ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

images

শুক্রবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় একজন নারী, মেরি পল ধর্ষিত হয়েছেন, উপর্যুপরি, ধর্ষকের সংখ্যা আট। তাঁর বয়স ৭২। তিনি একজন সন্যাসিনী, কাজ করেন একটা স্কুলে – কিছুদিন আগে সেই স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল নিযুক্ত হয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবে এই বয়সে আটজন মানুষ দ্বারা ধর্ষণ মৃত্যুপথযাত্রী করেছে তাঁকে।

খবরে প্রকাশ, কাল ভারতের বিভিন্ন গির্জায় তাঁর জন্য প্রার্থণা করা হয়েছে। ওহ! গির্জায় প্রার্থণার খবর দেখে মনে পড়ল, তিনি খৃষ্টান, মানুষ নন। মানুষ হলে তো প্রার্থণা হতো মন্দির-মসজিদ-প্যাগোডায়ও। সেই প্রসঙ্গও থাকুক। তাঁকে খৃষ্টানই ধরে নেই।

আমার মায়ের একেবারে সঠিক বয়স তিনি জানেন না। ২/১ বছর এদিক-সেদিক হলেও তাঁর বয়স ষাটের আশেপাশে। কল্পণা করছিলাম আমার মায়ের চাইতেও ১২/১৪ বছরের বড় একজন নারী ধর্ষিত হচ্ছে ক্রমান্বয়ে আটজন পুরুষ দ্বারা। তার ওপরে এমন একজন নারী যিনি ঈশ্বরের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে গিয়ে আজীবন দূরে ছিলেন স্বাভাবিক যৌনতা থেকেও। হায়! কী বিভৎস শিশ্ন সন্ত্রাস!

প্রতিটি ধর্ষণ ভয়ঙ্কর, বিভৎস। কিন্তু কি আশ্চর্য, আজ সব ধর্ষণ শিরোনাম হয় না পত্রিকায়, টিভি নিউজে! একটা প্রাপ্তবয়স্ক তরুনী যদি ধর্ষিত হয়, তাহলে সেটা আর বড় খবর না এখন। এসব হতেই পারে আমাদের সমাজে, ওসব আমাদের গা সওয়া হয়ে গেছে। অবশ্য প্রাপ্তবয়স্ক তরুণী যদি বাসে ধর্ষিত হয়ে মারা যায় (নির্ভয়া), বা কোন তরুণী যদি থানায় গণধর্ষিত হয়ে মারা যায় (ইয়াসমীন) তাহলে অবশ্য ভিন্ন কথা; সেটা আমাদের ‘বিবেক’ কে নাড়া দেয়। পত্রিকায়, টিভিতে ওসব খবর হয়।

এই পর্যায়ে কারো মনে হতে পারে, আমরা ভারতীয়দের চাইতে অনেক ‘সভ্য’; আমরা শুধু তরুনীদেরকেই ধর্ষণ করি, ৭২ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে করি না। দীর্ঘদিন থেকে পত্রিকায় ধর্ষণের খবর ফলো করি। পত্রিকায় আমার চোখে পড়েছে প্রায় ষাট বছর বয়সী নারী ধর্ষিত হয়েছেন। এবার একটু কমের দিকে আসা যাক, কিছুদিন আগেও পত্রিকায় দেখেছি চার বছর বয়সী শিশু ধর্ষিত হয়ে মারা গেছে আমাদের দেশেই। পত্রিকায় খুব ছোট করে খবর এসেছে, একে তো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরীবের মেয়ে, তার ওপর আমাদের যাবতীয় মনযোগ এখন গণতন্ত্র রক্ষা, আর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতি নিবদ্ধ। আরো আছে, আমি ২/৩ বছরের শিশুকেও ধর্ষণের খবর মনে করতে পারি। একটা দু’টো না, অনেক। আর পত্রিকায় না আসা ঘটনা হিসেব করলে…!

আমার আগের প্রজন্ম মায়ের কথা বলছিলাম একটু আগে। এবার আমার পরের প্রজন্মের কথা। আমাদের পরিবারে আমাদের পরের প্রজন্ম পৃথিবীতে আসতে শুরু করেছে। বোনের মেয়ে এসেছে আড়াই বছর আগে। ওর দিকে তাকিয়ে ভাবি, ধর্ষণযোগ্য হতে ওর আর মাস ছয়েক বাকি, বা এখনি ও ধর্ষণযোগ্য!!

আমার আগের লিখায় ভারতে চলন্ত বাসে ধর্ষিত ‘নির্ভয়া’র ধর্ষকের জবানবন্দি নিয়ে লিখেছিলাম। আচ্ছা, এই ৩ আর ৭২ বছরের নারীদের ধর্ষকদের জবানবন্দি নিলে তারা কী বলবে? সম্ভবত শিরোনামের কথাটিই বলবে – হোক ৩ বা ৭২…..যোনি আছে না!!

এসব খবরে মাঝে মাঝেই কিছু মানবীয় আবেগ ভর করে, ভীষণ ক্রুদ্ধ বোধ করি, ক্ষোভে ফেটে পড়তে ইচ্ছে করে। আমি বুঝি ওই অনুভূতি থেকেই অনেকেই চান ওদের ধরে ধরে ঝুলিয়ে দিয়ে সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে। না, আমি মোটেও মনে করি না, এই সমস্যার সমাধান এতো সোজা। এই বিভৎস ঘটনাগুলো রোগ না, এগুলো উপসর্গ। রোগের অস্তিত্ব আছে সমাজের গভীরে। আমাদের সমাজে মানুষ এতো ভয়ঙ্কর হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসা দরকার পুরো সমাজের।

Facebook: https://www.facebook.com/zahed.urrahman.77