ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

আজকে যারা গ্রামীণ ব্যাংকের শেকড় উৎপাটনের জন্য মরিয়া হয়ে ছুটছেন আমি বলব ওরা ভিন গ্রহের জীব কারণ তাদের নৈতিকতার সাথে বিশ্ব তথা বাংলাদেশের কোন মানুষের নৈতিকতার মিল নেই।

ডঃ ইউনুসকে যারা সুদখোর বলে ধিক্কার দিচ্ছেন তাদের বলছি, দেশে কি সুদ-বিহীন ব্যবস্থা চলছে ? এতো অগণিত ব্যাংক তাদের আয়ের উৎস কী ? তারা কী সুদখোর নয় ? বর্তমান সরকার যে নতুন নতুন ব্যাংক দিচ্ছে তারা কি দান খয়রাতের জন্য দিচ্ছেন ? আর যারা আত্মহত্যা বা দেউলিয়ত্বের কথা বলছেন,শতাব্দীকাল ধরে যে মহাজনী সুদ ব্যবস্থা চলে আসছে , বলুন, কোন লোকটা মহাজনী ঋণ নিয়ে উপকৃত বা স্বাবলম্বী হয়েছে ? ডঃ ইউনুসই একমাত্র ব্যক্তি,যিনিই প্রথম মহিলাদের স্বাবলম্বী করার জন্য জামানত বিহীন ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থা চালু করে অসহায় মহিলাদের হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলেন। এমন কোন ব্যক্তি বা সরকার ছিলেন যারা দুস্থ মহিলাদের জামানত বিহীন ঋণ ব্যবস্থা করেছিলেন?এখন প্রশ্ন তুলছেন কতজন স্বাবলম্বী হয়েছেন। এটা ঋণদাতার ব্যাপার নয়। আপনি ঋণ নিয়ে আপনার দক্ষতার উপর নির্ভর করবে আপনা সফলতা। ঋণ আদায়ের পদ্ধতির ব্যাপারে প্রশ্ন তুলছেন,এখানে গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ আদায়ের সফলতাই-আজ গ্রামীণ ব্যাংককে বিশ্বের কাছে মডেলে পরিণত করেছে। আদায়ে সফলতায়ই একটা প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার জীবনী শক্তি। ঋণ আদায়ের শীতলতার জন্য
সরকারের বহু ঋণই কু-ঋণে পরিণত হয়। ঋণের হার বলছেন ? তার চেয়ে অনেক বেশী হারের ঋণ এখনও সমাজে চালু আছে। যারা নিজ গৃহের একজন চাকরকে স্বাবলম্বী করতে পারে না তাদের মত লোকদের ডঃ ইউনুসের মত এক মহান ব্যক্তির জাতীয় উন্নয়নে যে গুরু দায়িত্ব কাঁদে নিয়ে দীর্ঘ দিন যে কর্ম যজ্ঞ চালিয়েছেন আর আপনি তার বিরোধিতা করছেন,আমি আপনাকে বলব,আপনি সমাজে বা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে এমন কী করেছেন যা সমাজে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে?

আমার এক বন্ধু বলেছেন, ডঃ ইউনুস শুধু সুদখোর নন প্রতারকও বটে। জোবড়া গ্রামের এক অবস্থাপন্ন ব্যক্তির দোতলা দালানের সামনে এক দরিদ্র মহিলার ছবি তুলে প্রচার করেছেন যে গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতা মহিলা ঐ বাড়িটি করেছেন। আবার বন্ধুটি বলেছেন, বয়স সীমা অতিক্রম করে তিনি অন্যায় ভাবে ব্যাংকের এমডি থেকেছেন। আরও বলেছেন, সরকারের আয়কর ফাকি দিয়ে গ্রামীণ ব্যাংককে লাভবান করেছেন। আমি তার অভিযোগের জবাবটা এই ভাবে দিতে চাই,ঐ বন্ধুটির স্ব-গোত্রীয়দের মুখে দোতলা দালানটির কথা আগেও শুনেছি তবে এর সত্য মিথ্যার প্রমাণ আমার কাছে নাই কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমি বলব ,সরকারকেও বিশ্ব ব্যাংক বা দাতা সংস্থার ঋণ বা দান গ্রহণের জন্য এ জাতীয় অনেক পথ অবলম্বন করতে হয় দেশের স্বার্থে। এ ক্ষেত্রে যদি গ্রামীণ দরিদ্র মহিলাদের জন্য কিছু করে থাকে তাকে এত বড় করে যিনি দেখছেন তিনি কার স্বার্থে এ সব বলে বেড়াচ্ছেন ? বয়সের ব্যাপারে বলব,যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসেন তখন তার দলীয় স্বার্থে তাদের লোকদের বয়স বাড়িয়ে নেন কিন্তু ডঃ ইউনুসের বেলা নয় কেন ? আর আয়করের বেলা বলব,সরকারের দেয়া আয় কর রেয়াত সকলেই ভোগ করে থাকেন তবে ডঃ ইউনুস যদি তা গ্রামীণ মহিলাদের বেলা তা গ্রহণ করে থাকেন তবে এত হৈ চৈ কেন ? ডঃ ইউনুস-তো আর তার ব্যক্তিগত স্বার্থে তা করেন নাই। আমার আর এক বন্ধু প্রশ্ন করেছেন, ডঃ ইউনুস ১/১১ সময় কেন রাজনৈতিক দল করতে এলেন। রাজনীতিবিদরা রাস্তাঘাট রক্তাক্ত করবেন এবং হালুয়া রুটি খাবেন আর প্রতিদ্বন্দ্বী দেখলে দূর দূর করবেন, এটা-তো হতে পারেনা। রাজনীতিকরা প্রতিটি নাগরিকের অধিকার।

