ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

গতকাল কে বাংলাদেশের সকল পত্রপত্রিকায় অনেক খবরের ভিড়ে একটি খবর ছিল নয় মাস ধরে পালানোর চেষ্টা করছি : অর্থমন্ত্রী যা পড়ে কিছু বাস্তব প্রশ্ন চোখের সামনে চলে এসেছে।বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল মুহিত এ কী বললেন ? আমরা রাষ্টের জনগণ এ কী শুনলাম। বিশেষ করে এই খবর পড়ে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিক্রিয়া কী ? এইসব বিষয় ভাবতে ভাবতে খুব বিষন্ন হয়ে গেলাম। সাথে অবাক হয়েছি অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে আওয়ামীলীগ সরকারের নীতিনির্ধারণীদের কোনও বক্তব্য না দেখে।

জনাব অর্থমন্ত্রীর পালানোর বক্তব্যের জের ধরে লিখতে গেলে সর্বপ্রথমে বলতে হয়, অর্থমন্ত্রী আওয়ামীলীগের কোনও রেগুলার নেতা ছিলেন না। উনি বর্তমান সরকারের ভাড়াটিয়া একজন নেতা যিনি সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামিলীগে যোগদান করেছেন, এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, তারপর অর্থমন্ত্রী হয়েছেন। আমি উনার বিষয়ে যতটুকু জানি জবান মুহিত সাহেব, তত্কালীন স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের এর শাসনামলের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। কাজে আওয়ামীলীগ নিয়ে উনার তেমন কোনও মাথা ব্যাথা নেই। যা অর্থমন্তীর আচার আচরণে ফুটে উঠেছে।

বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার দায়িত্ব নিয়েছে ২০০৯ সালের শুরুতে। এরপর চলে গেল সাড়ে তিন বছরের বেশি সময়। একটু পেছনে ফিরে তাকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেখবেন যে, তাঁর দায়িত্বের সময় বড় ধরনের চারটি আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।
যা ছিল
২০১০ সাল ছিল শেয়ার কেলেঙ্কারির বছর।
২০১১ সাল পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারির বছর।
২০১২ সালের শুরুটা হয়েছিল ডেসটিনি কেলেঙ্কারি নিয়ে।
কিন্তু এর রেশ না কাটতেই শুরু হলো হলমার্ক কেলেঙ্কারি।

দেখা যাচ্ছে, সব কটি কেলেঙ্কারিই অর্থনীতিসংক্রান্ত। এসব কেলেঙ্কারির দায়দায়িত্ব সরকারেরই। কোনোটিই নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি, বরং সরকারের মধ্যে সাধারণ প্রবণতা ছিল অনিয়ম, দুর্নীতি বা জালিয়াতির খবর অস্বীকার করা। এ কারণে একদিকে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি, অন্যদিকে কেলেঙ্কারির নায়কেরা উৎসাহ পেয়েছেন। এতে কেলেঙ্কারি আওতার বাইরে চলে যায়। যার খেসারত দিতে হবে আওয়ামীলীগ কে আগামী নির্বাচনে।

হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়েও এখন অনেক ঘটনা দেখা যাচ্ছে। যেমন ধারনা করে বুঝে উঠতে পারছি না, জনাব মুহিত সাহেব কিভাবে তিন বা চার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি বড় কিছু নয় বলে দ্বাবি করল্লেন। আবার এইসব কথা বলে পরক্ষণে ক্ষমা ও চাইছেন। সত্যি কথা বললে বলতে হয় এসব কথাবার্তায় মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বরং বেড়েছে। বেড়েছে বর্তমান সরকারের প্রতি দুরত্ত্ব।

এখন অর্থমন্ত্রী যদি এইসব বিষয়ের কোনও সুরাহা না করে পালিয়ে যেতে চান। তাহলে প্রশ্ন থাকে যে এই দ্বায়দ্বায়িত্ত বহন করবে কে ? রাষ্টের জনগণ ? আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ? নাকি প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং ?

বলতে পারি প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে এই দ্বায়িত্ত। যা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।