ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আজ আবার লালমনিরহাট সীমান্তে একজন বাংলাদেশী বিএসএফ এর গুলিতে মারা গেছে। এসব খবর এখন আমাদের দারুণ গা সওয়া। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আমাদেরকে বাজে আম্পায়ারিং দিয়ে হারিয়ে দিলে আমাদের পিত্তি জ্বলে যায়; ভারতে বিরুদ্ধে অনলাইনে অন্তত আমরা দারুণ ‘দেশপ্রেম’ দেখাই, কিন্তু সীমান্তে কিছুদিন পর পর হত্যায় আমাদের কিছু আসে যায় না।

কোন প্রশ্ন হলেই ভারতের আছে তৈরি জবাব – তারা সীমান্তে মারে চোরাকারবারি, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বেশ কিছুদিন আগেই এই কথার সায় দিয়েছিলেন। এই দেশে আমরা সামান্য পকেটমারকে হাতেনাতে ধরতে পারলে পিটিয়ে মেরে ফেলি, তো চোরাকারবারি, আর অবৈধ অনুপ্রবেশকারী তো তার চাইতে ‘বড়’ অপরাধীই। কেউ কেউ চিঁ চিঁ স্বরে মানবাধিকারের কথা বলে। মানবাধিকার মানুষের জন্য, অপরাধীরা কি আমাদের চোখে মানুষ?

এই দেশের সীমান্তের অপরাধীদেরকে মেরে ফেলার ‘অধিকার’ ভারতের চিরকালই ছিল। এই অধিকার ‘শক্তি’র অধিকার। এর চাইতে বড় কোন অধিকার তো নেই আর। ‘শক্তি’র অধিকারে আমাদের রাষ্ট্র্ব্ব ও তো ‘ক্রসফায়ার’ আর ‘এনকাউন্টার’ করে মানুষ মেরে ফেলে। ভারত শক্তির অধিকারের চর্চা করেছে সেই আদিকাল থেকেই – ক্ষমতায় যেই থাকুক না কেন, তাদের ‘শত্রু’ বিএনপি, বা ‘বন্ধু’ আওয়ামী লীগ।

আর ভারতের অধিকার তো এখন আরো অনেক বেশি যে কোন সময়ের তুলণায়। গত নির্বাচনে সারা পৃথিবীর বিপক্ষে গিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় থেকে যেতে, আর এখনো নৈতিকভাবে অবৈধ এই সরকারকে টিকে থাকতে সাহায্য করে ভারতে অধিকার এখন আগের চাইতে অনেক বেশী পোক্ত।

ছোটবেলায় স্কুলে সারমর্ম লিখতে হত আমাদের। ব্যাকরণ বইতে থাকা সারমর্ম লিখার জন্য একটা কবিতার কথা মনে পড়ছে, যেখানে একজন মানুষ পায়ে জুতা ছিল না বলে খুব কষ্টে থাকে। পরে এক সময় সে দেখে একজনের পা ই নেই। এটা দেখে সে শান্ত হয়। আরো খারাপ পরিস্থিতির সম্ভাবনা মানুষের বর্তমান খারাপ পরিস্থিতিতে স্বস্তি দেয়।

ভারতের কাছে মেরুদন্ড বিকিয়ে দেয়া চলতেই থাকবে ক্রমাগত, এটা দিনে দিনে বাড়বে। কিছুদিন আগে অমিত শাহ খালেদা জিয়াকে ফোন করেছে বলে বিএনপি’র বগল বাজানো দেখেছি আমরা। এই দেশে বর্তমানের এবং নিকট ভবিষ্যতের সব সরকার ভারতের কাছে নাকে খৎ দিয়েই চলবে। আর আমাদের ‘দেশপ্রেমিক’ মানুষদের ‘দেশপ্রেম’ জাগে শুধু ক্রিকেটেই। তাই সীমান্তে এসব চলবেই।

সারমর্ম লিখার সেই কবিতার মত করে আসুন একটা কাল্পনিক খারাপ অবস্থা দেখি। এটাও তো হতে পারতো ভারতে শক্তিমান বিএসএফ কর্তারা, সাথে কিছু রাজনৈতিক নেতা বাংলাদেশের সীমান্ত ডিঙিয়ে ঢুকছে অস্ত্রপাতি নিয়ে। তারা ঢুকেছে শিকারের উদ্দেশ্যে (ক্ষমতাশালীদের সাথে কি ‘শিকার’ এর চাইতে ‘মৃগয়া’ শব্দটা বেশী যায়?)। আর ঢুকে তার তাদের পছন্দমত শিকার করছে – শুধু চোরাকারবারিদেরকেই না, গুলি করছে ‘মানুষ’দেরকেও। দেশের অর্ধেক মানুষ যতোই খোলা আকাশের নীচে মলত্যাগ করুক না কেন, ভারত আক্ষরিক অর্থেই সুপার পাওয়ার এখন, পারমাণবিক বোমার অধিকারী, নিরাপত্তা পরিষদের হবু স্থায়ী সদস্য। তারা চাইলেই তো এমন করতে পারতো।

ভারতের ‘অশেষ দয়া’য় ওই পরিস্থিতি তো তৈরি হয়নি এখনো। আমাদের তো স্বস্তি পাওয়া উচিৎ। বছরে বেশ কিছু চোরাকারবারি আর অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর ওপর দিয়ে যায় ভারতের ‘মৃগয়া – বিলাস’। আমাদের মত ‘মানুষ’ রা তো নিরাপদই আছি। এই পার্সপেক্টিভে ভারতকে ধন্যবাদ দেয়াই যেতে পারে। ‘ধন্যবাদ’ ভারত।

Facebook: https://www.facebook.com/zahed.urrahman.77