ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

একটা বিষয় অনেক দিন থেকে লিখব বলে ভাবছি কিন্তু ভাবছি যাহা আমি বলতে চাই তাহা কি সঠিক ভাবে প্রকাশ করতে পারব ?আরো ভাবছি লেখাটি সমাজের লোকদের কাছে গ্রহন যোগ্য করে তুলতে পারব কি ? আবার ভাবছি আমি আমার যে ভাবনাটি প্রকাশ করতে চাই তাহা সকলের মনো জগতের স্বীকৃতি পাবে কি? অনেক প্রশ্নের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে লিখতে বসলাম এই ভেবে যে সুন্দর কোন কিছু সৃষ্টি হলে স্রষ্টাকে কৃতিত্ব দিব আর অসুন্দরের দায় ভার আমি নিজেই নিব।

আমরা লক্ষ্য করলে দেখব যে খেলনা গাড়ি যাহা স্প্রিংয়ে দম দিয়ে ছেড়ে দিলে চলতে থাকে। দম মানে গাড়ির সাথে থাকা চাবিটি ক্লক ওয়াইজ ঘোরালে গাড়িটি ততক্ষণ পর্যন্ত চলবে যতক্ষণ চাবিতে দেওয়া দম অবশিষ্ট থাকবে। দম শেষ হলে গাড়িটি থেমে যাবে আর চলবে না। সৃষ্টি কর্তা ও মানুষকে তেমনি সৃষ্টির শুরুতে মায়ের গর্ভে দম নামক রক্ত প্রবাহ বহমান করে এমন ভাবে গতিশীলতা দান করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন এবং মৃত্যুকে সেই দমের শেষ পরিণতি বলে ধরা হয়। আমরা এখন ইলেক্ট্রিক ঘড়ি ব্যবহার করি। তবে পূর্বে ইলেক্ট্রিক ঘড়ি ছিলনা।

তখন দমের ঘড়ি ব্যবহার করা হত। হাতের কম্পনে চলত। অনেক বেশী সময় হাত থেকে খুলে রাখলে চলা বন্ধ হত।সাধারনত ছুটির দিনে ঘড়িটি হাত থেকে খুলে রাখলে বন্ধ হয়ে যেত এবং নতুন ভাবে সময় ঠিক করে পড়তে হত। হাতের কম্পনেই আবার চলা শুরু করত। এখানে বলা যায় ঘড়িটির দম যতক্ষণ থাকত ততক্ষণ চলত এবং দম শেষ হলে থেমে যেত।

মানুষ মায়ের গর্ভে পূর্ণ আকৃতি পাওয়ার পর থেকে তার দমের কার্যক্রম শুরু হয় এবং জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তার রক্ত প্রবাহ,চিন্তা চেতনা নিরন্তর চলতে থাকে। প্রতিটা শিরায় উপশিরায় মুহূর্তের জন্যেও রক্ত প্রবাহ থেমে নেই। আমরা যখন ঘুমাই তখনও আমাদের রক্ত কনিকা গুলো গতিতে থাকে এবং আমাদের চিন্তা চেতনা ও রক্ত প্রবাহ স্বপনের মাঝেও আবর্তিত হতে থাকে। শুধু স্মৃতি শক্তি বিরামহীন চলার ক্লান্তিতে বিস্মৃত থাকে বলে আমরা ঘুমের মাঝে কিছুই টের পাইনা। আমাদের মস্তিস্কে প্রতিটি মুহুর্তে আমাদের সুখ দুঃখ হাসি কান্না আনন্দ বেদনা ক্ষোভ সবই বহন করে চলেছে এবং প্রতিকূল ভাবনাগুলো
আমাদের রক্তের গতিবেগ কে বাড়িয়ে দেয়। ফলশ্রুতিতে হৃদরোগ নামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হই। যাদের জীবনে সুখের আধিক্য বেশী তাদেরই সাধারনত হৃদরোগ আশঙ্কা কম থাকে কারণ তাদের রক্ত প্রবাহ ধীর গতি সম্পন্ন হয়। অস্থির চিন্তা,ক্রোধ গ্লানি সম্পন্ন মানুষের রক্তের গতিবেগ বেড়ে যখনই অসীমে পৌছে যায় তখনই হৃদরোগের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় রক্ত ক্ষরণের মাধ্যমে। মানুষ প্রতিটি মুহুর্তে শুধু একটা বিষয় নিয়ে ভাবে না। মানুষের ভাবনা গুলোয় ঐ সব বিষয়ে থাকে যার সাথে তার স্বার্থ জড়িত থাকে। স্মৃতিতে ধারন করা যত বিষয় থাকে সে উহা চেতনে বা অবচেতনে সব সময় তাহা ভাবতে থাকে এবং এক এক করে সমাধান পেতে চায়। এক সাথে যখন তার বহুবিধ হতাশার বহিঃপ্রকাশ ঘটে তখনই দুর্ঘটনার সৃষ্টি করে।

এর আগে আমি বলার চেষ্টা করে ছিলাম যে,মানুষকে সৃষ্টি কর্তা মাতৃগর্ভ অবস্থা থেকে রক্ত প্রবাহ সৃষ্টি করে একটা গতিশীলতা দান করেছেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এই গতিশীলতা বহমান থাকে আর যতক্ষণ দেহে রক্ত ধাবিত হতে থাকে ততক্ষণ তার চিন্তা চেতনা নিরন্তর চলতে থাকে এবং সকল ভাবনাগুলো চেতন বা অবচেতনে একই সাথে আমরণ অশান্ত সাগরের ঢেউয়ের মত তোলপাড় করতে থাকে। দুশ্চিন্তায় রক্তের গতিবেগ খুবই গতিশীল থাকে। মানুষ যখন কোন ভাবনার শুভ সমাধান পায় তখন সে আর সেই ভাবনাটি আর তেমন ভাবে না।

