ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের অনেক তরুনের ভিতরই কেমন যেন একধরনে উগ্র ও উশৃংখল মনোভাব কাজ করছে । কেন জানি আমার কাছে মনে হয় আমাদের তরুনদের একাংশের মনের ভিতরে এক ধরনের উগ্রতা কাজ করছে । আর এই উগ্রতার কারনেই হয়তো তাদের ভিতর থেকে সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ দিন দিন দিন লোপ পাচ্ছে । তরুনেরা মানবিক না হয়ে হয়ে উঠছে হিংস্র ।মাত্র আশির দশকের কথা আমরা ও তখন তরুন গ্রাম কিংবা শহর যে খানেই হউক তরুনদের ভিতরে প্রচন্ড সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ কাজ করতো ।তরুনেরা ছিল আত্মপ্রত্যয়ী বিনয়ী । বয়সে বড়দের প্রতি তখনকার তরুনের শ্রদ্ধাবোধের কোন কমতি ছিল বলে আমার মনে হয় না । বিশ্ববিদ্যালয়ে পরুয়া ছাত্রকে ও দেখেছি আড়ালে আভডালে গিয়ে সিগারেট ফুকতে ।আর রাস্তায় দাড়িয়ে কোন মেয়ের সাথে কথা বলা বা মেয়েকে উত্যক্ত করা এতো ছিল প্রায় আকাশ কুশুম কল্পনা । আজ ২০১৬ সালের শেষ দিকে এসে আমার কেন জানি মনে হচ্ছে বর্তমান সময়ের তরুনদের একাংশ নূন্যতম শ্রদ্ধাবোধ তথা সালাম বা আদাবের আদব তো ভূলে গেছে সেই সাথে হয়ে উঠছে অমানবিক হিংস্র স্বভাবের । তরুনদের একাংশের এই বখেযাওয়া আজ পরিবার সমাজ তথা রাষ্ট্রের ভিতরে দূঃচিন্তা ও অসেন্তাষ জন্ম দিচ্ছে ।

সমগ্র দেশ আজ খাদিজাকে নিয়ে উত্তপ্ত বখাটে যুবক বদরুলের চাপাতিতে ক্ষত বিক্ষত হয়েছে খাদিজার প্রায় সমগ্র শরীর । প্রেম প্রত্যাখ্যান কারনেই মানবরুপী জানোয়ার বদরুল ঝাপিয়ে পড়ে খাদিজার উপর। শুধু খাদিজাই নয় প্রায় ই সংবাদ মধ্যমের শিরোনাম হতে হচ্ছে কোন না কোন খাদিজাকে । সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে বিসিআইসি কলেজের একাদশ শ্রেণির দুই ছাত্রী যমজ বোন সোনিয়া হাবীব ও আসোয়াদ হাবীবকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে পা ভেঙ্গে দেয় বখাটে তরুন জীবন করিম ও তার বখাটে সঙ্গীরা । এর আগে গত ১৮ অক্টোবর মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে এক বখাটের প্রেম নিবেদনে সাড়া না দেওয়ায় তাহমিনা আক্তার নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম করে বখাটেরা ।এর আগে গেল আগস্টে ওবায়েদ নামে বখাটে দর্জি শ্রমিকের ছুরিকার আঘাতে জীবন দিতে হয়েছে ঢাকার কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশাকে ।ঠিক একই পথে গত মে তে জীবন দিতে হয়ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার স্কুলছাত্রী কণিকা রানী ঘোষকে । কণিকা , নিতু, রিসা, তাহমিনা বা খাদিজা এমন নামের তালিকা যে কত দীর্ঘ তা হয়তো সহজে বলে উঠা সহজ হবেনা ।

একটি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে সবচেয়ে বেশি বখাটেদের উত্ত্যক্তের শিকার হচ্ছে ১৩ হইতে ১৮ বছর বয়সী স্কুল-কলেজেগামী মেয়ে শিক্ষার্থীরা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বখাটে তরুনেরা স্কুল-কলেজেগামী মেয়েদের রাস্তায় দাড়িয়ে নানা ভাবে উত্যক্ত করে এবং প্রেম নিবেদন করে । পরে বখাটেরা প্রেম নিবেদনে সাড়া না পেয়ে হায়নার মত ঝাপিয়ে পরে ঐ মেয়েদের উপর । কোন কোন ক্ষেত্রে ঐ হামলা জীবন নাশের কারন হয়ে দাড়ায় । তাতে সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে সংবাদ মাধ্যম সহ নানা মাধ্যমে অথচ সেই ঝড়ে লেশমাত্র স্পর্শ করতে পারে না বখেযাওয়া তরুনদের অন্তর ।বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৬ জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২৯ জন কিশোরী-তরুণী কে জীবন দিতে হয়েছে বখাটে তরুনদের হাতে বা বখাটেদের উত্যক্ত করার কারনে আর ধর্ষন বা গন ধর্ষনের শিকার হতে হয়েছে ৩০৮ জন কে । সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এ ধরনের ঘটনা ই স্পষ্টভাবে প্রমান করে আমাদের তরুনদের বখেযাওয়ার চিত্র ।বর্তমান সময়ের তরুনদের এহন আচরন জাতি হিসেবে আমাদের গভীর চিন্তার মাঝে রেখেছে । বিশেষজ্ঞদের মতে বর্তমান সময়ে তরুনদের একটি বিশেষ অংশ বখে যাওয়ার মূল কারণ ই হলো বিচারহীনতা কিংবা বিলম্বিত বিচার সংস্কৃতির সেই সাথে আরো আছে মোবাইল , ইন্টারনেইটের কিছু মাধ্যম মাদক সেই সাথে আমাদের দেশের অপরাজনীতি । সর্বোপরি আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি বর্তমান সময়ে আমাদের তরুন প্রজন্মের একটি অংশ বখেযাওয়ার মূল করন ই হলো আমাদের অপরাজনীতি । কারন আমাদের অপরাজনীতির কালো ছায়া বিশেষ ভাবে প্রভাবিত করছে আমাদের তরুন প্রজন্মকে । আমাদের রাজনীতি জীবিরা কেউ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আর কেউ ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য ভূল পথে প্রভাবিত করছে আমাদের তরুন প্রজন্মকে । রাজনীতি জীবিদের আশকারাই বিপদগামী হচ্ছে আমাদের তরুন প্রজন্ম ।

সবাইকে ই মনেরাখতে হবে তরুনরাই একটি সমাজ তথা রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ আজকের তরুন আগামীর রাষ্ট্রনায়ক । তরুনরা বয়সে অল্প তাই ভূল পথে পা বাড়ানো টাই স্বাভাবিক । তরুনদের সঠিক পাথে পরিচালনা করা অভিবাবক পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্র সবার ই একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য । তাই আমরা চাইবো রাষ্ট্রে আইনের শাসন যথাযথ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অভিবাবক তথা পরিবার আদর ভালবাসা ও শাসনের মধ্যমে তরুনদের সঠিক পথে পরিচলনা করে সোলার বাংলা গড়ার পথে তরুনদের নিয়ে যাবে ।