ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

সব বিষয় কে খুব সহজ করে দেখার ও বুঝার কোনও অবকাশ থাকে না এমন গুরুত্ত্বপূর্ণ ঘটনা হরহামেশা আমাদের চারপাশে ঘটে থাকে। তেমনি একটি ঘটনা ছিল গত ৪ ডিসেম্বরের জামায়াত ইসলামীর ডাকে সারা দেশব্যাপী হরতালের পালনের মাঝে। জামায়াত কতটুকু ঠেলার পরে যে নিজেরা মার্কিন দূতাবাসের গাড়ি ভাংচুরের দোষ স্বীকার করেছে তা কেবল মাত্র জামায়াতের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা বলতে পারবে। এই নতিস্বীকারের ভিতরের কিছু তথ্য জানার পরে আমার কাছে খুব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, জামায়াত নিছক একটি দোষ স্বীকার করেনি, জামায়াত তাদের অস্তিত্ত্ব রক্ষা করেছে। তা না হলে জামায়াতের কী যে হতো আল্লাহই ভাল জানে। তবে এখন স্বীকার করে নেওয়ার পরে যে তেমন কিছু হবে না, এটা ঠিক না।

আমেরিকা থেকে প্রকাশিত অনলাইন ভিত্তিক বাংলা একটি সংবাদ মাধ্যমের সুত্র ধরে যা পেয়েছি, ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাত্ক্ষণিক পুরো ঘটনা ওয়াশিংটনকে অবহিত করেছে। গত সেপ্টেম্বরে বন্দুকধারীদের হামলায় লিবিয়ার বেনগাজিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফার স্টিভেন্স নিহত হওয়ার কারণে বিদেশে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র খুবই সংবেদনশীল। ওয়াশিংটন কূটনীতিক এবং কূটনৈতিক সম্পত্তির নিরাপত্তার দিকটি কে উচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। ফলে ঢাকায় দূতাবাসের গাড়িতে হামলার ঘটনাকে ওয়াশিংটন খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে খবরে প্রকাশ হয়েছে। সেই সাথে যুক্তরাস্টের বাংলা মিডিয়াতে প্রকাশ হয়েছে বাংলাদেশে মার্কিন নাগরিক, দূতাবাস ও সম্পত্তি সুরক্ষায় সহায়তা ও সমর্থন দেওয়ায় মার্কিন সরকার বাংলাদেশ সরকার ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভূমিকায় মুগ্ধ।

জামায়াত-শিবিরের সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে খিলক্ষেত থানায় ওই দিন মধ্যরাতে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর-৩। ওই মামলায় সাইফুল ইসলাম, সোলায়মান, জসীম উদ্দিন, খোকন শিকদার ও রবিউল ইসলাম নামের ৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাত আরও একশ’ থেকে দেড়শ’ জনকে আসামি করা হয় । আরও গুরুতত্বের বিষয় হচ্ছে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে ফেলেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা পাঁচ জনই জামায়াত এর শিবিরের কর্মী, এবং দূতাবাসের গাড়িতে হামলায় তারা জড়িত।

যদিও আমরা খবরে পড়েছি, জামায়াত ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. মো.শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে বলিছিলেন, ‘৪ ডিসেম্বর আনুমানিক সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে একদল লোক ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের একটি গাড়ির ওপর হামলা চালালে গাড়ির ড্রাইভার সামান্য আহত হন এবং গড়িটিরও ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই দুঃখজনক ঘটনার ব্যাপারে প্রাথমিক তদন্ত শেষে এর দায় দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করছি এবং নিন্দা জানাচ্ছি। এ ঘটনার জন্য দূতাবাস এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এবং এর ক্ষতিপূরণ দিতে আমরা প্রস্তুত।’

এখন ভাবনার ব্যাপার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট কী জামায়াত এর দেওয়া এই ক্ষতি পূরণ হাসি মুখে গ্রহণ করবে ? আর যদি গ্রহণ না করে তাহলে জামায়াতের ভবিষ্যত কী হবে ? আর যদি এমন কিছু হয়ে যায়, যুক্তরাষ্ট ক্ষতিপূরণ নিবে না, কিন্তু যারা ভাংচুর করেছে গ্রেপ্তার কৃত সকল আসামিকে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে, তখন জামায়াত কী করবে ?

জামায়াত এর ভবিষ্যত কী হবে সেটা বলা যেতে না পারলেও, যুক্তরাস্টের বিখ্যাত সন্ত্রাসী পর্ব অর্থ্যাত বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় জঙ্গিবাদী রাষ্ট এই ধরনের পরিচিত ফর্মুলা যে বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যেতে পারবে না এটা প্রায় নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না। আর তাই আমি শঙ্কিত। কোথাকার জল কোথায় গিয়ে গড়ায় তা দেখার জন্য।

তথ্যসুত্র:লিঙ্ক দেখুন বিশদ পড়ার জন্য।