ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

নারী মায়ের জাতি। প্রতিটি মানব তার মা থেকে উৎপত্তি সুতরাং নারীকে মা ভাবতে কাহারো দ্বিধা বা আপত্তি থাকার কথা নয়। লক্ষ্য করা যাচ্ছে সমাজে নারীরা বিভিন্ন ভাবে নির্যাতিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন নামে নারী নির্যাতন আইন হচ্ছে কিন্তু নির্যাতনের মাত্রা শুধু বেড়েই চলছে। নিত্য নতুন আইন করে মানুষকে ধোঁকা দেয়া হচ্ছে। আইন যদি তার নিজস্ব গতিতে চলত তাহলে প্রচলিত আইন কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে নারী নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব।

এখন আমি নারী উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে কিছু বলব। বাংলা দেশের মুসলিম সমাজে একটা ইসলামি আইন আছে যার আলোকে এ যাবৎ উত্তরাধিকারের বিবাদ মিমাংশা হত। বর্তমানে কিছু অতি উৎসাহী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নারীদের সুদৃষ্টি লাভের জন্য এবং নিজেদের দল ভারি করার জন্য নারীদের উত্তরাধিকার নিয়ে কুতর্ক শুরু করেছন। আজ আমি সামাজিক দৃষ্টি কোন থেকে নারীর উত্তরাধিকার সমন্ধে কিছু আলোকপাত করব।

আধুনিক সমাজে শিক্ষায় নারী পরুষ সমান তালে এগোচ্ছে। পশ্চাৎপদ নারীরাও আগের তুলনায় অনেক এগিয়ে। বাবা মায়েরা তার ছেলে মেয়ে উভয়কেই স্কুলে পাঠাচ্ছে এবং মেধা অনুযায়ী কখনও ছেলে আবার কখনো মেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই তারা তাদের সর্বোচ্চ ডিগ্রিটি নিচ্ছে। শিক্ষা শেষে ছেলে তার সেবা বা উপার্জন তার মাতা পিতাকে দিচ্ছে আর মেয়ে তার সেবা বা উপার্জন টি তার স্বামীর সংসারে বা নিজে ভোগ করছে। এখানে বলতে পারি একটি মেয়েকে বাবা ডাক্তার বানিয়ে অথবা যতটুকু সম্ভব গড়ে বিয়ে দিল কিন্তু সে ফল ভোগ করল মেয়েটির স্বামী বা তার পরিবার। আবার দেখা যায় মেয়েরা নির্যাতিত হয় স্বামীর সংসারেই। মা বাবার সংসারে নির্যাতিত হয় না। এখন আমার বক্তব্য হল নারীকে সাবলম্বী করার জন্য যদি বাড়তি কোন আর্থ সম্পদ দিতে হয় তবে তার সেবাটি যিনি নিচ্ছেন তাকেই দিতে হবে। এখানে স্বামীর পরিত্যাক্ত সম্পদ পূর্বে যেখানে দুই আনা পেত তা বাড়িয়ে আনা করা যেতে পারে আর বাবার যে অংশটুকু ধর্ম তাকে দিয়েছে তাত পাচ্ছেই। এখানে অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন ছেলে কতদিন বাবা মাকে সেবা দিচ্ছেন? বাবা মার যত দিন দরকার ততদিনই দিচ্ছে। এখানে প্রকাশ থাকে যে তাদের সম্পদ বাবা মা ইচ্ছে করেই ছেলেকে দিচ্ছে যদি তারা মেয়েকেও দিতে চান তবে আইনত তাতে বাধা দিচ্ছে না। আমার জানা মতে কোন সুশিক্ষিত মেয়েকে বিবেক হীনের মত বলতে শুনিনি যে বাবার সম্পদ সমান ভাগ নিব।

তাই সব শেষে আমি বলব রাজনৈতিক কুতর্ক বাদ দিয়ে নারীদের যদি স্বচ্ছল ও স্বাবলম্বী করতে হয় তবে যে সংসারে সে সেবাদান করছে এবং যেখানে তার নির্যাতিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে সেই স্বামীর পরিত্যাক্ত সম্পত্তির অংশকে বাড়িয়ে দিলেই নারীরা সম্পদের মোহে অহেতু বিবাহ বিচ্ছেদ থেকে বিরত থাকবে এবং প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে নারী নির্যাতন ও উত্তরাধিকার সমস্যার সমাধান করা যাবে।

আমি আমার সম্পদ থেকে বর্ধিত প্রাপ্য টুকু আমার স্ত্রীকে দিয়ে দিতে একমত। অবশেষে স্বামীর বর্ধিত সম্পদ কিন্তু এক নারীই পেল। আমার বক্তব্যটি সবার বিবেচনার জন্য নিবেদন করলাম। ধন্যবাদ