ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

যে হরতাল মানুষকে পোড়ায়,স্বপ্নের গাড়িটি ভাঙ্গে,রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে তাকে আমি নিন্দা করি। যে হরতাল আমার পথ রোধ করে,আমার গতিকে রুদ্ধ করে,চলতে বাধা দান করে এবং উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে তাকে আমি ঘৃণা করি। আবার যে কর্তৃপক্ষ আমার মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে,আমার প্রতিবাদের ভাষাকে আটকে দেয়,জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়,তাকেও আমি নিন্দা করি। প্রতিবাদ
মানুষের একটি জন্মগত অধিকার। মানব শিশুটি জন্মের সাথে সাথেই মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠের যাতনাটি তার প্রথম আর্ত চিৎকারে জানিয়ে দেয়। না কাঁদলে মাও দুধ দেয় না।

শিশুরা বিভিন্ন সময় তাদের অধিকার কেঁদে আদায় করে আবার তাতে ব্যর্থ হলে অনেক সময় ঘরেরে আসবাবও ভাংচুর করে।অধিকার ব্যক্তি,দল,সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় হতে পারে। যখন কোন ব্যক্তি অধিকার
লঙ্ঘিত হয় তখন সে ব্যক্তিগত ভাবে প্রতিবাদ করবে। আবার দলীয় হলে দলবদ্ধ ভাবে,কখনও সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রতিবাদ করবে। স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নয় এমন যারা আছে তারা তাতে সম্পৃক্ত নাও হতে পারে কিন্তু জোড় করে তাদের বাধ্য করা,অন্যের সম্পদ নষ্ট করা, মানুষকে পুড়ে মারা, চলাচলে বাধা দেয়া অমার্জনীয় অপরাধ।

আজ সমাজে বিশিষ্ট জন তথা সমাজের প্রতিটি মহল হরতালের বিকল্প নিয়ে ভাবছেন।

শ্রীলঙ্কায় নাকি প্রতিবাদের ভাষা সারি বদ্ধ হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে টিন পিটিয়ে প্রতিবাদ করে। জেনে আমার কাছে হরতালের বিকল্পটা শর্ত সাপেক্ষে এমন হলে ভালই হয়। শর্ত সাপেক্ষে এ জন্য বলছি যে,সেখানে শাসক শ্রেণীর কোন ধরনের বাঁধা দেয়া চলবে না

যেমনটি তারা মানব বন্ধনেও দিয়ে থাকে। আর এমন গ্যারান্টি শাসক শ্রেণীকে দিতে হবে যে,যারা এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ গ্রহণ করবে তাদের দলীয়,সামাজিক,পারিবারিক তথা রাষ্ট্রীয় ভাবে হয়রানি করা যাবে না। হরতালকারীরা হরতাল পালনে অনিচ্ছুক ব্যক্তিকে যেমন জোর করে হরতাল পালনে বাধ্য করে তেমনি যারা হরতাল পালনে ইচ্ছুক শাসক শ্রেণী তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হরতাল থেকে বিরত রাখে,এই দুটোই অন্যায়।

আর শাসক শ্রেণী যদি রাস্তায় টিন পিটানোর মত কাজে বাধা দান না করে তবে সমাজে যারা প্রতিবাদ করতে ভয় পেয়ে ফেসবুক বা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বেনামে প্রতিবাদ করে তারাও রাস্তায় নেমে আসতে সাহস করবে এবং টিন পিটিয়ে হউক বা অন্যের ক্ষতি না করে নিজের ভূষণ পুড়ে,মাথা চুল ছিঁড়ে,জীবন আত্মাহুতি দিয়ে বা ধরেই নিলাম টিন পিটিয়েই প্রতিবাদ করার অধিকারটুকু শাসক শ্রেণী দিক এবং এই অধিকারটুকু পাওয়ার জন্য সবাই সোচ্চার হই এবং তখনই বুঝা যাবে কাদের পাল্লা বেশী ভারি।

ধন্যবাদ
জাফর ইদ্রিস
৬ মে’১২