ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বিবাহের পর প্রথম যে দিন শ্বশুর বাড়ি গেলাম তখন শ্বশুর, শাশুড়ি,চাচি শাশুড়ি, ফুফু শাশুড়ি, খালা শাশুড়ি ও হারুন্না ববুকে কদমবুসি করি। এখানে সকলের পরিচয় দেওয়ার দরকার না হলেও হারুন্না ববুর বিষয় কিছু আলোকপাত করা দরকার। আমার বউকে প্রশ্ন করলাম তোমার ছোট ভাই বোনেরা তোমার আপন দাদীকে হারুন্না ববু বলে কেন ? তার কাছ থেকে আমার প্রশ্নের যে জবাব পেলাম তার সারমর্ম হল, আমার শ্বশুরের বয়স যখন ২ বা ৩ বছর তখন আমার দাদা শ্বশুর মারা যান এবং দাদী শাশুড়ি তার ভাসুরকে বিয়ে করে। সেই ঘরে এক ছেলে হয় সেই ছেলের ঘরের নাতির নাম হারুন। ছোট বেলা থেকে দাদীকে হারুন্নাদের ঘরে দেখতাম বলে আমরা হারুন্না ববু বলেই জানতাম কিন্তু এখন বড় হয়ে আপন দাদী জেনেও ঐ হারুন্না ববু বলে সম্বোধন করি।

আজ ৪২ বছর হল বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। হাতে গোনা কয়েক জন রাজাকার ছাড়া প্রতিটি মানুষ শারীরিক,মানসিক,আর্থিক, কোন না কোন ভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয় থেকে ভারতে সহযোগিতায় নয় মাসের রক্ত ক্ষয়ী যুদ্ধে জয়লাভ করে দেশকে স্বাধীন করেছে। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের পরীক্ষিত বন্ধু ও প্রতিবেশীটিকে তাদের আচরণে সব সময়ই মনে হয়েছে তারা হারুন্নার ববু।

২০১২ সালে শেষে এসে দেখলাম তাদের বোধোদয় হয়েছে যে আমরা শুধু হারুন্নার দাদী নই আমার আরও আপন নাতী নাতনি আছে এবং সেভাবেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে একটি প্রশ্নবোধক(?) রেখে দিল, হাত পা সবই মিলালো শুধু বুকটা বাকি রাখল অর্থাৎ সোনিয়া সাক্ষাতকার। তবে কি হারুন্না ববু হয়েই থাকবে ????????