ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

বর্তমানে দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার কোন আগা মাথা নাই। উচ্চ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত। কর্মমুখী শিক্ষা বা ভোকেশনাল শিক্ষা কে ভাবা হয় ব্যাক বেঞ্চ স্টুডেন্টদের ফ্যাকাল্টি। ডিজিটালাইজেশনের নামে সামনে দেয়া হবে বইয়ের বদলে ট্যাব। সবাই ব্যস্ত ১০% ট্যাক্স নিয়ে। সরকার ব্যর্থ সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে।

জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে আমার কিছু প্রশ্ন-
১. স্টুডেন্টদের হাতে আপনি যে সব ট্যাব তুলে দেবার কথা ভাবছেন সেগুলোর কোয়ালিটি কেমন?
২. যে সকল ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তাদের ক্ষেত্রে সেসব ট্যাবের চার্য দেবার ব্যবস্থা কি?
৩.হার্ড কপি বুকের অল্টারনেট কিভাবে ট্যাব হয়?
৪. পৃথিবীর অন্যান্য দেশে ল্যাব গুলো স্বয়ং সম্পূর্ণ ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি রয়েছে। আপনি কি এই দিক থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কে লাইব্রেরীতে যেতে নিরুতসাহিত করছেন না?
৫. হাতে কলমে শিক্ষার ব্যবস্থা, অবকাঠামোর উন্নয়নের ব্যবস্থা না করে “ডিজিটাল” শব্দ উচ্চারণ করে আসলে কাদের কি দেখাতে চাচ্ছেন?
৬. আমরা যেহেতু এখনো উন্নয়নশীল দেশ, সেদিক থেকে কেন ভোকেশনাল শিক্ষা ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না?
৭. কেন পলিটেকনিকের ডিপ্লোমা স্টুডেন্টদের আরো অধিক উচ্চ শিক্ষার জন্য এখনো একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান রয়েছে (রাষ্ট্রীয়)?

মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী, আপনারা সাধারণ স্টুডেন্টদের কথা না ভেবে কেন অলিক “যুগ উপযোগী” শিক্ষা ব্যবস্থার পেছনে ছুটছেন? আর তা কতোটুকুই বা এই দেশের কাজে লাগছে? যে ছেলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম মার্ক নিয়েও মাস্টার্স পাশ করা, তার ভবিষ্যৎ আপনারা কোথায় দেখছেন? আপনারা তো তাকে টিকে থাকার পথ দেখাচ্ছেন না। শুধু শিক্ষিত করে-ই পগারপার। তো তার সেই মাস্টার্সের দাম কোথায়?

কিছুদিন আগে শর্ত সাপেক্ষে ভার্সিটি স্টুডেন্টদের ল্যাপটপ বিতরণ করা হল। সত্যি ভালো উদ্যোগ। তবে যারা পেয়েছেন তারা সব দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের। তাদের প্রতি আমার কোন ক্ষোভ নেই। ক্ষোভ আপনাদের এই হাস্যকর সিস্টেমের উপর।

আমার ক্যাম্পাস ছিল টাঙ্গাইলে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে বিদ্যুৎ তো এক বিভীষিকা নাম। এখনো। অথচ, সেটি ঢাকার পাশের জেলাতেই অবস্থিত। বিশ্বাস করুন আর না করুন, যে তিনটা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট সেখানে আছে তারা যদি একসাথে তাদের সব ল্যাব চালু করে, সাথে সাথে পুরা এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ফল করবে। তো, ল্যাপটপ কাদের দেয়া দরকার ছিল? অগ্রাধিকার ভিত্তিতে? পিছিয়ে পরাদের? নাকি যারা এগিয়ে আছে, তাদের আরো এগিয়ে নেবার? শুধু আমার প্রাক্তন ক্যাম্পাস না। এমন ক্যাম্পাস আরো রয়েছে এই দেশে।

আর ভোকেশনাল তো এখন বস্তিদের সাবজেক্ট।

আমরা বুক ফুলিয়ে অমুক তমুক সাবজেক্টের নাম বলে গর্ব করি সেসবের ভবিষ্যতের কথা না ভেবে। ক্ষোভ নেই। কেননা অবশ্যই এসবের প্রয়োজন আছে। কিন্তু এই দেশে যেখানে ভার্সিটির লাস্ট সেমিস্টারে পার করবার সময় আমাদের “aim in life” চেঞ্জ হয় সেখানে আসলে কে ব্যর্থ? স্টুডেন্ট নাকি আপনাদের সিস্টেম?

Aim In Life এর ব্যাপারটা একটু ছোট্ট করে এবার বুঝিয়ে দেই। স্কুলে আমরা লিখতে হবে বলে রচনা লিখতাম, আমি ভালো টিচার হতে চাই, ডাক্তার হতে চাই, পাইলট হতে চাই। আর যে ছেলে গণিত, পদার্থে খুব ভালো অথচ বাংলা বা সমাজ বিজ্ঞানে A+ না পাওয়ায়, কিংবা সাধারণ জ্ঞানের বই গুলো মুখস্থ না করায় কোন পাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পেরে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে পড়ছে সে শিক্ষা জীবন শেষ করে স্বপ্ন দেখে ব্যাংকে জব করার!

বিজ্ঞান বিভাগ ঘুরে, মানবিক শাখার ডিগ্রী নিয়ে ইনি এখন ব্যাংকের হিসাব রাখেন।

আর মরার উপর খাড়ার ঘা, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০% কর। মারহাবা।

জনাব, আপনাদের সু-মতির উদয় হোক।
হয়তো আমি কম বুঝি, অভিজ্ঞতা কম, কিন্তু বর্তমান যুগে আমার মতন নতুন গ্র্যাজুয়েট যেসকল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এসেছি সে দিক থেকে হলফ করে বলতে পারি-

“যুগোপযোগী শিক্ষা-র নামে আপনারা নিত্য নতুন যেসব ভেলকি দেখাচ্ছেন, নতুনদের ভবিষ্যৎ সত্যি অন্ধকার।”

এরচেয়ে বরং “দেশ উপযোগী” শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করুন। উচ্চ-শিক্ষিত বেকারদের জন্য কিছু করুন। পুঁথিগত বিদ্যার থেকে কর্মমুখী শিক্ষার উপর জোর দিন। আমরা উচ্চ-শিক্ষিত হয়ে বেকার পরে থাকতে চাই না। বরং দেশ উপযোগী শিক্ষা গ্রহণ করে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে, কিছু খেয়ে-পরে বাঁচতে চাই।