এই অংশটুকু একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং তার পর যত পারুন বিরোধিতা করুন” আপনি আপনার পিতার একজন অশিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত অথবা উচ্চ শিক্ষিত সন্তান। আপনাকে আপনার পিতা কিছু টাকা দিল ব্যবসা করার জন্য।আপনি যে কোন একটি ব্যবসা শুরু করলেন কিন্তু অনভিজ্ঞতার কারণে ব্যর্থ হয়ে সম্পূর্ণ পূঁজিটা আপনি নষ্ট করে ফেললেন। আপনার পিতা আপনাকে আবারও কিছু টাকা দিলেন এবং এবার আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতা আলোকে ব্যবসা শুরু করলেন কিন্তু তেমন সফলতা লাভ করতে পারলেন না। এবারও আপনি পূঁজি হারালেন,তবে অভিজ্ঞতার একটা বিপ্লব আপনার মেধায় সৃষ্টি হয়েছে এবং আপনি মনে করছেন যে যদি আপনি তৃতীয় বার পূঁজি পান তবে সফলতা অবশ্যই আসবে। অনেক ক্ষেত্রে এমনই হয়। গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের সফলতার বেলাও তাই হয়েছে। যারা গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের সফলতার প্রশ্ন তুলছেন তাদের একটু ভেবে দেখতে বলব,গ্রামের সামান্য অশিক্ষিত মহিলা যার কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই তার উপর স্বামীর অর্থনৈতিক অভাব ও কর্তৃত্ব অতিক্রম করে ব্যবসায় সফলতা অর্জন কতটা কঠিন ছিল এবং এই কঠিন ও পূঁজির ঝুঁকি নিয়ে যে লোকটি সাধারণ একটা মহিলাকে রক্ষণশীলতা মুক্ত করে ঘর থেকে বের করে নিয়ে এসে একটা অভিজ্ঞতার সম্পদ বিনির্মাণে বিগত বছর গুলো নিরলস পরিশ্রম করেছেন এবং সাথে সাথে অর্থ নৈতিক সফলতা না পেলেও একটা ব্যবসায়ী অভিজ্ঞতার সফলতা এসেছে যা ফলশ্রুতিতে এখন আমরা সেই মহিলাদের মাছে ব্যবসা তরকারির ব্যবসা বা চায়ের দোকান সহ নানাবিধ ব্যবসায় জড়িত দেখছি। বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে সেরা হলো সে বিষয় তেমন সমালোচনা না হলেও আমাদের স্বাধীনতার পরে দ্বিতীয় অর্জন নোবেলের সমালোচনা করি। যে জাতি মানির মূল্য দিতে ব্যর্থ হয় তার পাওয়ার আর কী থাকে ?
দেখলাম আমাদের নোবেল বিজয়ী বিশ্ব উদ্যোক্তাদের তালিকা তার স্থান করে নিয়েছেন। জানি না সমালোচকেরা এটাকে গর্বে না নিয়ে বিদেশিদের মাঝে দালালীর গন্ধ খুঁজবেন কিনা। আজকে যারা গ্রামীণ ব্যাংকের শিকর উৎপাটনের জন্য মরিয়া হয়ে ছুটছেন আমি বলব ওরা ভিন গ্রহের জীব কারণ তাদের নৈতিকতার সাথে বিশ্ব তথা বাংলাদেশের কোন মানুষের নৈতিকতার মিল নেই।

***
ধন্যবাদ
জাফর ইদ্রিস