ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

একটা গল্প দিয়ে শুরু করি। আমাদের দেশে একটা গল্প প্রচলিত আছে যে,বন্যা পরবর্তী এক সময় লোকেরা দেখতে পেল যে নদীর স্রোতের সাথে কম্বল সাদৃশ পশমি লোম যুক্ত একটি বস্তু ভেসে যাচ্ছে। তীরের লোকেরা তা দেখতে পেয়ে একটি সাহসী লোককে কম্বল ভেবে সেটিকে নিয়ে আসতে বলল। যেহেতু বন্যা পরবর্তী সময় তাই সকলের ধারনা যে কোন নাগরিকের ঘরের কম্বল হয়তো বন্যায় ভেসে যাচ্ছে। লোকটি সাঁতরে গিয়ে বস্তুটিকে ধরল এবং তীরের লোকেরা দাঁড়িয়ে দেখতে ছিল। দেখা গেল যে লোকটি ডুবে যাচ্ছে এবং তার মরণাপন্ন অবস্থা হল। তীরের লোকেরা ভাবল যে বোধ হয় একত্রে অনেক গুলো কম্বল এবং ওজন বেশী বিধায় লোকটা ডুবে যাচ্ছে। যখন দেখা গেল যে লোকটা সত্যি সত্যি পানিতে ডুবে যাচ্ছে তখন তীরের লোকেরা চিৎকার করে বলতে লাগল যে,কম্বলের দরকার নেই, কম্বল ছেড়ে চলে আসো। লোকটা ধম ছাড়া কণ্ঠে বলল ,আমি তো কম্বল ছেড়ে দিয়েছি কিন্তু কম্বল যে ছাড়ছে না ভাইরে……। আসলে বস্তুটি ছিল ভয়ঙ্কর একটা কালো ভল্লুক।

পদ্মা সেতু নির্মানে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসাবে নিয়োগ তালিকায় থাকা অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ মন্ত্রীর দুর্নীতির সংস্রব আছে বিধায় বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থ ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড় করছে না,যতক্ষণে এর তদন্ত শেষ হয়ে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা না হয় এবং শোনা যাচ্ছে তাতে দুই তিন বছরও লাগতে পারে এবং তাতে স্বপ্নের পদ্মা সেতু একটি অনিশ্চয়তার বাতাবরণে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।অর্থ মন্ত্রী সন্দিহান দুর্নীতি গ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটিকে প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও ভল্লুক রূপি বিশ্ব ব্যাংক তার সিদ্ধান্ত অনড় । দুর্নীতির কালো হাতের যাতা কলে স্বপ্নের সেতু পদ্মা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অর্থমন্ত্রী অভিযুক্ত পরামর্শকে প্রত্যাহারে রাজি কিন্তু বিশ্ব ব্যাংক কালো ভল্লুকটির মত দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকের টুঁটি ছাড়তে রাজি নয়।

ধন্যবাদ।