশে আলোচনা ও সমালোচনার মূলে ই এখন জঙ্গিবাদ। মিডিয়ার থেকে শুরু করে পাড়া মহল্লার চায়ের দোকান কোথাও বাদ নেই এই আলোচনা। বাদ থাকবেই বা কেন এ দেশ , আমাদের বাংলাদেশ এটা তো সবারই, সব ধর্ম বর্ণ ও জাতের মানুষের। আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে ও সবার ভূমিকাই ছিল সমান মুষ্টিমে কিছু পাকিদোসরদের ছাড়া। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি পাকিদোসরেরা যেমন আমাদের স্বাধীনতা চায়নি তেমনি আজো আমাদের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে ও পারনি। নানা ভবে নানা সময় আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে নানা ভাবে বিকলঙ্গ করার চেষ্টায় লিপ্ত ঐ পাকিপরাজিত শক্তি। আজ আমাদের যে মূল সমস্যা জঙ্গিবাদ তাও ঐ পরাজিত শক্তির ই চেষ্টার ফসল। সাম্প্রতি দেশে বড় দুটি জঙ্গি হামলা আমাদেরকে ভীষন ভাবে চিন্তিত করেছে এর মধ্যে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা আর্ন্তজাতিক ভাবে আমাদের অনেকটা হেয় করেছে কারণ ঐ হামলায় নিহতদের অধিকাংশই বিদেশী নাগরিক। গুলশানের হামলায় আমাদের পুলিশ বাহিনীর দুই জন গুরুত্বপূর্ণ অফিসারকে ও জীবন দিতে হয়েছে। এর পর ই ঈঁদের খুশির শুরুতেই শোলাকিয়া হামলায় ও সাধারন মানুষের সাথে জীবন দিতে হয়েছে পুলিশকে। এর পর থেকেই আমাদের মনের ভিতর অনেকটা ভয় কাজ করেছে জঙ্গি দমনে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে অনেকেই অনেক মন্তব্য ও করেছেন এনিয়ে।

যাই হউক আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কল্যানপুরের অভিযান অনেকটাই আমাদের সেই ভয় কাটাতে সক্ষম হয়েছেন। কেন জানি সমালোচকরা এই অভিযানকে ও সমালোচনার বাহিরে রাখতে পারেনি। রাজধানীর কল্যাণপুরের জঙ্গিবিরোধী অভিযান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে সমালোচনার যে বন্যা বইছে তার ঢেউ এসে লেগে আমাদের মিডিয়া জগতেও সমালোচনার মূলেই ছিল অভিযানের সাফল্য নিয়ে। এমন কি আমাদের বিরোধী রাজনৈতিক দলের কোন কোন নেতাও কল্যাণপুরের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অবশ্য আমার কাছে মোটেও বোধগম্য নয় জঙ্গি দমনের মত একটা গুরুত্বপূর্ন অভিযান নিয়ে কেন এত বিভ্রান্তকর সমালোচনা? কল্যাণপুরের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের অহেতুক সমালোচনা দেখে অবশ্য আমাদের পুলিশ বাহিনীর একজন পদস্থ কর্মকর্তা ফেসবুকে পোস্ট করেছেন এক অভিমানী স্ট্যাটাস। পুলিশ কর্মকর্তার ঐ অভিমান আসলেই বাস্তব, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা বারবার মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছে তার বিনিময়ে জুটবে নানা অহেতুক সমালোচনা। এ ধরনের অহেতুক সমালোচনা মোটে ও কাম্য নয়।

তবে আজকের এই সমালোচনার জন্য কিন্তু আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কম দায়ী নন। পূর্বে তাদের অনেক কর্মকান্ডই নিজেদেরকে অপেশাদারিত্বের প্রমান এনেছে। উদাহরন হিসেবে বলতে পারি হলি আর্টিজানের হামলার ঘটনাই, ঘটনার দিন পুলিশের অনেক আগেই আক্রমণকারীদের ছবি প্রকাশ করে দিয়েছিল তথা কথিত জঙ্গি সংগঠন আইএস তদের ওয়েবসাইডে। তাদের দেয়া নামের ভিত্তিতেই আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোন কিছু যাচাই বাছাইয়ের আগেই হুট করে হামলাকারীদের কি সব উদ্ভট নাম প্রকাশ করে দিল অথচ পরবর্তীতে তাদের পরিচয় মিললো সম্পুর্ণ ভিন্ন। যে হামলা সমগ্র বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো পুরি কি দায়িত্ব হীনতার পরিচয় দেয় নি? নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকাই বা বাদ যাবে কেন ওই তালিকা প্রকাশ করার মাত্র দুই দিনের মাথায় দেশের সংবাদকর্মীরাই খুঁজে বের করলেন কথিত নিখোঁজদের প্রায় সবাইকে অথচ আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায় সবাইকে জঙ্গি হিসেবে পরিচয় করে দিয়ে তারা যেমন সমালোচিত হয়েছেন তেমনই আমাদেরও আতংকিত করেছেন।

তবে কল্যানপুরের ঘটনা আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরিই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ঐ হামলায় নিহত জঙ্গিদের পরিচয় প্রকাশের আগেই তারা জঙ্গিদের ছবি প্রকাশ করেছেন। যাতে জঙ্গিদের সঠিক পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব হয়। তারপরও কল্যাণপুরের অভিযান নিয়ে আহেতুক সমালোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন কেউ কেউ। কোন জঙ্গি মোনায়েম খানের নাতি কোন জঙ্গি আওয়ামীলিগ নেতার ছেলে এনিয়ে বিতর্কের অন্তনেই। আবার কিছু উগ্রবাদির মন্তব্য আবার সম্পুর্নই ভিন্ন তারা জঙ্গিদের জঙ্গি বলে মানতেই নারাজ। যারা কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গিদের জঙ্গি বলে মানতেই নারাজ তাদেরকে বলবো, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কতৃক সরবরাহকৃত ঐ একটি ছবিই কিন্তু তাদেরকে জঙ্গি প্রমানে যথেষ্ট। ঐ ছবিটিতে আমরা দেখেছি নিহত জঙ্গিরা তথাকথিত জঙ্গি সংগঠন আইএস এর পোষাক পরে আইএসের পতাকা পিছনে রেখে অস্ত্র হাতে আমদেরকে জানান দেয়ার চেষ্টা করছিল গুলশানের পর আবার নতুন বড় কোন অঘটনের জন্য আমরা প্রস্তুত হচ্ছি। তথাকথিত আইএস কতৃক গুলশান হামলার সময় হামলাকারীদের যে ছবি প্রকাশ করা হয়েছিল কল্যাণপুরের অভিযানে নিহতদের ছবিও ছিল একই ধরনের। কল্যাণপুরের অভিযানে নিহত জঙ্গিরা কে কি এ নিয়ে সমালোচনা বা ঐ অভিযান নিয়ে বিতর্কের জন্ম না দিয়ে ধর্মীয় উগ্রবাদের অপশক্তির হাত থেকে কিভাবে দেশ জাতি তথা সমগ্র বিশ্বকে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে ভাবাটাই উত্তম। সেই সাথে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জঙ্গিদমনে কিভাবে পুরোপুরি স্বার্থক হতে পারে তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পুরোপরি সহযোগিতা করা তাদেরকে উৎসাহিত করা। যতে আমরা ধর্মীয় উগ্রবাদের অপশক্তি তথা জঙ্গিবাদ মুক্ত আগামী বাংলাদেশ আগামী পৃথিবী পাই।