ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

এক দেশে এক প্রান্তিক কৃষক ফসল অনা বাদীর কারণে মনিবের নিকট থেকে কিছু টাকা কর্জ করে। কিন্তু পরবর্তী সময় সেই কর্জ তার পক্ষে শোধ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মনিব তার পাওনা শোধ করার জন্য বার বার তাগাদা দেওয়া সত্বেও যখন কৃষক ব্যর্থ হচ্ছিল ঠিক তখন মনিব কাজীর দরবারে বিচার দিলেন। এখানে উল্লেখ করে রাখি, গল্পটা আপনাদের সকলের জানা তবুও ধৈর্যচ্যুত হবেন না আশা করি। কৃষক অনুপায় হয়ে গেল। তার পক্ষে টাকা শোধ করা সম্ভব নয় আবার স্বনামধন্য আইনজীবী দিয়ে মামলা পরিচালনা করাও সম্ভব নয়। অবশেষে একজন সামান্য মহুরী তার পক্ষ নিয়ে একটি কৌশল শিখিয়ে দিলেন। বিচারক কাজী যখন কৃষকটির নাম জিজ্ঞাসা করলেন কৃষকটি ছাগলের মত ভ্যাঁ করিয়া ডাকিয়া উঠিল। বিচারক পুনঃ জিজ্ঞাস করাতেও ভ্যাঁ করিয়া ডাকিল। তারপর জিজ্ঞাসা করা হল তুমি কি মনিবকে চিন ? তখনও ভ্যাঁ ডাকিল। তুমি কত টাকা নিয়েছিলে? উত্তরে ভ্যাঁ। বিচারক যাহাই প্রশ্ন করেন সর্ব উত্তরে ভ্যাঁ, ভ্যাঁ করিতে লাগিল। অবশেষে বিচার কৃষকটিকে (wrong headed) পাগল সাবস্ত করে মুক্তি দিলেন।

ঘটনাটি সারা রাজ্যে Talk of the day তে পরিনত হল। রাজার কানেও ব্যাপারটি গেল। রাজা কৃষকের কৌশল দাতা মহুরীকে তলব করলেন এবং বললেন প্রজাদের নানাবিধ অভাব অভিযোগ ও দাবী দাওয়া থেকে আমাকে বাঁচার জন্য একটা পথ বাতলে দাও। মহুরী তাকেও একটি বানী শুনিয়ে বিদায় হলেন। প্রজারা প্রতিদিনের মত তাদের অভিযোগগুলো নিয়ে আসতে থাকল এবং রাজা শুধু মহুরীর শেখান বানী “চড়াও বেটাদের শূলে” এই বাক্য টুকু বলতে থাকলেন এবং সকল প্রজারা ভয়ে পালাতে লাগল। অবশেষে দেখা গেল এরপর কোন প্রজা আর কোন অভিযোগ নিয়ে রাজার দরবারে আর আসতে সাহস পায়নি এবং রাজা তার বিলাসী জীবনকে আরও ভোগারম্বর করে তুললেন।

আমাদের সমস্যা সংকুল দেশে নানাবিধ সমস্যায় আমরা জড়িত। নুন আনতে পান্তা শেষ।শাসকেরা নিজেদের সুখ সাচ্ছন্দ্যে বিভোর। পরমতসহিষ্ণুতা বলতে কিছু নেই বললেই চলে। প্রতিপক্ষ দমনেই বেশী ভাগ ব্যস্ত থাকেন। যখনই প্রতিপক্ষ বা জনতা তাদের দাবীতে সোচ্চার হয়ে উঠে ঠিক সেই মুহূর্তে তারা যুদ্ধাপরাধীর বিচার বিঘ্নের ঘ্রাণ পান।

সড়কের বেহাল অবস্থার কথা বলতে গেলেও যুদ্ধাপরাধীর বিচার বিঘ্নের ধুয়া তুলেন। ভিখারুন্নেছা স্কুলের ছাত্রী ধর্ষনের প্রতিবাদেও যুদ্ধাপরাধীর প্রতিবন্ধকতা ঘ্রাণ খুঁজে বেড়ায়।আমজনতাকেও যুদ্ধাপরাধীর কাঠ গড়ায় দাঁড় করাতে দ্বিধা করেন না যদি তা তাদের স্বার্থের পরিপন্থি হয়। এখন নিজেদের অক্ষমতাকে ঢাকতে কৃষকের ভ্যাঁ ভ্যাঁ ডাকের ন্যায় সর্ব ক্ষেত্রে কোন এক বিজ্ঞ মহুরী মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে যুদ্ধাপরাধীর বিচার বিঘ্নের প্রপাগান্ডা করে বেড়াচ্ছে এবং একই সুরে দলীয় দোসরা ও অনবরত একই ভঙ্গিতে প্রচার ও দমন নীতি চালিয়ে যাচ্ছে।

ধন্যবাদ