ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

বুবু মানে বড় বোন। মা বাবার সর্ব প্রথম সন্তান। আমার আর বুবুর বয়সের পার্থক্য হল, তাঁর মেঝ ছেলেটি আমার এক বছরের বড়। রুস্তুম আলী নামৈ সেই ছেলেটিই আমার ছোট বেলার একমাত্র খেলা ও পড়ার সাথী। মাকে খুব একটা প্রয়োজন পড়তো না যদি বুবু কাছে থাকত। তাঁর ছেলে রুস্তুম আলী সাথে একত্রে বেড়ে উঠায় এক সময় মাতৃ স্নেহে সংক্রামিত হয়ে গেলাম। স্কুল জীবন মামা ভাগিনা একত্রে
পাড় করলাম। খুব কম রজনীই ছিল মামা ভাগিনা একই বিছানায় কাটাই নাই,কখনো ওদের বাড়ি কখনো বা আমাদের বাড়ি।

কলেজ জীবন শুরু হয় প্রবাস থেকে। সেইযে মা বাবা ভাই বোন ছেড়ে ঘর থেকে বের হয়েছি আজ ছত্রিশ বছরেও ঘরে ফেরা হয় নাই। তিন চার মাস বা তার চেয়েও বেশী দিন পর পর বাড়ি যেতাম। আমার বোনের শশুর বাড়িটি ছিল আমাদের বাড়ী থেকে মাইল খানেক দূরে তবে আমাদের বাড়ি থেকে বুবু বাড়িটি দেখা যেত। মাঝখানে ছিল একটি খোলা ধান ক্ষেত। একদিনের একটি ঘটনা বলি,
প্রায় পাঁচ ছয় মাস পরে একবার ঢাকা থেকে বাড়িতে গেলাম। মা বাবা ঐ দিন ছিলেন না,নানা বাড়িতে গিয়েছিলেন কিন্তু আমার তা জানা ছিল না। আমি সন্ধায় বাড়ির অদূরে লঞ্চ স্টেশন নামার সাথে সাথে লোক মুখে বুবু জানতে পারেন আমি বাড়ি আসছি। বুবু সন্ধা প্রদীপটি না জ্বালিয়ে ছুটে আসে আমাদের বাড়িতে। আমি বাড়িতে পৌঁছতে না পৌঁছতে বুবু এসে হাজির। কেন তাঁর এই তাড়া? তা তাঁর মুখেই জানলাম যে এতদিন পর বাড়িতে এসে মাকে না পেলে আমার মন খুব খারাপ হবে তাই। বুবু আমাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে আমার গালে একটা চুম্বন দিল। আজও বুবুর সেই চুম্বনের শিহরণ রক্তের শিরায় শিরায় প্রবাহিত হচ্ছে।

বাবাকে হারিয়েছি ঊনিশ বছর, মাকে হারিয়েছি পনের বছর। মা বাবার অভাব বুঝতে দেননি বুবু। যত বার বাড়িতে গিয়েছি এবং যতদিন বাড়িতে থেকেছি বুবু ততদিনই আমার সাথে সাথে থেকেছে। বাড়িতে যাবার খরব পেলেই আমাদের বাড়িতে অগ্রীম এসে হাজির হতেন। বুবু আমাদের আট ভাইবোন সকলেরই মাতৃত্বে আশ্রয় স্থল ছিল। সেই বুবুটিকে শেষ বিদায় জানিয়ে আমরা যেন সকল ভাই বোন সত্যিকারে এতিম হয়ে গেলাম। আল্লাহ আমার বুবুকে ভাল রেখ। আমিন।