ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর থেকে আমাদের আলোচনার মূলেই এখন শুধুই জঙ্গিবাদ ও জঙ্গিবাদের উত্থান । যদি ও আমাদের অনেকেই জঙ্গিবাদ ও জঙ্গিবাদের উত্থান নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবৎ লিখে আসছেন বলে আছেন তাদের কথা কারো কানে পৌছেছে বলে আমার মনে হয় নাই। তাদের কথা আমাদের সরকারের কর্তাব্যক্তিদের কানে যদি পৌছতে ই পারতো তা হলে হয়তো জঙ্গিবাদ নামক রাহুর কবলে সমগ্র জাতিকে পরতে হতোনা । জঙ্গিবাদের আলোচনায় আমারা এখন ভুলতে বসেছি অনেক সমস্যাই ভুলতে বসেছি আমাদের সদ্য অতীত হওয়া অনেক আলোচিত ঘটনা ই । যেমন ধরি কেন্দ্রীয় ব্যংকের রিজার্ভ চূরির ঘটনা , তনু হত্যার কথা ও প্রায় ভুলে ই গেছি ,পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার কথা ই বা কয়জনের মনে আছে । বানের জলে আজ যে মানুষ গুলি ঘড় ছাড়া আমরা কজন ই বা তাদের কথা বলছি ।

আমরা যাই বলি না কেন আর যাই ভাবি না কে ফিলিপাইনের সরকার কিন্তু আমাদের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনা মোটে ও ভুলে যায় নি। সাম্প্রতি ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনকে ২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।দেশটির কোনো ব্যাংকের উপর “নজরদারিমূলক জরিমানার পদক্ষেপ ” হিসেবে এটাই সবচেয়ে বড় অঙ্ক বলে জানা গেছে । এমন কি ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতেরতে রিজার্ভের চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস ও দিয়েছেন। এই জন্য ফিলিপাইনের সরকার ও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবশ্যই ধন্যবাদ প্রাপ্য । রিজার্ভের চুরি যাওয়া টাকা নিয়ে আমাদের সরকার ও আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কতটা চিন্তিত সেটা ই একটা বড় প্রশ্ন ? কিছু দিন আগে অবশ্য আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী এ নিয়ে কিছুটা খোলসা করবেন বলে জানিয়েছিলেন সংসদকে যদি ও সেটা আর তার পক্ষে সম্ভব হয় নি ।

সোহাগী জাহান তনু কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও সাংস্কৃতিক কর্মী গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে পাওয়া যায় তার লাশ।তনু হত্যা নিয়ে ফুঁসে উঠেছিল সমগ্র জাতি তবে ঐ ফুঁসে উঠাটা ছিল মাত্র ক্ষনিকের জন্য । তনু হত্যার মামলার বর্তমান কি অবস্হা তা হয়তো আমাদের অনেকের ই জানা নেই । ক্ষনিকের জন্য রাজপথ থেকে অলি গলি প্রকম্পতি হলে ও তনু হত্যার শোক আজ শুধু তনুর বাবা মার বুকেই সীমাবদ্ধ । অতি সম্প্রতি সদ্য বিদায়ী জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তনু হত্যা মামলা নিয়ে আমাদের যে কথা শুনিয়েছে তাতে আমরা অনেকটা ই হতাশ হয়েছি এমন কি অবাক ও হয়েছি । ড. মিজানুর রহমান বলেছেন তনু হত্যা মামলায় একটি বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কথা বলার ক্ষেত্রে ‘বাড়াবাড়ি’ না করতে তাকে পরামর্শ দিয়েছিল । যদিও ড. মিজানুর ‘বাড়াবাড়ি’ না করার কথাকে পরামর্শ হিসেবে উপস্হাপন করে নিজের ভদ্রতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন সত্যিকারেই কি আমরা এটাকে পরামর্শ হিসেবে নিব না কোন বিশেষ বাহিনীর হুমকি হিসেবে ভাববো ?

পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার পর সারাদেশে শোকের ছায়া বইছিল । জঙ্গিদমনে বাবুল আক্তার যে ভূমিকা পালন করেছিলেন তা অবশ্যই প্রশংসনীয় তাই তার স্ত্রীর খুন আমাদের দেশের মানুষ সাধারন ভাবে মেনে নিতে পারে নি । এই হত্যার প্রতিবাদ উঠেছে দেশের সমগ্র কোনা থেকেই । এর পর এ হত্যার ঘটনা নিয়ে আমরা কতই না নাটক দেখলাম । অনেক দিন নিখোঁজ থাকার পর বাবুল আক্তার আবার তার কর্মস্হলে ফিরে এসেছেন তবে দুঃখের বিষয় হলো মিতুর হত্যাকাণ্ডের সময় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পায় তাদের সাতবছর বয়সী ছেলে মাহির মাহমুদ । প্রাণ বাঁচলেও এরই মধ্যে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে মাহির মাহমুদের।মাহির মাহমুদ কিছুটা শ্রবণ প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েছে। মাহির আচার-আচরণও অনেকটা অস্বাভাবিক হয়ে গেছে। মায়ের সাথে সাথে শ্রবণ শক্তি ও নাকি হারাচ্ছে মাহির মাহমুদ।

আজ প্রায় সারাদেশই বানের জলে ভাসছে বিশেষ করে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের জেলা গুলি ।সেখানে অনাহারে অর্ধাহারে দিন যাবন করছে অগনিত মানুষ ।উত্তরাঞ্চলের মানুষ গুলি এভাবেই মঙ্গাপিড়ীত এই মৌসুমে কর্মশূন্য থাকেন অধিকাংশ মানুষ এর উপর ভায়াল বন্যা এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা । আমাদের প্রত্যাশা একটি মানুষ ও বানের জলে ভেসে যাবে না । ক্ষুধা নিয়ে একটি মানুষ ও যাতে দিন যাপন না করে । চুরি যাওয়া রিজার্ভের অর্থ আমাদের পুরোটাই আমাদের গড়ে ফিরে আসবে ।তনু আর মিতুদের হত্যার ন্যায় বিচার হবে ।আর কোন মাহির মাহমুদ যেন মাতৃহারা না হয় আর কোন মাহির মাহমুদ যেন শ্রবণ শক্তি কোন ইয়ার হোসেন যেন সন্তান হত্যার বিচারের জন্য আহাজারি করতে না হয় । গুলশান বা শোলাকিয়ার মত ঘটনা আর যেন বাংলার মাটিতে না ঘটে । জঙ্গিবাদসহ সকল আপশক্তির কালো ছায়া থেকে নিরাপদ থাকুক আমার আপনার প্রিয় বাংলাদেশ ।