তখন শুধু সুখের ভাবনা ভাবে এবং তার ভাবনার বিষয় বস্তুর তালিকা থেকে একটি হৃদরোগের কারণ দূরীভূত হয়। যে যত দুশ্চিন্তার সমাধান দিতে পারবে সে তত হৃদরোগ ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায়। আমরা আমাদের দুশ্চিন্তা গুলো এক এক করে সমাধান করতে পারলে দেখা যাবে আমরা অনেকটা হৃদরোগ বলয় থেকে নিরাপত্তা বলয়ে প্রবেশ করতে পারব। কিন্তু আমরা একটা মুহুর্তে ও দুশ্চিন্তা বলয় থেকে বের হতে পারছি না। এ কথাও সত্য যে,আমরা যদি দুশ্চিন্তার বিষয় বস্তুর তালিকা ছোট করে নিয়ে আসতে পারি তা হলে হৃদরোগ ঝুঁকি অনেকটা কমে যাবে। অতিরিক্ত বহমান রক্ত ধারা হৃৎ পিন্ড নামক যন্ত্রটি নিরন্তর প্রবাহের ফলে তার দীর্ঘায়ুত্বের অবচয় হতে থাকে। এই যন্ত্রটি কিন্তু মায়ের গর্ভাবস্থা থেকে তার কর্মটি করে যাচ্ছে। আমরা জানি এক মুহূর্তের জন্য এই যন্ত্রটি থেমে গেলে তাকে জীবন্ত বলা হয় না। এই যন্ত্রটির
সাথে মানুষের দেহের অনেকগুলো অর্গান আছে যেমন লিভার প্লীহা গলব্লাডার কিডনি ফুসফুস শিরা উপশিরা চোখ ,মস্তিস্কে সবাই তাদের নিজ নিজ কর্মটি বিরামহীন ভাবে প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে। আপনার ব্যবহৃত কোন যান্ত্রিক বস্তু যেমন মটর গাড়ি,টিভি ফ্রিজ ইত্যাদি অতি মাত্রায় ব্যবহারের ফলে যেমন উহার ব্যবহার উপযোগিতা কমে যায়। আবার ব্যবহারে মিতব্যয়ী হলে উহার কর্মক্ষম কাল বেড়ে যায়। তেমনি ভাবে আমাদের দেহের অর্গানগুলো কম মাত্রায় ব্যবহার করতে পারলে উহার কর্ম কাল বা কর্ম ক্ষমতা বাড়ানো যায়। এখন পশ্ন আসতে পারে যে তা হলে কি আমরা বেশী বেশী ঘুমিয়ে দেহে অর্গান গুলোকে
বিশ্রাম দিতে পারি ?তবে উহা আংশিক ফলপ্রসু হলেও আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব না। কারণ ঘুমের মাঝেও আমাদের মস্তিষ্ক সহ সব অর্গান জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। তবে আপনি আপনার সকল অর্গান কে একটা নির্দিষ্ট গতিতে নিয়ে এসে দ্রুত বিরামহীন গতি থেকে কিছুটা কম গতি সম্পন্ন করে দ্রুত অপচয় রোধ করতে পারেন আর তা হল “মেডিটেশন”। আপনি যদি আপনার সকল ভাবনা ছুড়ে ফেলে আপনার সুখ স্মৃতি রোমঞ্চনে নিজেকে আসন যোগে গভীর ভাবে মুদিত নয়নে ধ্যান মগ্ন হয়ে স্রষ্টার সৃষ্টি জগতকে উপলব্ধিতে নিয়ে কিছুটা সময় একক চিন্তায় কাটাতে পারেন তাহলে আপনার দেহের সকল অর্গান”এক”কর্ম পরিচালনার জন্য কম জ্বালানী ভোগে কম গতি পাবে বিধায় কম ব্যবহার হবে,ফলে কার্য্য ক্ষমতার কাল বৃদ্ধি পাবে। যেমনি আপনি আপনার মটর গাড়িটি কম ব্যবহার করলে তার আয়ুস্কাল বা মাইলেজ অবশিষ্ট থাকবে। তেমনি আপনার দেহের সকল অর্গান কম গতিতে ব্যবহার করলে আপনার পরবর্তী জীবনকে সুস্থতার নিশ্চয়তা দিবে। “মেডিটেশন” আপনার চিন্তা ও রক্তে গতিকে নিয়ন্ত্রন করে। মেডিটেশন ব্যতিরেকে দেহ যন্ত্র বিরামহীন দ্রুত গতিতে চলে। স্রষ্টার সৃষ্টি সমন্ধে ভাবা বা তার ইবাদত বা প্রশংসায় মশগুল থাকা সবচেয়ে উত্তম মেডিটেশন। আপনি যে ধর্মাবলম্বী হউন না কেন আপনার ধর্ম বিশ্বাসের ধ্যান মগ্নতাই মেডিটেশনের অবলম্বন হতে পারে। যে যত বেশী মেডিটেশন করবে এবং স্রষ্টার সৃষ্টি সমন্ধে গভীর উপলব্দী নিয়ে ধ্যান মগ্ন হয়ে মুদিত নয়নে একক চিন্তায় মশগুল থাকবেন তার দেহের অর্গান গুলো তত বেশী বিশ্রাম পাবে এবং সুস্থ জীবন লাভের পথ সুগম হবে।

মেডিটেশন সুস্থ থাকার এক অনন্য নাম।
ধন্যবাদ