ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

নববর্ষের দিন কিছু মাইয়া লোকের ‘বস্ত্রহরণ’ নিয়ে বহুত কথা হইছে, এখনো হইতাছে। এই দ্যাশে তো এখন খাইয়া দাইয়া মাইনষের আর কোন কাম নাই। পত্রিকা ল্যাখলো, টিভির ‘টকমারানী’রা কথা হইয়া মুখে ফেনা তুইল্যা ফালাইলো, আর ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ তো ভাইসাই গেলো হুজুগে (বরাবরের মত) – সবদিক দেইখ্যা মনে হইলো দ্যাশে নরক গুলজার হইছে। কিন্তু এখন বুঝা গেল, সবকিছু হুদাই।

প্রথম দিন থেইক্যাই ঢাকা ভার্সিটির প্রোক্টর কইতেছিলেন ওইখানে বস্ত্রহরণের কোন ঘটনার কথা তিনি হুনেন নাই। ওই ঘটনার সময় তিনি রুমে বইস্যা দাবা খেলতেছিলেন, এইটা নিয়া কত জল ঘোলা হইলো। আরে বাবা, ভারতে সংসদে বইসা এমপি রা আর বিলাতে অফিসে বইসা বিচারকরা পর্ণ দেখতে গিয়ে ধরা খাইছে, আর আমাদের প্রোক্টর মহাশয় তো শুধু গেইমই খেলছে, তাও আবার ইন্টেলেকচুয়াল গেইম, দাবা। ইন্টেলেকচুয়াল গেইম খেলা ইন্টেলেকচুয়াল মানুষটারে টিভিতে আইন্যা কী বাজে আক্রমণ করছে! আহ হারে!

পুলিশের কর্তারাও শুরু থেইক্যা বারবার কইছেন ওইখানে বস্ত্রহরণের কোন ঘটনা ঘটে নাই। তারা সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেইখ্যা আবারো কনফার্ম করছেন। টিভি চ্যানেলে আমগোরেও দেখানো হইছে সেই ফুটেজ। ওইখানে কিছু মাইয়ার গায়ে হাত দেওনের ছবি আছে; বস্ত্রহরণের ছবি তো নাই। নিন্দুকেরা অবশ্য কয়, বস্ত্রহরণের ফুটেজ থাকলেও আমাগোরে কি হ্যারা সেইটা দেখাইবো? পুলিশের বুদ্ধি আর যাই হোক হাঁটুতে না। বাদ দেই হ্যাগ কথা, কিছু নিন্দুক এইরম আকামে ত্যানা প্যাঁচাইবো সবকিছুতেই। তয় পুলিশ স্বীকার করছে ওইখানে ভীড়ের মইধ্যে কিছু নারীর গায়ে হাত দেয়া হইছে হয়তো। তারা সেইটা দেখতাছে।

মহাভারতের কাহিনীতে দ্রৌপদির বস্ত্রহরণ অতি আলোচিত বিষয়। মহাভারতের ‘ম’ ও না জানুক, বাঙালি পুরুষ ‘দ্রৌপদির বস্ত্রহরণ’ এর কথা জানে খুব। দ্রৌপদির বস্ত্রহরণের ঘটনায় দ্রৌপদীর স্বামীগো একজন, ভীম প্রতিজ্ঞা করছিল যে হাতে দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করছে, সেইটা সে ভাঙবো আর তার রক্ত খাইবো। আর দ্রৌপদী প্রতিজ্ঞা করছিল দুঃশাসনের রক্ত দিয়া চুল ধোয়ার আগ পর্যন্ত আর চুল বাঁধবো না। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে দুঃশাসনরে মাইরা ভীম, আর দ্রৌপদী দুইজনেই হ্যাগো প্রতিজ্ঞা রক্ষা করছিল।

