ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

যুদ্ধাপরাধীর বিচার ৭১’ এর কিছু রাজাকার বা পাকিস্তানের দোসর ছাড়া প্রতিটি মানুষের এখন দাবী। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি এ বাংলার মানুষ কখনই মেনে নিবে না। বেইমানের
বিচার করুন এবং স্বচ্ছতার সাথে করুন। কে, কি অপরাধ করেছে, কখন, কোথায় সংগঠিত হয়েছে উহার প্রমাণ স্বচ্ছতার সাথে জন সম্মুখে উপস্থাপন করুন এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করুন, তবেই
জনস্রোত বিচারের পক্ষে শামিল হবে। অনেকে দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে বিচার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিয়ে। অনেকে প্রশ্ন তুলছে এটা মানবতা বিরোধী অপরাধ না প্রতিপক্ষ নিধন কর্মসূচি এবং
এটা নিয়ে জনমনে ধূম্র জাল সৃষ্টি হচ্ছে। স্বচ্ছতার সাথে এই ধূম্র জাল দূর করুন। এখানে আমার মনে হয় কর্তৃপক্ষের কিছু ব্যর্থতা আছে, তা না হলে জামাত শিবিরকে প্রতিহত করতে কেন শুধু
ছাত্রলীগ বা যুবলীগকে ওদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, এক্ষেত্রে জনতাকে কেন কর্তৃপক্ষ সম্পৃক্ত করতে পারল না ?

আজ জামাতের নতুন প্রজন্মের কাছে ৭১’ এর অনেক কিছুই অজানা। তাদের মোটিভেটেড না করে যদি তাদের উপর স্টিম রোলার চালানো হয় তবে হিতে বিপরীত হতে পারে এবং তাদের কাছে
ভুল বার্তা পৌঁছে যেতে পারে। জামাত একটি নিবন্ধিত রাজ নৈতিক দল। নিয়মতান্ত্রিক ভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া উচিৎ এবং অ-নিয়মতান্ত্রিক ভাবে আইন আদালতের
বিরুদ্ধাচরণ করলে জনগণই প্রশাসনের সহযোগিতায় রাস্তায় নেমে আসবে, তখন কর্তৃপক্ষকে এতটা বেগ পেতে হবে না।

আমার আশঙ্কা হচ্ছে জামাতের নতুন প্রজন্মকে নিয়মতান্ত্রিক পথে নিয়ন্ত্রণ না করে তাদের প্রতি অগণতান্ত্রিক আচরণ বা কোন বিকল্প না রেখে যদি নির্মূলের চেষ্টা করা হয়, তবে তা হবে দেশের জন্য
আত্মঘাতী। শিবিরের কিছু কর্মীকে হাস্যোজ্জ্বল ভাবে প্রিজন ভ্যানে বন্দিত্ব গ্রহণ করতে দেখ আমার মনে শঙ্কার উদ্রেক হল যে, আমরা কি আফগানিস্তান, পাকিস্তান বা ইরাকের মত আমাদের
দেশেও আত্মঘাতীর প্রজনন হ্যাচারিতে পরিণত হতে যাচ্ছি?

যখন পিঠে ঠেকে উঁচু দেয়াল
ব্যাঘ্রেরে রূপ তখনই
নেয় যে শেয়াল।

আমার লেখায় যদি কোন পক্ষ ব্যথিত হয়ে থাকেন তবে ক্ষমা করবেন।

* একটা কথা আগাম বলে রাখি, আওয়ামী বিএনপির ঐক্য হয়তো দেখে যেতে পারব না, তবে অদূর ভবিষ্যতে যারা বেঁচে থাকবেন তারা তাদের ঐক্য দেখবেন একটা ইস্যুতে আর তা-ই হবে জামাত
প্রতিহতের ইস্যু।

ধন্যবাদ
১৪.১১.২০১২