মহাভারতের এই প্যাঁচাল পাড়ার উদ্দেশ্য হইলো এইটা বুঝানো যে মাইয়া লোকের বস্ত্রহরণ যদি হয়, সেইটা নিয়া কথা হইতে পারে। বস্ত্রহরণ না কইরা দ্রৌপদির গায়ে শুধু হাত দিলে ভীম হয়তো এতো বেশি মাইন্ড খাইতো না, দুঃশাসনেরও হয়তো এই পরিণতি হইতো না। মাইয়া মাইনষের শরীরে হাত তো দেওন যায়ই। এইটা নিয়া এতো প্যাঁচাল পাড়নের কী আছে? কাপড় খুইল্যা নিয়ে নাইলে কথা আছিলো।

মাইয়া মাইনষের শরীর সমাজের সব পোলাগো সম্পত্তি – নিজের সম্পত্তির গায়ে একটু হাত দিতেই পারে যে কোন পোলা। সুতরাং যারা বৈশাখের দিনের বস্ত্রহরণ নিয়া জল ঘোলা করতে চান, তাগো অফ যাওন উচিৎ। কারণ, পুলিশ কইছে বস্ত্রহরণ হয় নাই। আমার বউ আর বোনদের কাছে হুনছি তারা তাগো গায়ে হাত দেওনের কারণে রাস্তায় কিছু পোলারে (এবং কিছু মাঝবয়সী ব্যাডারে) থাবড়াইছিলো। আমি তাগোরেও কইয়া দিমুনে নেহায়েত গায়ে হাত দেওনের লাইগা এইটা করা তাগো অন্যায় হইবো, বস্ত্রহরণ হইলে অবশ্য ভীন্ন কথা।

বৈশাখের ওইদিন লিটন নন্দী কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের ভীম হইতে চাইছিল। হ্যায় বুঝে নাই ভীম হওন যায় পৌরাণিক কাহিনীতেই। কোথায় দুঃশাসনগো হাত ভাঙবো, ভীম হইতে গিয়া লিটন নন্দী নিজের হাতই ভাঙছে। কিন্তু এই লিটনের কথা শুইন্যাই আমরা ক্যান বস্ত্রহরণ লইয়া এতো ফালাফালি করতেছি? এই পোলা তো রাজনীতি করে, নায়ক হওনের লাইগা হ্যায় তো স্টান্টবাজি করতেই পারে। সিসি টিভি যেহেতু কইছে বস্ত্রহরণ হয় নাই, তো হয় নাই। আর মাইয়া মাইনষের গায়ে হাত দিয়া পোলারা এমন কোন অপরাধ কইরা ফালায় নাই যে এতো চিল্লাপাল্লা করতে হইবো। দ্যাশে উন্নয়নের জোয়ার বাড়তে বাড়তে যখন জলোচ্ছ্বাসে পরিণত হইতে যাইতাছে তখন এইসব চক্রান্ত কইরা সরকাররে বিপদে ফেলার চেষ্টা হইতাছে।

badhon

ওইদিন সত্যসত্যই বস্ত্রহরণ হইলে লিটন নন্দীর দরকার আছিলো না, আমগো আস্থাভাজন পুলিশই ভীম হইয়া বস্ত্রহরণকারী দুঃশাসনগো হাত ভাঙতো। থুক্কু, ভুল কইলাম মনে হয়, ১৯৯৯ সালের থার্টি ফার্স্টের রাইতে বাঁধনের বস্ত্রহরণের ছবিতে বাঁধনের গায়ের কাপড় টান দিতে পরিষ্কারভাবে দেখা গেছিল সেই সময়ের শহীদুল্লাহ হলের ছাত্রলীগের সহ সভাপতিরে – বেকসুর খালাস পাইছিলেন তিনি (এইডা অবশ্য কওন লাগে না)।

এখন তো মনে হইতাছে আমগো দ্রৌপদীগোরে কওন দরকার, গায়ে হাত তো মাইন্যা লইবেনই, লগে বস্ত্রহরণটাও মাইন্যা যান। রাস্তায় রেইপড টেইপড হইলে না হয় হাউকাউ কইরেন। আমরাও শরীক হমুনে সেই হাউ কাউ এ।

Facebook: https://www.facebook.com/zahed.urrahman.77